• মঙ্গলবার, নভেম্বর ১৯, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৩:০২ বিকেল

আদালতে মারা গেলেন মিশরের ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট মুরসি

  • প্রকাশিত ০৯:৪৪ সকাল জুন ১৮, ২০১৯
মুরসি
মুরসির মুক্তির দাবিতে সমর্থকদের আন্দোলনের একটি পোস্টার। ছবি: রয়টার্স

দখলদার ইসরায়েল অবরুদ্ধ গাজাবাসীর জন্য মিশরের সীমান্ত খুলে দিয়ে জেরুজালেম ও আল আকসা মসজিদের ওপর ফিলিস্তিনিদের নিয়ন্ত্রণের পক্ষে অবস্থান নেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টাও করেন। তার এ দুটি পদক্ষেপই কাল হয়ে দাঁড়ায়। মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আদাজল খেয়ে মাঠে নামে সৌদি আরব, আরব আমিরাত ও ইসরায়েল, মুরসির বিরুদ্ধে তিনটি দেশ মিলে ব্যয় করে বিপুল পরিমাণ অর্থ।

মিশরের সাবেক প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুরসি মারা গেছেন।

স্থানীয় সময় ১৭, জুন সোমবার দেশটির একটি আদালতে শুনানি চলাকালে বক্তব্য দেওয়ার সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে মারা যান মুরসি।

মিশরের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাত দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী গণমাধ্যম আল-জাজিরার খবরে বলা হয়, আদালতে শুনানির সময় মুরসি দীর্ঘ বক্তব্য দিচ্ছিলেন মুরসি। প্রায় ২০ মিনিট বক্তব্য দেওয়ার পর এজলাস কক্ষেই হঠাৎ তিনি জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। এ সময় মুরসিকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ মুরসিকে মৃত ঘোষণা করে।

৬৭ বছর বয়সী মুরসি গুপ্তচরবৃত্তির অভিযোগে করা একটি মামলায় হাজিরা দিচ্ছিলেন। ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগের অভিযোগ এনে ওই মামলাটি করা হয়েছিল। এর আগে, নির্বাচনে ভুল তথ্য দেওয়ার অভিযোগে করা অপর একটি মামলায় মুরসিকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

মুরসি দেশটির রাজনৈতিক দল মুসলিম ব্রাদারহুডের নেতা এবং মিশরের ইতিহাসে গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত প্রথম প্রেসিডেন্ট। ২০১২ সালে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছিলেন তিনি।

২০১৩ সালে এক বিক্ষোভের সুযোগ নিয়ে মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করেন দেশটির তৎকালীন সেনাপ্রধান আবদেল ফাত্তাহ আল সিসি। পরবর্তীতে সামরিক শাসন জারি ও লোক দেখানো নির্বাচনের মাধ্যমে দেশের শাসনভার নিজের হাতে তুলে নেন সিসি, নিষিদ্ধ করেন মুরসির দল মুসলিম ব্রাদারহুডের রাজনীতি।


ঢাকা ট্রিবিউনে আরো পড়ুন:  কে এই মুরসি?


মুরসির বিরুদ্ধে ওই বিক্ষোভ ও অভ্যুত্থানে সমর্থন দেয় সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইসরায়েলের মতো আঞ্চলিক শক্তিগুলো। সরকারিভাবে বিবৃতি দিয়ে মুরসি সমর্থকদের ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে আখ্যায়িত করে সৌদি আরব।

বাস্তবতা এই যে, প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর নির্যাতিত ফিলিস্তিনিদের পাশে দাঁড়ান মুরসি। দখলদার ইসরায়েল অবরুদ্ধ গাজাবাসীর জন্য মিশরের সীমান্ত খুলে দিয়ে জেরুজালেম ও আল আকসা মসজিদের ওপর ফিলিস্তিনিদের নিয়ন্ত্রণের পক্ষে অবস্থান নেন তিনি। একইসঙ্গে তিনি ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টাও করেন। তার এ দুটি পদক্ষেপই কাল হয়ে দাঁড়ায়। মুরসিকে ক্ষমতাচ্যুত করতে আদাজল খেয়ে মাঠে নামে সৌদি আরব, আরব আমিরাত ও ইসরায়েল। অভিযোগ রয়েছে মুরসির বিরুদ্ধে জনবিক্ষোভ উস্কে দেওয়ার জন্য এই তিনটি দেশ বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে।

বিচার চলাকালে ২০১৮ সালের মার্চে মুরসির পরিবারের উদ্যোগে গঠিত ব্রিটিশ আইনপ্রণেতা ও আইনজীবীদের একটি প্যানেলের প্রতিবেদনে বলা হয়, মুরসির ক্ষেত্রে বন্দিত্বের ন্যূনতম অধিকারের জন্য নির্ধারিত আন্তর্জাতিক মান অনুসরণ করা হয়নি। তাকে রাখা হয়েছে খুবই বাজে অবস্থায়। প্রতিবেদনে নির্বাচিত প্রেসিডেন্টের আইনি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার খর্ব করার অপরাধে বর্তমান প্রেসিডেন্ট সেনাশাসক জেনারেল ফাত্তাহ আল সিসিকে দায়ী করার সুপারিশ করা হয়।

ক্ষমতা দখলের পর সিসির নেতৃত্বে গঠিত সরকার মুরসির রাজনৈতিক দল মুসলিম ব্রাদারহুডের ওপর ব্যাপক তাণ্ডব চালায়।বেসরকারি হিসেবে সে সময় সেনাবাহিনীর অভিযানে নিহত হন সহস্রাধিক মুরসি সমর্থক। মুরসি ও ব্রাদারহুড নেতা মোহাম্মদ বদিসহ দলটির প্রায় সব শীর্ষস্থানীয় নেতাকে কারাগারে পাঠানো হয়। নিষিদ্ধ করা হয় মুসলিম ব্রাদারহুডকে। গ্রেফতার করা হয় হাজার হাজার মুরসি সমর্থককে। মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয় ব্রাদারহুড প্রধানসহ দলটির ৯ শতাধিক নেতাকর্মীকে।

এছাড়া সহিংসতা, জেল ভাঙা, নাশকতা, রাষ্ট্রদ্রোহসহ নানা অভিযোগের মামলায় কেবল মুসলিম ব্রাদারহুড নেতাকর্মীদের বিচার চলতে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ জানিয়েছে, দেশটিতে প্রায় ৬০ হাজার রাজনৈতিক কর্মী আটক রয়েছেন। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এসব বিচারকে রাজনৈতিক আখ্যা দিলেও তাতে কর্ণপাত করেনি দেশটির সামরিক জান্তা।