• শুক্রবার, অক্টোবর ১৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:০৩ রাত

ভারতে বিয়ে করতে এসে ১০ বছর জেল খাটলো পাকিস্তানি

  • প্রকাশিত ০৪:৩৯ বিকেল ডিসেম্বর ২২, ২০১৮
ইমরান কুরেশি ওয়ার্সি
ভোপালের শাহজাহানাবাদ থানায় ইমরান কুরেশি ওয়ার্সি। ছবি: সৌজন্যে।

বৈধ ভিসা নিয়ে ভারতে প্রবেশ করার পরও ১০ বছর জেল খাটতে হয়েছে তাকে

ভালবাসার মানুষকে বিয়ে করতে এসে ভারতে ১০ বছর জেল খাটার পর অবশেষে মুক্তি পেতে চলেছেন করাচি অধিবাসী মুহম্মদ ইমরান কুরেশি ওয়ার্সি। আর ৪ দিন পর তিনি ফিরে যাবেন নিজের প্রিয় মাতৃভূমিতে। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে’র একটি খবরে এই তথ্য জানানো হয়েছে।   

২০০৩ সালে বৈধ ভিসা নিয়ে করাচি থেকে ভারতে পাড়ি জমিয়েছিলেন মুহম্মদ ইমরান কুরেশি ওয়ার্সি। বিয়েও করেছিলেন তার পছন্দের মানুষটিকে। তবে, বিয়ের চার বছর পর দুই সন্তানের বাবা ওয়ার্সিকে গুপ্তচর সন্দেহে গ্রেফতার করেন ভারতীয় গোয়েন্দারা।

২০০৮ সালে ভোপালের অতিরিক্ত সেসন জজের নির্দেশে ১০ বছর জেল হয় ওয়ার্সির। ৬ বছর আগে ভারতের পাকিস্তান হাইকমিশন তার নাগরিকত্ব সমর্থন করলেও মুক্তি পাননি ওয়ার্সি। চলতি বছরের ১৯ জানুয়ারি তার উপর চাপিয়ে দেওয়া সাজার মেয়াদ শেষ হয়। তবুও মুক্তি মেলেনি তার। গত মার্চে জেল থেকে ছেড়ে দিয়ে ওয়ার্সিকে তুলে দেওয়া হয়েছিল পুলিশি হেফাজতে। ওয়ার্সি তখন থেকে ছিলেন ভোপালের শাহজাহানাবাদ থানায়।

এরপর গত বৃহস্পতিবার (২০ ডিসেম্বর) অবশেষে তাকে মুক্তির নির্দেশ দেয় ভারতের আদালত। ওয়ার্সির মুক্তির নির্দেশ ভোপালের ওই থানায় পৌঁছানোর পর শনিবার মুক্তি পেয়েছেন তিনি।

অবশেষে নিজের দেশ পাকিস্তানে ফিরতে যাচ্ছেন মুহম্মদ ইমরান কুরেশি ওয়ার্সি। বড়দিনের পরের দিন ওয়াঘা-আট্টারির ভারত-পাক সীমান্ত দিয়ে করাচি ফিরে যাবেন তিনি।

ইংরেজি ম্যাগাজিনকে দেওয়া টেলিফোন সাক্ষাৎকারে সদ্য মুক্তি পাওয়া ওয়ার্সি বলেছেন, ‘‘আমি কাকার মেয়েকে ভালবেসে ফেলেছিলাম। তাই বৈধ ভিসা নিয়েই ভারতে এসেছিলাম বিয়ে করতে। ভিসার মেয়াদ ফুরনোর সময় আমার শ্বশুর বাড়ির লোকজন কর্তৃপক্ষকে বলেছিলেন, আমার পাসপোর্ট করিয়ে স্ত্রী ও পুত্র, কন্যা-সহ আমাদের পাকিস্তানে পাঠিয়ে দেবেন। পাসপোর্টের কাগজপত্রও তৈরি হয়ে গিয়েছিল। সেই সব নিতে ভোপালে আসতেই আমাকে গ্রেফতার করা হয়। দূর সম্পর্কের আত্মীয়রা পুলিশে খবর দেওয়ায়। সম্পত্তি নিয়ে আমাদের সঙ্গে বিরোধ রয়েছে ওই আত্মীয়দের। তারই জেরে ওই আত্মীয়রা পুলিশে খবর দিয়েছিলেন। অথচ আমাকে জেলে পোরা হয়েছিল পাক গুপ্তচরবৃত্তির দায়ে।’’

উল্লেখ্য, কয়েকদিন আগেই পাকিস্তানে ৬ বছর জেল খাটার পর ভারতে ফিরে এসেছেন ভারতীয় নাগরিক হামিদ নেহাল আনসারি। আনসারিকেও বৈধ ভিসা থাকা সত্ত্বেও জেল খাটতে হয়েছে।