• বুধবার, মার্চ ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৬ রাত

৫ বছরের তৃষ্ণার্ত শিশুকে রোদে পুড়িয়ে মারলো আইএস

  • প্রকাশিত ০৪:১১ বিকেল ডিসেম্বর ২৯, ২০১৮
আইএস
আইএস-এর হাতে বন্দি নারীরা। ছবি: সংগৃহীত

শেকলে বেঁধে ঝাঁঝালো রোদে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল দীর্ঘক্ষণ

গা পুড়ে যাওয়া জ্বরে অবসন্ন হয়ে পড়েছিল ৫ বছরের মেয়েটি। তৃষ্ণায় গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে গিয়েছিল তার। কাঁদতে কাঁদতে পানি চেয়েছিল। কিন্তু পানি দেওয়া তো দূরের কথা, অসুস্থ হয়ে পড়ার ‘অপরাধে’ শেকলে বেঁধে ঝাঁঝালো রোদে দাঁড় করিয়ে রাখা হয়েছিল দীর্ঘক্ষণ। ফলে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েছিল মেয়েটি।

জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট (আইএস)-এর মসুলের একটি শিবিরে এই ঘটনা ঘটেছিল ২০১৪ সালে। শিশুটির উপর নির্যাতন চালিয়েছিল ২৭ বছর বয়সী জার্মান নারী জঙ্গি জেনিফার ডব্লিউ, মসুলে আইএসের নারী শাখার সক্রিয় সদস্য। শিশুটিকে বাড়ির ‘দাসী’ হিসেবে কিনেছিল জেনিফারের স্বামী। মসুলসহ আইএসের অন্যান্য শিবিরগুলোতে শিশু ও নারীদের ওপর কী অমানুষিক নির্যাতনের আরও একটি জঘন্য দৃষ্টান্ত এই ঘটনা।

আনন্দবাজারের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৪ ডিসেম্বর জার্মানির মিউনিখ শহরের সন্ত্রাসবাদ দমন আদালতে যুদ্ধাপরাধ ও খুনের অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে জেনিফারের বিরুদ্ধে। অভিযোগে বলা হয়, ৫ বছর বয়সী মেয়েটি এতটাই অসুস্থ হয়ে পড়েছিল যে, বিছানায় প্রস্রাব করে ফেলেছিল। তবুও তাকে রেহাই দেওয়া হয়নি। জেনিফার তার স্বামীকে দিয়ে অসুস্থ মেয়েটির হাতে-পায়ে শেকল পরিয়ে কড়া রোদের মধ্যে নিয়ে গিয়েছিল মাঠে। মামলায় জেনিফারের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে বলে জানিয়েছে জার্মান পুলিশ।

মিউনিখের পুলিশ জানায়, ২০১৪ সালে জার্মানি ছেড়ে তুরস্ক ও সিরিয়ার হয়ে ইরাকে যায় জেনিফার। পরের মাসেই আইএসের সক্রিয় সদস্যপদ লাভ করে সে। জঙ্গি সংগঠনটির দখলে থাকা ফাল্লুজা ও মসুল শহরের পার্কগুলোর উপর নজরদারির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল তাকে।

আদালতে দায়ের করা অভিযোগে বলা হয়েছে, ‘‘নারীদের আচরণ আর পোশাক কেমন হবে, আইএসের সেই বেঁধে দেওয়া কোড মেনে চলা হচ্ছে কি না, সেদিকে নজর রাখার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল জেনিফারকে। পার্কগুলোতে টহল দেওয়ার সময় সঙ্গে কালাশনিকভ রাইফেল, পিস্তল সঙ্গে রাখত জেনিফার। পরনে থাকত বিস্ফোরক লাগানো জ্যাকেট।’’

শিশু নির্যাতনের ঘটনার কয়েক মাসের মধ্যেই পরিচয় সংক্রান্ত কাগজপত্রে তথ্য বদলের জন্য ২০১৫ সালে আঙ্কারায় গিয়েছিল জেনিফার। জার্মান দূতাবাস থেকে বেরিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গেই জেনিফারকে গ্রেফতার করে জার্মানির হাতে তুলে দেয় তুরস্কের পুলিশ। পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণের অভাবে তখন তার বিরুদ্ধে কোনও আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেনি জার্মান পুলিশ। পরে তাকে নিজের বাড়িতে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

মিউনিখের পুলিশ আরও জানায়, জেনিফার ওই সময় খুব ব্যস্ত হয়ে উঠেছিল আইএসের দখলে থাকা কোনও এলাকায় ফিরে যেতে। সেই চেষ্টায় এ বছরের জুনে সিরিয়ায় ঢোকার চেষ্টা করলে জার্মান পুলিশের হাতে ধরা পড়ে সে।