• শুক্রবার, অক্টোবর ১৮, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৩:৪৬ বিকেল

ভালোবাসা দিবসকে 'ভগিনী দিবস' বানালো পাকিস্তানি বিশ্ববিদ্যালয়

  • প্রকাশিত ০৫:৩৬ সন্ধ্যা জানুয়ারী ১৪, ২০১৯
করাচী-ভালোবাসা দিবস
২০১৮ সালে ভালোবাসা দিবসে করাচীর কয়েকজন নারী। ছবি: এএফপি।

এদিকে ভগিনী দিবস নিয়েও অনেকটা 'হিন্দুদের রাখীবন্ধনের' মত উল্লেখ করে আপত্তি জানিয়েছেন অনেকেই 

পাকিস্তানের একটি বিশ্ববিদ্যালয় সারা বিশ্বব্যাপী পালিত 'ভালোবাসা দিবসকে' পাশ্চাত্য প্রভাবিত উল্লেখ করে এর বিকল্প হিসেবে ১৪ ফেব্রুয়ারিকে 'ভগিনী দিবস' হিসেবে আখ্যা দিয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাদের ছাত্রীদের মাঝে ওড়না এবং শাল বিতরণ করার পরিকল্পনা করেছে।

পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের ফয়সালাবাদ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (ইউএএফ) তাদের এই অভিনব উদ্যোগ নিয়ে জানিয়েছে, যুব সমাজের মধ্যে প্রাচ্যের সংস্কৃতি এবং ইসলামিক ভাবধারা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই তাদের এই পদক্ষেপ।

বিশ্ববিদ্যালয়টির উপাচার্য জাফর ইকবার তাদের এই পদক্ষেপ প্রসঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে লিখেছেন, "আমাদের দেশীয় সংস্কৃতিতে নারীরা বোন, মা কিংবা একজনের মেয়ে হিসেবেই সবচেয়ে বেশি মর্যাদা এবং সম্মান পেয়ে থাকেন"।

"আমরা আমাদের নিজেদের সংস্কৃতি ভুলে যাওয়ার কারণে পশ্চিমা সংস্কৃতি আমাদের সংস্কৃতিকে গ্রাস করে ফেলছে", যোগ করেন তিনি।

ওয়েবসাইটে তার বিবৃতিতে ইউএএফের উপাচার্য আরো বলেন, "তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের মাঝে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের নামখচিত ওড়না এবং শাল বিতরণের কথা চিন্তা ভাবনা করছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ"। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের মুখপাত্র কামার বুখারি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়টিতে অধ্যয়নরত ১৪ হাজার ছাত্রীর মধ্যে অন্তত ১ হাজার ছাত্রীকে হিজাব এবং শাল উপহার দেওয়ার জন্য অনুদান খুঁজছেন তারা।  

নারীদের প্রতি সম্মানের স্মারক হিসেবে শুধুমাত্র তাদের ছাত্রীদের হাতে এই বিশেষ ওড়না তুলে দেওয়া হবে বলেও উল্লেখ করেন বুখারি।

এদিকে, ভগিনী দিবস পালন নিয়েও আপত্তি তুলেছেন অনেকে। তাদের দাবি, ভগিনী দিবস হিন্দু প্রভাবিত এবং অনেকটা হিন্দুদের রাখীবন্ধনের মত। তাই এই উৎসবও পালন করা সমীচীন নয় বলে তাদের দাবি।

উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভালোবাসা দিবস উদযাপন পাকিস্তানের যুব সম্প্রদায়ের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠলেও পাকিস্তানের সমাজ এখনো গভীরভাবে মুসলিম ভাবধারায় বিশ্বাসী। ২০১৬ সালে পাকিস্তানের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি মামনুন হুসাইন ভালবাসা দিবস নিয়ে দেশটির যুব সমাজের উদ্দেশ্যে বলেছিলেন, "পাকিস্তানের মত একটি মুসলিম প্রধান দেশে ভালোবাসা দিবসের মত কোন দিবস থাকতে পারেনা। যুব সমাজের এই দিবস পালন বাদ দিয়ে লেখাপড়ায় মনোযোগী হওয়া উচিত"। 

এর প্রেক্ষিতে ২০১৭ সালে দেশটির হাইকোর্ট জনসম্মুখে ভালোবাসা দিবস পালন এবং রেডিও টেলিভিশনে এই দিবসটি নিয়ে কোন অনুষ্ঠান প্রচারের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।