• শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৬ রাত

শীত থেকে বাঁচতে স্বেচ্ছায় কারাবরণ!

  • প্রকাশিত ০৮:৪২ রাত জানুয়ারী ৫, ২০১৯
শীত
প্রতীকী ছবি

শীতের রাতে খোলা রাস্তায় থাকতে কষ্ট হচ্ছে বাস্তুহীন মানুষের। এর চেয়ে অনেক ভাল জেলখানা!

ভারতের দিল্লি শহরের তিহাড় কারাগারে অপরাধীদের জায়গা দিতে গিয়ে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষকে। হঠাৎই ধারণক্ষমতার চেয়ে বেড়ে গিয়েছে সেখানকার বন্দির সংখ্যা!

সাম্প্রতিক এক হিসেবে দেখা গেছে- মোট ধারণক্ষমতা ১ হাজার ২৭ জন হলেও বর্তমানে সেখানে বন্দি আছেন প্রায় দুই হাজার বন্দি!

জেল সূত্রের বরাত দিয়ে আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, নতুন বন্দিদের মধ্যে এমন ৫০ জন রয়েছে, যারা বিচারাধীন অবস্থায় জামিন পেয়ে বাইরে ছিল। কিন্তু সম্প্রতি সেই তারাই আবার নতুন করে অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে পুলিশের নজরে এসে গ্রেফতার হয়। পরে আদালতের নির্দেশে তাদের জেলে পাঠানো হয়।

ভারতীয় পুলিশ বলছে, শীতের রাতে খোলা রাস্তায় থাকতে কষ্ট হচ্ছে বাস্তুহীন মানুষের। এর চেয়ে অনেক ভাল জেলখানা! কারণ সেখানে রয়েছে মাথার উপর ছাদ আর বিনামূল্যে খাবার, কম্বল, দুধ সবই দেওয়া বন্দিদের। এমনকি তিহাড় জেলে একটি হাসপাতালও রয়েছে। সেখানে বিনামূল্যে চিকিৎসাও দেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, কেউ স্বেচ্ছায় কাজ করতে চাইলে তিহাড় জেলের ৩৬টি ফ্যাক্টরি ইউনিটের মধ্যে কাজও পেয়ে যেতে পারে। ৭৫ বছরের বেশি বয়স্কদের জন্য হিটারের ব্যবস্থাও রয়েছে ওই কারাগারে। ঠাণ্ডার হাত থেকে বাঁচতে জেলের ভেতরটাকে অন্তত এই ঠাণ্ডার মৌসুমে নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিয়েছে অনেকেই। তাই অপরাধমূলক কাজে জড়িয়ে সেখানে যাচ্ছেন তারা।

প্রসঙ্গত, গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে এবারই সবচেয়ে বেশি ঠাণ্ডা পড়েছে দিল্লিতে। গত মাসে টানা দশ দিন ধরে রাতের তাপমাত্রা ছিল ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এমনকি এক দিন তাপমাত্রা ২.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াসেও নেমে গিয়েছিল।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কারাগারের এক কর্মকর্তা জানান, ‘‘কিছু বন্দির সঙ্গে আমরা কথা বলে দেখেছি যে, শীতকালটা জেলের ভেতরে থাকার জন্যই তারা অপরাধ করেছেন।’’ 

তিনি আরও বলেন, ‘‘ডিসেম্বর, জানুয়ারি, ফেব্রুয়ারি- শীতকালের এই তিন মাসে বন্দির সংখ্যা বাড়ে। এদের বেশির ভাগেরই মাথা গোঁজার ঠাঁই নেই। তাই জেলকেই ভরসা হিসেবে বেছে নেয়।’’

ওই অফিসার আরও বলেন, পাঁচ বছর আগে বন্দির সংখ্যা আরও বেশি ছিল। শেল্টার হোমের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া এবং ফুটপাতবাসীদের জন্য বিভিন্ন সরকারি কর্মসূচির কারণেই সেই সংখ্যা এখন কিছুটা কমেছে।