• শুক্রবার, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:৪৯ সকাল

ক্রাইস্টচার্চে মসজিদে হামলায় মুসলিম বিশ্বের নিন্দা

  • প্রকাশিত ০৬:১৭ সন্ধ্যা মার্চ ১৫, ২০১৯
বন্দুক হামলা
ক্রাইস্টচার্চের আল নূর মসজিদে বন্দুক হামলার পর রাস্তায় রক্তাক্ত ব্যান্ডেজ পড়ে আছে। ছবি: রয়টার্স।

হামলার এই ঘটনায় এক অস্ট্রেলীয় নাগরিকসহ চার সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে

শুক্রবার নিউজিল্যান্ডের ২টি মসজিদে সন্ত্রাসী হামলায় ৪৯ জনের মৃত্যুর ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সমগ্র বিশ্বের মুসলিম রাষ্ট্রনেতা এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি খবরে বলা হয়, সমগ্র বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান মুসলিমবিদ্বেষী মনোভাবই এই হামলার কারণ বলে মত প্রকাশ করেছেন মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর নেতৃবৃন্দ।

উল্লেখ্য, নিউজিল্যান্ডের স্থানীয় সময় শুক্রবার দুপুরে দেশটির ক্রাইস্টচার্চের ২টি মসজিদে হামলা চালায় বন্দুকধারী একদল সন্ত্রাসী। শহরের হাগলি পার্কমুখী সড়ক দীন এভিনিউতে আল নুর মসজিদ এবং লিনউডের আরেকটি মসজিদে এই হামলা চালানো হয়। ২ মসজিদে হামলার এই ঘটনায় এখনও পরযযন্ত মোট ৪৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ জন। 

নৃশংস এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, "৯/১১ পরবর্তী সময়ে ক্রমবর্ধমান ইসলামবিদ্বেষকে আমি এজন্য দায়ী করছি। ওই ঘটনার পর থেকেই ১৩০ কোটি মুসলিমকে যে কোনও সন্ত্রাসের জন্য দায়ী করা হয়"।

তুরস্কের তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোয়ান এই হামলার তীব্র নিন্দা করেছেন। তিনি এধরণের ঘটনা এড়াতে ইসলামবিদ্বেষের বিরুদ্ধে পশ্চিমা দেশগুলোকে পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।

তুর্কি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুত চাভুসোগলু এই হামলা প্রসঙ্গে বলেন, "মুসলিমদের রাজনৈতিক সংগ্রামকে অপদস্ত করতে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে"।

এদিকে, মিসরের আল-আজহার ইউনিভার্সিটির পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, এই হামলা আল্লাহর ঘরের পবিত্রতা লঙ্ঘন করেছে। এই হামলা ঘৃণামূলক ও ইসলামবিদ্বেষের বেড়ে যাওয়ার বিপজ্জনক ইঙ্গিত। 

সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আনওয়ার গার্গাশ এই হামলার ঘটনার প্রেক্ষিতে ঘৃণা, সন্ত্রাস এবং সহিংসতার বিরুদ্ধে সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

এছাড়াও দেশটিতে নিযুক্ত ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, হামলার সময় মসজিদে ইন্দোনেশিয়ার ছয়জন নাগরিক ছিলেন। তিন জন পালিয়ে বাঁচতে পেরেছেন কিন্তু তিনজনের কোনও খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না। এই শহরে ১৩৪ জন শিক্ষার্থীসহ ৩৩১ জন ইন্দোনেশীয় বাস করেন।

অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও ফিজিতে নিযুক্ত আফগানিস্তানের রাষ্ট্রদূত জানিয়েছেন, দেশটির তিন নাগরিক হামলায় আহত হয়েছেন। মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মসজিদে হামলায় দেশটির দুইজন নাগরিক নিহত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, হামলার শিকার ক্রাইস্টচার্চের আল নুরু মসজিদের খুব কাছাকাছি ছিলেন বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের সদস্যরা। অল্পের জন্য তারা প্রাণে রক্ষা পান।

এপ্রসঙ্গে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম জানিয়েছেন, বাংলাদেশের ক্রিকেট দল চরম সৌভাগ্যবান ছিল। শুক্রবার গুলির সময় ক্রিকেটাররা মসজিদে নামাজ পড়তে ঢুকছিলেন।

এদিকে, নিউজিল্যান্ডে মসজিদে গুলিবর্ষণের ঘটনায় গভীর শোক ও নিন্দা জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জাসিন্ডা আরডার্নের কাছে পাঠানো এক শোকবার্তায়  শেখ হাসিনা শোক ও নিন্দা প্রকাশ করেন। 

প্রসঙ্গতঃ বিদেশি শিক্ষার্থী ছাড়াও ক্রাইস্টচার্চে উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক মুসলিম বাস করেন। মসজিদে হামলার এই ঘটনায় চার সন্দেহভাজনকে আটক করা হয়েছে। এদের মধ্যে এক অস্ট্রেলীয় নাগরিক রয়েছেন।