• সোমবার, মে ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৯:৩৬ রাত

আটক ভারতীয় পাইলটকে ফেরত পাঠানোর দাবি ফাতিমা ভুট্টোর

  • প্রকাশিত ০৪:০৬ বিকেল ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০১৯
ফাতিমা ভুট্টো
ফাতিমা ভুট্টো। ছবি: এএফপি

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোর নাতনি ফাতিমা লিখেছেন, ‘‘আমি ভারতীয় বিমানসেনাকে অবিলম্বে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি ইমরান খানের কাছে। আর এভাবেই শান্তি ও মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের প্রতিশ্রুতিকে মর্যাদা দেওয়া হোক।’’

পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে আটক ভারতীয় পাইলট অভিনন্দন বর্তমানকে সুস্থ শরীরে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টোর নাতনি ফাতিমা বেগম। দেশটির প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের উদ্দেশে তিনি বলেছেন, সুস্থ শরীরে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ওই ভারতীয় সেনাকে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। আর তার মাধ্যমে বার্তা দেওয়া হোক, শান্তি ও মানবতাকে মর্যাদা দিতে চায় পাকিস্তান।

মার্কিন দৈনিক ‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’-এ প্রকাশিত এক উপ-সম্পাদকীয়তে ৩৬ বছর বয়সী ফতিমা লিখেছেন, ‘‘আমি ও আমার মতো পাকিস্তানের তরুণ প্রজন্মের অনেকেই ওই ভারতীয় বিমানসেনাকে অবিলম্বে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছি ইমরান খানের সরকারের কাছে। সুস্থ শরীরে তাকে ফিরিয়ে দেওয়া হোক। আর এভাবেই শান্তি ও মানবাধিকার রক্ষার ক্ষেত্রে আমাদের প্রতিশ্রুতিকে মর্যাদা দেওয়া হোক।’’

প্রসঙ্গত, বুধবার পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর গুলিতে ভারতীয় বিমানবাহিনীর একটি ‘মিগ-২১’ বিমান ভেঙে পড়ার পর প্যারাস্যুটে করে অবতরণের চেষ্টা করেন পাইলট উইং কমান্ডার অভিনন্দন বর্তমান। কিন্তু তার প্যারাসুট গিয়ে নামে দুই দেশের সীমান্তরেখায়। 

নিউইয়র্ক টাইমসে প্রকাশিত উত্তর সম্পাদকীয়তে পাকিস্তানের আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেনজির ভুট্টোর ভাইজি ফাতিমা লিখেছেন, ‘‘যুদ্ধে পাকিস্তানের প্রজন্মের পর প্রজন্ম নষ্ট হয়েছে। আমি আর কোনও পাকিস্তানি সেনাকে মরতে দেখতে চাই না। কোনও ভারতীয় সেনাকেও মরতে দেখতে চাই না। দেখতে চাই না, এই ভাবে হানাহানি, রক্তারক্তির মাধ্যমে এই অঞ্চলটা অনাথের উপমহাদেশ হয়ে যাক।’’

ফাতিমা লিখেছেন, ‘‘আমাদের প্রজন্মের পাকিস্তানি নাগরিকরা বাকস্বাধীনতার অধিকারের জন্য লড়াই করছি। তাই শান্তির জন্য কথা বলতে আমরা কাউকে ভয় পাই না। কারণ, শান্তির চেয়ে বড় কিছু হতে পারে না।’’

তার লেখার প্রতিটি অংশে যুদ্ধ, রক্তপাত, হানাহানির বিরুদ্ধে বিদ্বেষ আর ঘৃণার কথা উল্লেখিত হয়েছে।

ফতিমা লিখেছেন, ‘‘পাকিস্তানের রয়েছে সামরিক একনায়কতন্ত্রের সুদীর্ঘ ইতিহাস। সন্ত্রাসবাদকে সঙ্গে নিয়ে চলার অভিজ্ঞতাও আমাদের অনেক দিনের। যা পুরো দেশের ভবিষ্যতকে ঠেলে দিয়েছে গভীর অনিশ্চয়তার দিকে। এই সব দেখে আমার প্রজন্মের পাকিস্তানি নাগরিকরা বীতশ্রদ্ধ। তারা আর যুদ্ধ চান না। জিঘাংসা, প্রতিহিংসা চান না। প্রতিশোধ, হানাহানি, রক্তপাত চান না। নাগরিকদের একটা বড় অংশই চান না, পাকিস্তান আবার যুদ্ধ শুরু করুক।’’

উল্লেখ্য, ইসলামাবাদের সেনা ও সন্ত্রাসবাদ তোষণের বিরুদ্ধে কোনও পাকিস্তানি নারীর এই প্রতিবাদ এই প্রথম। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পাকিস্তানের তরুণ প্রজন্মের ভাবনাচিন্তাকে ভাষা দিয়েছে ফাতিমার লেখনী।