• মঙ্গলবার, মে ২১, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৮ রাত

তুরস্ককে সর্বাধুনিক যুদ্ধবিমান এফ-৩৫ দেবে না যুক্তরাষ্ট্র

  • প্রকাশিত ০১:৫৪ দুপুর এপ্রিল ২, ২০১৯
এফ-৩৫
মার্কিন যুদ্ধবিমান এফ-৩৫। ছবি : এএফপি

তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ১০০টি এফ-৩৫ যুদ্ধ বিমান কেনার পরিকল্পনা করেছিল।

তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধ বিমান কর্মসূচির সব সরবরাহ ও দেশটির সঙ্গে এ সংক্রান্ত সব ধরনের যৌথ কার্যক্রম বাতিল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। রাশিয়া থেকে তুরস্ক বিপুল অংকের সর্বাধুনিক অস্ত্র কেনার সিদ্ধান্তে অটল থাকায় যুক্তরাষ্ট্র সোমবার তার এ সিদ্ধান্তের কথা জানায়।

কয়েক মাস ধরে সতর্ক করার পর যুক্তরাষ্ট্র জানায়, রাশিয়ার কাছ থেকে তুরস্কের এস-৪০০ আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার সিদ্ধান্তটি যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিমান কর্মসূচি নীতির অবশিষ্টাংশের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।

পেন্টাগণের প্রধান মুখপাত্র চার্লস ই. সামার্স জুনিয়র বলেন, ‘ তুরস্ক এস-৪০০ কেনার সিদ্ধান্ত থেকে সরে না দাঁড়ালে যুক্তরাষ্ট্র এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান সরবরাহ ও দেশটির সঙ্গে এ সংক্রান্ত কার্যক্রম বন্ধ রাখবে।’

বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়, তুরস্ক দুপক্ষের কাছ থেকে অস্ত্র কেনায় রাশিয়া এফ-৩৫ বিমানের ডাটা সংগ্রহ করে পশ্চিমা বিমানটির বিরুদ্ধে তাদের এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্রের নিশানা আরও নির্ভূল করে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।

তুরস্ক যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে ১০০টি এফ-৩৫ যুদ্ধ বিমান কেনার পরিকল্পনা করেছিল। এর অংশ হিসেবে দেশটির পাইলটরা ইতোমধ্যে বিমানটি চালানোর প্রশিক্ষণ নিয়েছে।

বিমানটির নির্মাণকারী প্রতিষ্ঠান লকহিড মার্টিন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এফ-৩৫ বিমানের বিভিন্ন অংশ নির্মাণের জন্য তুরস্কের কোম্পানির সঙ্গে যে চুক্তি হয়েছে তার মূল্য ১ হাজার ২০০ কোটি মার্কিন ডলার হতে পারে।

লকহিড মার্টিন জানায়, এই ক্রয়ের সঙ্গে সংযুক্ত তুরস্কের আটটি কোম্পানির মধ্যে আয়েসাস এফ-৩৫-এর জন্য ককপিট তৈরি করছে এবং ফোকার এলমো বৈদ্যুতিক তারের ৪০ শতাংশ ও আন্তসংযোগ ব্যবস্থা তৈরি করে ফেলেছে।

ন্যাটোর কোনো সদস্যের রাশিয়ার কাছ থেকে যুদ্ধাস্ত্র কেনার ঘটনা নেই বললেই চলে। সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নকে মোকাবিলা করার জন্যই পশ্চিমাদের এই জোটের সৃষ্টি হয়।

গত সপ্তাহে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ তুরস্ক সফর করেন। সেখানে তিনি দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী মেভলুভ কাভুসোগলুর সঙ্গে এস-৪০০ কেনার বিষয়ে আলোচনা করেন।

কাভুসোগলু সাংবাদিকদের বলেন, ‘রাশিয়ার সঙ্গে এ বিষয়ে আমাদের চুক্তি হয়েছে। তাদের কাছ থেকে এটা কিনতে আমরা বাধ্য।’