• শুক্রবার, নভেম্বর ১৫, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৬ রাত

শিক্ষকের অপমানের জেরে ভারতে সপ্তম শ্রেণির ছাত্রীর আত্মহত্যা

  • প্রকাশিত ০৩:৫২ বিকেল ডিসেম্বর ৬, ২০১৮
suicide
ছবি- প্রতীকী

আত্মহত্যা করার আগে সে তার হাতের তালুতে আত্মহত্যার কারণ ও দোষী শিক্ষকের নাম লিখে যায়

কয়েক মাস ধরে শিক্ষকের ক্রমাগত অপমান ও তিরষ্কারের জের ধরে ভারতের দিল্লিতে ৭ম শ্রেণির এক ছাত্রী গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেছে। ভারতীয় পুলিশের বরাত দিয়ে এই খবর জানায় খালিজ টাইমস।

১২ বছর বয়সের ডেইজি রাঠোর গত ১ ডিসেম্বর আত্মহত্যা করার আগে তার হাতের তালুতে আত্মহত্যার কারণ ও দোষী শিক্ষকের নাম লিখে যায়। 

পুলিশের যুগ্ম কমিশনার মাধুপ তিওয়ারি জানান, “আমরা ময়না তদন্তের প্রতিবেদনের জন্য অপেক্ষা করছি এবং মৃত শিক্ষার্থীর বন্ধু ও সহপাঠিদের বক্তব্য নিচ্ছি। ঘটনায় দায়ী ব্যক্তির বিরুদ্ধে আমরা কঠোর ব্যবস্থা নেব।”

তিনি আরও বলেন, “হাতের তালুতে সে লেখে, সে আর স্কুলে যেতে চায় না। লেখায় তার মা ও দাদির কাছে সে ক্ষমা চায় এবং লেখে যে ভগবান কৃষ্ণের সঙ্গে সে দেখা করতে যাচ্ছে।”

ডেইজির মা কামাল রাঠোর তার কর্মস্থল থেকে বিকেল বেলা ফিরে এসে তার মেয়ের প্রাণ শূন্য দেহ দেখতে পায়। এই কিশোরী তার বিজ্ঞান শিক্ষকের হাতে ক্রমাগত অপমানের শিকার হচ্ছিল বলে আত্মহত্যার নোটে উল্লেখ করে। 


আরও পড়ুন- ভিকারুননিসা শিক্ষার্থীর আত্মহত্যা, অপদস্থ অধ্যক্ষ


তিনি বলেন, “আমার মেয়ে অভিযোগ করেছিল যে সেই শিক্ষক তাকে প্রতিদিন অপদস্থ করতো। শুক্রবার (আত্মহত্যার আগের দিন) সেই একই শিক্ষক জীববিজ্ঞান ল্যাবে ক্লাস টিচারের সামনে তাকে ১০ মিনিট ধরে অপদস্থ করে ও ভীষণ অপমান করে।”

“এরপর সে স্কুলের বাথরুমে কান্নাও করেছিল।”, জানান ডেইজির মা ।

তিনি আরও বলেন, “সে আমাকে বলেছিল স্কুল পরিবর্তন করতে কিন্তু আম জানতাম না ব্যাপারটা এতই গুরুতর ছিল। আমি ধারণা করতে পারিনি এটা কতটা মারাত্মক ছিল যে সে এই কারণে আত্মহত্যা করে।”

সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন তিনি, “ডিসেম্বরের ২০ তারিখে তার জন্মদিন। আমি তাকে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা ভাবছিলাম। কিন্তু এখন সে নেই। আমার উচিত ছিল তার স্কুল পরিবর্তন করা।”

আট বছর আগে স্বামী মারা যাওয়ার পর থেকে কামাল রাঠোর একাই ডেইজিকে বড় করছিলেন। 

আত্মহত্যাকারী এই ছাত্রী তার কিছু বন্ধুদের নামও লিখে যায় যাদের সঙ্গে তার কখনো আর দেখা হবে না। 

এই স্কুলের ব্যবস্থাপকরা এই ঘটনার তদন্তে একটি কমিটি গঠন করেছে এবং এর প্রতিবেদন তারা দিল্লি পুলিশের কাছে জমা দেবে।