• রবিবার, মে ২৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৫৭ রাত

কাশ্মীর সঙ্কট গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ঢাকা

  • প্রকাশিত ০৯:০৬ রাত ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০১৯
ভারতীয় যুদ্ধবিমান
ভারতীয় যুদ্ধবিমানের মহড়া। ফাইল ছবি: রয়টার্স

ভারত এবং পাকিস্তান পরমাণু শক্তিধর দেশ হওয়ায় পুরো দক্ষিণ এশিয়ার জন্য কাশ্মীরকে ঘিরে উদ্ভুত এই পরিস্থিতি হুমকিস্বরূপ

গত ১৪ ফেব্রুয়ারি ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে সৃষ্ট উত্তেজনার বিষয়টি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে ঢাকা। এরইমধ্যে মঙ্গলবার সীমান্ত অতিক্রম করে কাশ্মীরের পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত অংশে বোমা হামলা চালায় ভারতীয় বিমান বাহিনী।

তবে বাংলাদেশ প্রত্যাশা করে, পরমাণু শক্তিধর দেশ দুটি অতিদ্রুত চলমান এই উত্তেজনা প্রশমনে ব্যবস্থা নেবে।

এদিকে, বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভারত এবং পাকিস্তান পরমাণু শক্তিধর দেশ হওয়ায় পুরো দক্ষিণ এশিয়ার জন্য কাশ্মীরকে ঘিরে উদ্ভুত এই পরিস্থিতি হুমকিস্বরূপ। 

এই সমস্যার সমাধানে নয়াদিল্লি এবং ইসলামাবাদের অতিদ্রুত আলোচনার টেবিলে বসা উচিত বলে তারা মনে করেন।

এ বিষয়ে মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “কাশ্মীরের বিষয়টি আমরা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছি। আমরা আশা করি, দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে শিগগিরই সেখানে সৃষ্ট উত্তেজনার অবসান হবে বলে।”

তিনি আরো বলেন, “যুদ্ধ কখনওই কোনও দেশের জন্য সুফল বয়ে আনতে পারে না।"

কাশ্মীরে বিদ্যমান পরিস্থিতি প্রসঙ্গে সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসাইন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, “এই অঞ্চলের বাসিন্দা হিসেবে বিষয়টি আমাদের জন্যও যথেষ্ট চিন্তার। দুটি দেশই পরমাণু শক্তিসম্পন্ন হওয়ায় বিষয়টি এই অঞ্চলের মানুষের জন্য আরও দুঃশ্চিন্তার।”

তবে, সবার আগে চলমান উত্তেজনা দূর করাই নয়াদিল্লি এবং ইসলামাবাদের প্রথম লক্ষ্য হওয়া উচিত বলে মনে করেন সাবেক এই কূটনৈতিক।

বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজ -এর প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল (অব) আ.ন.ম মুনিরুজ্জামান বলেন, “কাশ্মীরের পরিস্থিতি এখনও দেশ দু'টির মধ্যে বিরাজমান। স্থানীয়ভাবে এর সমাধান না করা গেলে বৃহৎ পরিসরে এর প্রভাব পড়বে।”

দক্ষিণ এশিয়া অধিভুক্ত হওয়ায় বাংলাদেশও এর প্রভাব পড়বে বলে মনে করেন তিনি।

তার মতে, কাশ্মীর নিয়ে দুটি দেশ "বিবাদে লিপ্ত" অথচ সেখানকার মানুষের কিছু বলার অধিকার নেই।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের অধ্যাপক ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “দক্ষিণ এশিয়ায় চলমান এই উত্তেজনা আমাদের জন্যও দুশ্চিন্তার। নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে আমাদের দেশের ওপরও এর প্রভাব পড়বে।”

বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে চলা এই সমস্যার সমাধানে মনোযোগী হওয়া উচিত বলে তিনি পরামর্শ দেন।