• সোমবার, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৬:০৫ সন্ধ্যা

যে রাস্তায় মুসলিম হত্যা, সে রাস্তাতেই ইফতারে সব ধর্মের মানুষ

  • প্রকাশিত ০১:০৯ দুপুর মে ২৭, ২০১৯
ইফতার
লন্ডনের ফিন্সবারি পার্ক মসজিদের রাস্তায় ইফতার করেছেন বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ। ছবি: ভিডিও থেকে

জেরেমি করবিন বলেন, সমাজে সকল সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু মানুষ আমাদের সমাজকে এবং পৃথিবীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে চায়। দুই বছর আগে এখানেই একজন সাম্প্রদায়িক তার গাড়ি নামাজফেরত মকরম আলীর ওপর তুলে দিয়ে তাকে হত্যা করেছিল।

যুক্তরাজ্যের লন্ডনের ফিন্সবারি পার্ক মসজিদের রাস্তায় ইফতার করেছেন ইহুদি, খ্রিস্টান, মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্মাবলাম্বীরা। দুই বছর আগে এই রাস্তাটিতেই সন্ত্রাসী হামলা চালিয়ে তারাবিহ নামজফেরত একজন মুসলিমকে হত্যা করেছিলেন এক শেতাঙ্গ আধিপত্যবাদী। 

স্থানীয় সময়, ২২ মে, বুধবার ফিন্সবারি পার্ক মসজিদের রাস্তায় ওই ইফতার মাহফিলের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ধর্মীয় নেতা ও স্থানীয় ব্যক্তিবর্গের সঙ্গে যোগ দেন ব্রিটিশ লেবার পার্টির নেতা জেরেমি করবিন। 

সাম্প্রদায়িক সম্প্রতির চমৎকার ওই আয়োজন এবং সেখানে যোগদানের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান করবিন। জেরেমি করবিন বলেন, সমাজের সকল সম্প্রদায়কে ঐক্যবদ্ধ হওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে কিছু মানুষ আমাদের সমাজকে এবং পৃথিবীর মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করতে চায়। দুই বছর আগে এখানেই একজন সাম্প্রদায়িক তার গাড়ি নামাজফেরত মকরম আলীর ওপর তুলে দিয়ে তাকে হত্যা করেছিল।

তিনি বলেন, গির্জা, সিনাগন, মসজিদের সকল সম্প্রদায়ের মানুষ আজ এখানে এসেছে। যারা ঘৃণা ছড়াতে চায়, বিভেদ সৃষ্টি করতে চায়, তাদেরকে আমরা এ বার্তা দিতে চাই যে তাদের চেয়ে আমরা অনেক বেশি শক্তিশালী। 


ভবিষ্যতের পৃথিবী আরো নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ হবে এই আশাবাদ ব্যক্ত করে করবিন বলেন, আজকের এই দারুণ আয়োজন থেকে আমাদের সন্তানেরা সম্প্রীতির বার্তা পাবে, তারা লাভবান হবে। 

এ সময় সবাইকে রমজানের শুভেচ্ছা জানান জেরেমি করবিন। 

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের স্থানীয় সময় ১৮ জুন যুক্তরাজ্যের লন্ডনের ফিন্সবারি পার্ক মসজিদের সামনে তারাবিফেরত মুসল্লিদের ওপর পিকআপ ভ্যান নিয়ে সন্ত্রাসী হামলা চালান একজন শেতাঙ্গ। হামলার সময় তিনি, ‘আমি সব মুসলিমকে হত্যা করতে চাই… আমি সব মুসলিমকে খুন করতে চাই’ বলে চিৎকার করছিলেন। ঘটনায় মকরম আলী নামের এক প্রবাসী বাংলাদেশি নিহত হন, আহত হন অন্তত আরো ১০ জন। এরপর থেকেই ফিন্সবারি এলাকায় বসবাসরত সব ধর্মের মানুষের মধ্যে সাম্প্রদায়িকতার আতঙ্ক সৃষ্টি হয়।