• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:৫৪ দুপুর

বুর্কিনি নিষিদ্ধের প্রতিবাদে ফ্রান্সে মুসলিম নারীদের বিক্ষোভ

  • প্রকাশিত ০৭:৩২ রাত জুন ২৫, ২০১৯
বুরকিনি
ছবি: এএফপি

দেশটির সমাজকর্মী ম্যারি লি পেন বলেছেন, সারা শরীর ঢাকা সাঁতার পোশাকের ‘কোনো জায়গা ফ্রান্সে হবে না’৷

পুরো ইউরোপ জুড়ে চোখ রাঙাচ্ছে গ্রীষ্মের সূর্য৷ এরই মধ্যে সুইমিংপুলে মুসলিম নারীদের বিশেষায়িত পোশাক ‘বুর্কিনি’ নিষিদ্ধের ঘোষণা দিয়েছে ফ্রান্স। ফলে ফ্রান্সে উত্তাপ যেন আরও বাড়তে শুরু করেছে৷

রবিবার (২৩ জুন) দেশটির গ্রেনোবেলে বুর্কিনি পরে প্রকাশ্যে এই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেছেন মুসলিম নারীরা৷ জিন ব্রোন সুইমিংপুলের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে সেখানে সাঁতার কেটেছেন বুর্কিনি পরা নারীরা৷ 

অন্যদিকে, ডয়চে ভেলের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির সমাজকর্মী ম্যারি লি পেন বলেছেন, সারা শরীর ঢাকা সাঁতার পোশাকের ‘কোনো জায়গা ফ্রান্সে হবে না’৷

মুসলিম নারীদের জন্য বিশেষায়িত সাঁতার পোশাক বুর্কিনিতে মুখ, হাত আর পায়ের তালু ছাড়া সারা শরীর ঢাকা থাকে৷

বিক্ষোভে নামা দুই মুসলিম নারী বিবিসিকে জানান, “গ্রেনবোলের তীব্র গরমে আর সবার মতো সুইমিংপুলে নেমে আমাদেরও মজা করতে ইচ্ছে করে৷ বাচ্চাদের সঙ্গ দেয়ার পাশাপাশি তাদের সাঁতার শেখানোর স্বপ্নটা আমাদেরও আছে৷” এই বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই করার প্রত্যয় জানান তারা৷

প্রতিবাদ কর্মসূচির কড়া সমালোচনা করেছেন সমাজকর্মী ম্যারিন লি পেন৷ এমনকি, বিক্ষোভ দমনে প্রশাসনকে হস্তক্ষেপ করারও আহ্বান জানান পেন৷ সোমবার নিজের ট্যুইটার অ্যাকাউন্টে ম্যারিন লিখেন, “ফ্রান্সে বুর্কিনির কোনো জায়গা নেই”-এ কথা পরিষ্কার করে জানানোর এটাই সবচেয়ে ভালো সময়৷

বুর্কিনির বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন প্যারিস অঞ্চলের প্রধান ভ্যালেরি প্রিক্রেস৷ রেডিও ক্লাসিককে তিনি জানান, “এই পোশাক মেনে নেওয়া হলে, কয়েক বছরের মধ্যে দেখা যাবে, গরীব প্রতিবেশি দেশের সব তরুণীরা নিজস্ব রীতিতে সারা শরীর ঢেকে গোসলে নামবে৷”

মুসলিম নারীদের অধিকার রক্ষায় ‘অপরাশেন বুর্কিনি’ শিরোনামে প্রতিবাদে মাঠে নেমেছে গ্রেনোবলের সিটিজেন অ্যালায়েন্স৷ ফেসবুকের মাধ্যমে সংগঠনটি জানিয়েছে, ৬০০ মুসলিম নারীর পিটিশিন সইয়ের মধ্য দিয়ে এই আন্দোলন শুরু হয়৷ গ্রেনোবেলের মেয়রের কাছেও এই নিয়ম পরিবর্তনের দাবি জানাবে তারা৷

প্রসঙ্গত, সবার জন্য উন্মুক্ত সুইমিং পুলে নামতে হলে, নারীদের বিকিনি অথবা ওয়ান-পিস পোশাক পড়ার বিধান করেছে কর্তৃপক্ষ৷