• বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৭ রাত

উদ্বোধনের রাতেই বন্ধ সৌদির ‘হালাল নাইটক্লাব’

  • প্রকাশিত ০৩:১৬ বিকেল জুন ১৭, ২০১৯
নাইট ক্লাব
নাইট ক্লাবের একটি দৃশ্য। ছবি : এএফপি

কিন্তু তীব্র আলোচনা-সমালোচনার মুখে সৌদি কর্তৃপক্ষ ওই নাইটক্লাবের অনুমোদন বাতিল করে। কর্তৃপক্ষের দাবি, এ ধরণের নাইটক্লাব সৌদির ধর্মীয় অনুশাসন ও আইনবর্হিভূত।

ধর্মীয় কট্টরপন্থী দেশ সৌদি আরবের জেদ্দায় চালু হতে যাওয়া ‘হালাল নাইটক্লাব’ উদ্বোধনের রাতেই বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

অ্যারাবিয়ান বিজনেসের খববে বলা হয়, স্থানীয় সময় গত ১৩ জুন, বৃহস্পতিবার রাতে ওই নাইটক্লাবটি উদ্বোধনের কথা ছিল। কিন্তু তীব্র আলোচনা-সমালোচনার মুখে সৌদি কর্তৃপক্ষ ওই নাইটক্লাবের অনুমোদন বাতিল করে। কর্তৃপক্ষের দাবি, এ ধরণের নাইটক্লাব সৌদির ধর্মীয় অনুশাসন ও আইনবর্হিভূত।

এদিকে নাইটক্লাবটির উদ্বোধন করতে জেদ্দার পথে ছিলেন মার্কিন শিল্পী, গীতিকার নে ইয়ো। পথিমধ্যেই তিনি সৌদি কর্তৃপক্ষ নাইটক্লাবটি অনুমতি বাতিল করার খবরটি জানতে পারেন। এ বিষয়ে ইন্সটাগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে ভক্তদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন নে ইয়ো।

তিনি বলেন, জেদ্দার মানুষের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি, আমি পথেই ছিলাম। এরইমধ্যে জানতে পারলাম কর্তৃপক্ষ নাইটক্লাবটি বন্ধ করে দিয়েছে। আমি আশা করছি অন্যকোনো সময়ে আমাদের দেখা হবে। জেদ্দার হোয়াইটদের প্রতি আমার ভালোবাসা রইল।

নাইটক্লাবটির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে নে ইয়োর পারফরমেন্সে উপভোগ করতে টিকিটের দামেও বেশ ছাড় দেওয়া হয়েছিল। শ্রেণিভেদে টিকিটের দাম ছিল ৫০০ থেকে ১০০০ সৌদি রিয়াল। ১৮ বছরের বেশি বয়সীদের জন্য অনুষ্ঠানটি উন্মুক্ত ছিল।

এদিকে নাইটক্লাবটির অনুমতি বাতিলের পর সৌদি কর্তৃপক্ষ এক টুইটে জানায়, নাইটক্লাব খোলার জন্য কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। এটি সৌদির ধর্মীয় অনুশাসন ও আইনের লঙ্ঘন। ভিন্ন একটি বিষয়ে লাইসেন্স দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কিন্তু ক্লাব কর্তৃপক্ষ এটির বাড়তি সুবিধা নিতে চেয়েছিল।

প্রসঙ্গত, স্থানীয় সময় গত ১২ জুন, বুধবার সৌদি রাজপরিবারের পক্ষ থেকে জেদ্দায় হালাল নাইটক্লাব চালুর ঘোষণা দেওয়া হয়। ওই ঘোষণায় বলা হয়েছিল, নাইট ক্লাবটিতে কোনো মদজাতীয় পানীয় পাওয়া যাবে না। থাকবে শুধুই হালাল খাবার।

মূলত দুবাই ও বৈরুতের বিখ্যাত ব্র্যান্ড নাইটক্লাব হোয়াইটের অধীনে জেদ্দায় এ নাইটক্লাবটি চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। জেদ্দার হালাল এই নাইটক্লাবে বিলাসবহুল ক্যাফে, লাউঞ্জ, ওয়াটারফ্রন্ট ছাড়াও বিশ্বের খ্যাতনামা মিউজিক গ্রুপের পরিবেশনা, লাউঞ্জের ফ্লোরে নারী-পুরুষ সবার জন্য উন্মুক্ত নাচের স্থান ইত্যাদি রাখার ঘোষণাও দেওয়া হয়।

এ ঘোষণার পরই হালাল নাইটক্লাবের বিষয়টি নিয়ে সৌদির সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে বিতর্কের সৃষ্টি হয়।

যদিও নাইটক্লাব হোয়াইটের সিইও টনি হাব্রি গত এপ্রিলে অ্যারাবিয়ান বিজনেসকে বলেছিলেন, সৌদিতে যে 'হালাল নাইটক্লাব' খোলা হবে তা আসলে এক 'উচ্চ সুবিধাসম্পন্ন ক্যাফে'।