• বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ১৯, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:০০ রাত

ব্রিটিশ 'হালাল' ডেটিং অ্যাপ মুজম্যাচ এখন বাংলাদেশে

  • প্রকাশিত ০৭:৫৩ রাত মার্চ ২৬, ২০১৯
মুজম্যাচ যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক ভিন্নধর্মী ডেটিং অ্যাপ
মুজম্যাচ যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক ভিন্নধর্মী ডেটিং অ্যাপ। ছবি: রয়টার্স

"মুসলিম সম্প্রদায়ে আমরা (স্ত্রী বা স্বামী খুঁজতে) ঘটকদের ওপর নির্ভর করতাম। এরা মূলত আমাদের 'আন্টি', যারা সবাইকে চেনেন এবং এক বাড়ির ছেলের সঙ্গে আরেক বাড়ির মেয়ের বিয়ে ঠিক করেন। আমার আইডিয়া ছিলো একটি ডিজিটাল ম্যাচমেকার অ্যাপের- সেই সব মুসলমানদের জন্য, যারা বিয়ে করতে পাত্র-পাত্রী খুঁজছে।"

যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক ভিন্নধর্মী ডেটিং অ্যাপ মুজম্যাচ। যুক্তরাজ্য সহ আরও ৯০টি দেশে তাদের ১০ লক্ষেরও বেশি ব্যবহারকারী রয়েছে।এবার মুজম্যাচ-এর দ্বিতীয় অফিসটি খুলতে যাচ্ছে বাংলাদেশে। 

ইন্টারনেট জুড়ে এতোসব ডেটিং অ্যাপ থাকার পরেও মুজম্যাচ-কে কেন ভিন্নধর্মী বলা হচ্ছে? 

২০১৩ সালের কথা। শাহজাদ তখন লন্ডনের একটি ব্যাংকে কাজ করতেন। কাজটিকে তিনি ভালোও বাসতেন। কিন্তু একই সাথে এটাও বুঝতে পারছিলেন যেসব মুসলমান নিজেদের ধর্মীয় গোষ্ঠীর ভেতর থেকেই সঙ্গী খুঁজছেন, তাদের জন্য ভালো কোন ডেটিং অ্যাপ বাজারে নেই।

"সে সময়ে মুসলমানদের জন্য হয় খুব সাধারণ ধরণের ওয়েবসাইট ছিলো, অথবা ছিলো বড় বড় ডেটিং অ্যাপ যেগুলো ঠিক আমাদের মুসলিম সংস্কৃতির সঙ্গে খাপ খাওয়ার মতো ছিলো না," বলছিলেন ম্যানচেস্টার শহরে জন্ম ও বেড়ে ওঠা, মুজম্যাচের প্রতিষ্ঠাতা শাহজাদ।

কাকতালীয়ভাবে ২০১৩ সালেই চাকুরী হারান শাহজাদ। আর তখনই তিনি ঠিক করলেন, এবার এই অ্যাপ নিয়ে মাঠে নামবেন।

"মুসলিম সম্প্রদায়ে আমরা (স্ত্রী বা স্বামী খুঁজতে) ঘটকদের ওপর নির্ভর করতাম। এখনো অনেকে তাই করেন। এরা মূলত আমাদের 'আন্টি', যারা সবাইকে চেনেন এবং এক বাড়ির ছেলের সঙ্গে আরেক বাড়ির মেয়ের বিয়ে ঠিক করেন"।

তার আইডিয়া ছিলো একটি ডিজিটাল ম্যাচমেকার অ্যাপের- সেই সব মুসলমানদের জন্য, যারা বিয়ে করতে পাত্র-পাত্রী খুঁজছে।

"আমি প্রতিদিন সকাল ৬টায় ঘুম থেকে উঠতাম আর ঘুমাতে যেতাম রাত ২টায়," বলছিলেন তিনি। "আমি বাড়িতে শোবার ঘরে বসেই কাজ করতাম। কীভাবে অ্যাপ বানাতে হয়, তা আমি একেবারে শূণ্য থেকে শিখেছি"।

দু'বছর আগের ঘটনা। ব্রিটিশ এই উদ্যোক্তার বয়স তখন ৩২ বছর। 

২০১৭ সাল। শাহজাদ এবং তার ব্যবসার অংশীদার রায়ান ব্রডি স্যান ফ্রান্সিকোতে একদল সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীর সামনে 'মুজম্যাচ' নিয়ে বলেন। এটি ছিল একটি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার অংশ।

কথা ছিল, সিলিকন ভ্যালির বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান 'ওয়াই কমবিনেটর' জয়ীকে পৃষ্ঠপোষকতা দেবে। আর এটাই ছিলো প্রতিযোগিতার পুরস্কার। মার্কিন এই কোম্পানিটি বেশ কয়েকটি স্টার্ট-আপকে প্রতিবছর আর্থিক ও প্রয়োগিক সহায়তা দিয়ে থাকে।

