• রবিবার, ডিসেম্বর ১৫, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৭ রাত

মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রতিযোগী চীন!

  • প্রকাশিত ০৮:৫৩ রাত জানুয়ারী ৪, ২০১৯
চীনের স্পেস স্টেশনের মডেল
চীনের স্পেস স্টেশনের মডেল। ছবি: রয়টার্স

সম্প্রতি চাঁদের দূরতম অংশে সফলভাবে অবতরণ করেছে চীনের একটি স্পেসক্রাফট

মহাকাশে চীনের অভিযাত্রা খুব বেশীদিনের না হলেও খুব অল্প সময়ের মধ্যেই বিরাট সাফল্য অর্জন করতে পেরেছে। মাত্র ১৫ বছর আগে চীন প্রথমবারের মত মহাকাশের কক্ষপথে মনুষ্যবাহী মহাকাশযান প্রেরন করার মাধ্যমে মহাকাশযাত্রা শুরু হলেও সম্প্রতি চাঁদের দূরতম অংশে সফলভাবে অবতরণ করেছে চীনের একটি স্পেসক্রাফট।

বিবিসির একটি প্রতিবেদনে সম্প্রতি মহাকাশে চীনের এই সাফল্যের কথা তুলে ধরা হয়। তবে, শুধুমাত্র চাঁদের দূরতম অংশে অবতরণেই থেমে নেই তারা।

জানা গেছে আসন্ন দশকেই দশকে নতুন একটি মহাকাশ স্টেশন স্থাপন, মঙ্গল গ্রহে অভিযান এমনকি, চাঁদে একটি বেস ক্যাম্প স্থাপন করার পরিকল্পনাও রয়েছে দেশটির।

চীনের এই মহাকাশ তৎপরতার কারণ ব্যাখ্যা করতে যেয়ে যুক্তরাজ্যের রয়্যাল অ্যারোনোটিকেল সোসাইটির ফেলো অধ্যাপক কেইথ হেওয়ার্ড বলেন, “মূলত চীনের সেনাবাহিনীর ইচ্ছায় ক্ষমতা ও সামর্থ্য প্রকাশ এবং আগে পাওয়া যায়নি এমন অমূল্য বস্তু বা এনার্জি বা জ্বালানীর সন্ধানের উদ্দেশ্যেই গবেষণায় এতো অর্থব্যয় এবং গুরুত্বারোপ করেছে চীন”।

মহাকাশ অভিযান শেষে পৃথিবীতে সফলভাবে অবতরণের পর হাত নেড়ে শুভেচ্ছা জানাচ্ছেন চীনের প্রথম মহিলা নভোচারী লিউ ইয়াং। ছবি: এপি। 

তবে, মহাকাশ গবেষণায় চীনের এই অগ্রযাত্রা মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য এক নতুন প্রতিদ্বন্দ্বীর আগমন হিসাবে দেখছেন কিনা জানতে চাইলে অধ্যাপক হেওয়ার্ড জানান, “চীনের এই মহাকাশ গবেষণা কর্ম নিয়ে চাপ বোধ করছে না যুক্তরাষ্ট্র”।

এছাড়া মহাকাশ গবেষণা যুক্তরাষ্ট্রও প্রচুর সাফল্যের অধিকারী উল্লেখ করে তার মতে মহাকাশ গবেষণা প্রতিযোগিতামূলক কিছু নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। 

অন্যদিকে, ইউরোপিয়ান স্পেস এজেন্সির ইন্টারন্যাশনাল লুনার এক্সপ্লোরেশন ওয়ার্কিং গ্রুপের কার্যনির্বাহী পরিচালক বার্নাড ফোয়িং বলেন, “যে কোনো ধরণের অগ্রগতি বৃহদার্থে পৃথিবী বাসী সকলের জন্যই কল্যাণের। বার্নাড ফোয়িং আরো বলছিলেন, মহাকাশ গবেষণায় চীন অগ্রগতি দেখিয়েছে এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সাথে মিলে-মিশে কাজের আগ্রহ-ও প্রকাশ করেছে”। 

তবে, “সব দেশ চীনের সাথে মিলে-মিশে কাজ করতে পারলেও দ্বিপাক্ষিক ভাবে কারো সাথে নাসার কাজ করার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রে বিধিনিষেধ থাকায় যুক্তরাষ্ট্রের জন্য তা সহজ হবে না”, যোগ করেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রের জর্জ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটির স্পেস পলিসি ইন্সটিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা জন লগসনও মহাকাশে চীনকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মানতে নারাজ।

তিনি বলেন, “চীন আসলে কারো সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতার কারণে মহাকাশ গবেষণা করছে না। বরং নিজেদের নিজস্ব আকাঙ্ক্ষা থেকেই চীন এতো কিছু করছে”।