• বৃহস্পতিবার, জানুয়ারী ২৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৪২ রাত

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বয়সীর রেকর্ডটি ভুয়া!

  • প্রকাশিত ০৮:৪১ রাত জানুয়ারী ৪, ২০১৯
১২২
ছবি: সংগৃহীত

‘‘বিভিন্ন সাক্ষাৎকার খতিয়ে দেখলে দেখা যায়, এই বয়সে এত বলিষ্ঠভাবে চলাফেরা বা কথা বলা সম্ভব নয়৷ ’’

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বয়সে মারা যাওয়া জঁ কালমে-র রেকর্ডকে ভুয়া বলে দাবি করেছেন রাশিয়ার এক গবেষক৷ ১৯৯৭ সালে ১২২ বছর বয়সে মারা যান জঁ কালমে৷ ওই রুশ গবেষকের ভাষ্য, তার প্রকৃত বয়স ১২২ বছর ছিল না৷

এখন পর্যন্ত বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বয়সি মানুষের রেকর্ডটি জঁ কালমের৷ কিন্তু এটিকে অসত্য বলে দাবি করছেন  রাশিয়ান গণিতজ্ঞ নিকোলাই জাক৷ তিনি বলেন, জঁ কালমে নামে যে নারীকে আমরা জানি তিনি ১২২ বছরে মারা যাননি৷ তিনি যখন মারা যান তখন তার বয়স ছিল ৫৮, ১৯৩৪ সালে তিনি মারা যান৷

ডয়চে ভেলের প্রতিবেদনে বলা হয়, নিকোলাই তার দাবির সপক্ষে নিজস্ব কিছু পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন৷ তিনি বলেন, ‘‘জঁ কালমের ছবি, রেকর্ড ও জীবনযাপন বিষয়ক তথ্য গবেষণা করে এটিই পাওয়া গেছে৷ যে নারী নিজেকে জঁ কালমে বলে দাবি করছেন, তিনি আসলে তাঁর মেয়ে ইভন৷ ১৯৩৪ সালে মায়ের মৃত্যুর পর মায়ের ট্যাক্স ফাঁকি দেওয়ার উদ্দেশ্যে মায়ের পরিচয়ে নিজে চলা শুরু করেন৷ সুতরাং ১৯৯৭ সালে যখন তিনি ১২২ বছরে মৃত্যুর রেকর্ড করেছেন, সেটি আসলে হবে ৯৯ বছর৷’’ 

নিকোলাই জাক বেশ কিছু অসঙ্গতি তুলে ধরেন৷ তিনি বলেন, ‘‘বিভিন্ন সাক্ষাৎকার খতিয়ে দেখলে দেখা যায়, এই বয়সে এত বলিষ্ঠভাবে চলাফেরা বা কথা বলা সম্ভব নয়৷ তার বয়সীদের সঙ্গে তুলনা করলেও অসঙ্গতিগুলো চোখে পড়ে৷’’

নিকোলাই জাকের দাবি যদি সত্য হয় তবে বিশ্বের বেশি বয়সি ব্যক্তির রেকর্ডটি হবে মার্কিন নাগরিক সারাহ নাউসের৷ তিনি ১৯৯৯ সালে ১১৯ বছর বয়সে মারা যান৷

তবে ইভনের দাবি অসত্য বললেও তার শেষ বয়সের সুস্বাস্থ্যের বেশ প্রশংসা করেছেন নিকোলাই জাক৷ তিনি বলেন, এই বয়সে এত সুন্দর স্বাস্থ্য ধরে রাখা অবশ্যই অনুসরণীয়৷

অন্য গবেষকরা নিকোলাইয়ের এই দাবিকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন৷ নিকোলাইয়ের এই দাবি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অসম্মানজনক বলে জানিয়েছেন ফ্রান্সের জীনতত্ত্ববিদ জেন মেরি রবিন৷ জঁ কালমে'র বিশ্বরেকর্ড লিপিবদ্ধের সহায়তাকারী হিসেবে কাজ করেছিলেন মেরি৷ তিনি উল্লেখ করেন, শেষ বয়সে জঁ চকোলেট ও পোর্ট ওয়াইন পান করতেন৷ স্বাস্থ্য খারাপ হওয়ার আগে ধূমপানও করতেন৷ তিনি সবাইকে বলতেন সৃষ্টিকর্তা তার কথা ভুলে গেছেন৷