মুজম্যাচ যে বছর আবেদন করে, তখন মোট আবেদনের সংখ্যা ছিলো ১৩,০০০। আর মুজম্যাচ সহ ৮০০ স্টার্ট-আপের প্রতিষ্ঠাতাদের আমন্ত্রণ জানানো হয় তাদের উদ্যোগ নিয়ে কথা বলতে।

এরপর মুজম্যাচকে দেয়া হলো ১৫ লক্ষ ডলার - ২০১৭ সালে যে ১০০ স্টার্ট-আপ সহায়তা পেয়েছিল, তারা ছিল তাদের মধ্যে অন্যতম।

শুরুর দিকের কথা

শাহজাদ ২০১৪ সালে খুব অনাড়ম্বরভাবে অ্যাপটি শুরু করেন। বড় বড় ডেটিং অ্যাপগুলো থেকে তার বিপণন কৌশল ছিলো কিছুটা আলাদা।

"আমি শুক্রবার নামাজের পর মসজিদে যেতাম, আর সবাইকে অ্যাপটির কার্ড দিতাম। এরপর যেকোন মুসলিম পারিবারিক অনুষ্ঠানে গিয়ে গাড়ির কাঁচে কার্ড আটকে দিতাম", জানান শাহজাদ। 

শাহজাদ বলেন, "আমার জন্য এটা বেশ যন্ত্রণাদায়কও ছিলো। আমার মনে আছে শুরুতে মাস দু'য়েক আমি প্রায়ই গুগল অ্যানালাইটিকস দেখতাম। দেখতাম এটা জানতে যে একটি নির্দিষ্ট সময়ে ঠিক কতজন মানুষ অ্যাপটি ব্যবহার করছে,"

এভাবেই একদিন গুগল অ্যানালাইটিকসে দেখলেন মাত্র ১০ জন মুজম্যাচ ব্যবহার করছেন।

তবে সময়ের সাথে সাথে পরিস্থিতি বদলেছে। একসময় তিনি দেখলেন, হাজার হাজার মানুষ এটি ব্যবহার করেছে, মানুষের মুখে মুখে এই অ্যাপের কথা ছড়িয়ে পড়ছে। লোকজন একটা সময় শাহজাদকে বলাও শুরু করলো কীভাবে তার অ্যাপের সাহায্যে তারা তাদের ভবিষ্যত স্ত্রী বা স্বামীকে খুঁজে পেয়েছে ।

শাহজাদ বলেন, "আমাদের কারণে হাজার হাজার বিয়ে এবং বাচ্চা হয়েছে। তাদের কথা ভাবলেই মনে হয় আমাদের শুরুর কষ্ট সার্থক হয়েছে"।

তিনি আরও বলেন, "অ্যাপটির সম্ভাব্য ব্যবহারকারী হলো ৪০ কোটি মুসলমান। এর জনপ্রিয়তা বেড়েই চলছে"।

আর তাই এবার তারা মুজম্যাচ-এর শাখা খুলতে যাচ্ছে পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশ বাংলাদেশে। 

কিভাবে কাজ করে মুজম্যাচ? 

তাদের বিজনেস মডেলটিকে বলা হচ্ছে "ফ্রিমিয়াম"- অর্থাৎ বেসিক সার্ভিসটি পাওয়া যাবে বিনামূল্যে, কিন্তু এরচেয়ে বেশি চাইলে মাসে ১০ পাউন্ড করে দিতে হবে। অতিরিক্ত সার্ভিসের মধ্যে রয়েছে যত খুশী সংখ্যক প্রোফাইল দেখা এবং আপনার নিজের প্রোফাইল আরও বেশি সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছানো।

ব্যবসায়ের অংশীদার রায়ান যোগ দিয়েছিলেন ২০১৬ সালে। বয়স মাত্র ২৫ হলেও অ্যাপ বানাতে তিনি ছিলেন বেশ পটু।

দু'জনে মিলে 'মুজম্যাচ'কে নতুন করে সাজালেন। যোগ করলেন আরও ২২টি প্রোফাইল প্রশ্ন - যেমন একজন ব্যবহারকারী কতটা ধার্মিক, অথবা দিনে কয়বার নামাজ পড়েন। এসব প্রশ্ন ব্যবহারকারীদের কাছে ছিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

মুজম্যাচ এমন সুযোগও আছে যে ব্যবহারকারীরা চাইলে প্রোফাইল ছবি নাও দিতে পারতেন, অথবা খানিকটা অস্পষ্ট করে দিতে পারতেন।

"যদি ধর্ম এবং ডেটিং ঠিক ঠিক ভাবে মিলে যায় ... তাহলে তা হওয়া উচিত পবিত্রভাবে", বলেন শাহজাদ।

মুজম্যাচ তাদের দ্বিতীয় অফিসটি খুলেছে বাংলাদেশে।

অ্যাপে যে চ্যাট হয়, তা তাদের সম্মতিতে বাবা-মায়ের যেকোন একজন কিংবা একজন অভিবাবকের কাছে পাঠানোর অপশনও এতে আচ্ছে।