• রবিবার, সেপ্টেম্বর ১৫, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:২৪ রাত

কাশ্মীরের স্বায়ত্তশাসন বাতিল করলো ভারত

  • প্রকাশিত ০২:১২ দুপুর আগস্ট ৫, ২০১৯
কাশ্মীর
অনির্দিষ্টকাল কারফিউ চলাকালে কাশ্মীরে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকজন সদস্য। ছবি: রয়টার্স

সোমবার (৫ আগস্ট) প্রায় সাতদশক ধরে চলমান বিরোধপূর্ণ মুসলিম-অধ্যুষিত রাজ্যটির এই বিশেষ মর্যাদা তুলে নেওয়ার কথা ভারতের পার্লামেন্টকে জানান দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এর আগে, একইদিনে ভারতের প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোবিন্দ এক প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডারের মাধ্যমে আইনটি বাতিল করেন

জম্মু ও কাশ্মীরকে স্বায়ত্তশাসনের বিশেষ মর্যাদা দেওয়া আইনটি বাতিল করেছে ভারত সরকার। 

সোমবার (৫ আগস্ট) প্রায় সাতদশক ধরে চলমান বিরোধপূর্ণ মুসলিম-অধ্যুষিত রাজ্যটির এই বিশেষ মর্যাদা তুলে নেওয়ার কথা ভারতের পার্লামেন্টকে জানান দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। এর আগে, একইদিনে ভারতের প্রেসিডেন্ট রামনাথ কোবিন্দ এক প্রেসিডেন্সিয়াল অর্ডারের মাধ্যমে আইনটি বাতিল করেন। 

পার্লামেন্টে অমিত শাহ জানান, কেন্দ্রীয় সরকার বিশেষ মর্যাদার উল্লেখ থাকা সংবিধানের ৩৭০ নং ধারাটি বাতিল করবে। এরফলে এখন থেকে জম্মু ও কাশ্মীরের স্বায়ত্বশাসিত সরকার ব্যবস্থার বিলোপ ঘটবে। 

তিনি বলেন, “ভারতের সংবিধান জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য এখন থেকে একইভাবে প্রযোজ্য হবে। ভারতের প্রেসিডেন্টের পক্ষ থেকেও সরকারের এই পরিবর্তনকে অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।”

অমিত শাহের এই ঘোষণার মধ্যদিয়ে নিজেদের আইন তৈরির ক্ষমতা হারালো জম্মু ও কাশ্মীর। একইসাথে, এখন থেকে রাজ্যটির বাইরের নাগরিকদেরও সেখানকার জমি বা সম্পত্তি কেনার ওপর আর কোনও বাধা থাকলো না। এতদিন এই আইনটির মাধ্যমে সেখানকার বাসিন্দাদের জন্য রাজ্য সরকারি চাকরিসুবিধাও সংরক্ষিত করে রাখা হয়েছিল, যেকারণে বাইরের কেউ সেখানে চাকরি করার অনুমতি পেতেন না।

এদিকে, জম্মু ও কাশ্মীরের রাজনীতিকদের পক্ষ থেকে এই আইন বাতিলের তীব্র নিন্দা জানানো হয়েছে।

রাজ্যের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতি এক টুইট-বার্তায় বলেন, “ভারত সরকারের সংবিধানের ৩৭০ ধারা বিলোপের এই সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ অবৈধ ও অসংবিধানিক। এই বিলোপের ফলে জম্মু ও কাশ্মীরের জন্য ভারত একটি দখলদার বাহিনীতে পরিণত হবে।”    

এর আগে, রবিবার (৪ আগস্ট) রাতে রাজ্যটির দুই প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী ওমর আবদুল্লা ও মেহবুবা মুফতিকে গৃহবন্দি করা হয়। একইসাথে, অনির্দিষ্টকালের জন্য জারি করা হয়েছে কারফিউ। 

রবিবার সন্ধ্যায় একটি সূত্রে জানা যায়, জম্মু-কাশ্মীর পুলিশকে অস্ত্র জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যদিও সেকথাস্বীকার করেনি সরকার। তবে সূত্রের খবর, শোপিয়ানের মতো স্পর্শকাতর এলাকাগুলিতে থানা পাহারা দিচ্ছে বিএসএফ। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়। একইসাথে, পর্যটক ও তীর্থযাত্রীদেরকেও ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

রবিবার কাশ্মীরের মূলস্রোতের রাজনৈতিক দলগুলির নেতারা মেহবুবার বাড়িতে এক সর্বদলীয় বৈঠক করেন। কাশ্মীরের বিশেষ সাংবিধানিক মর্যাদা খর্ব করার চেষ্টা হলে একযোগে তার প্রতিরোধ করার সিদ্ধান্ত নেন তারা। তার পরপরই তাদের কাউকে গ্রেফতার, কাউকে গৃহবন্দি করা হয়। মেহবুবা-ওমর দু’জনেই টুইট করে নিজেদের গৃহবন্দিত্বের কথা সকলকে জানিয়েছেন।

এদিকে, এরইমধ্যে ভারতকে হুঁশিয়ারির বার্তা দিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। নিয়ন্ত্রণরেখায় কেরন সেক্টরে ৩১ জুলাই রাতে পাক সেনার ব্যাট বাহিনী হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছিল ভারত। সেই হামলায় নিহত পাঁচ পাকিস্তানি সেনাসদস্যর মরদেহ পাকিস্তানকে নিয়ে যেতে বলেছে ভারত। তবে, ওই হামলার কথা অস্বীকার করে ভারতের বিরুদ্ধেই অভিযোগ করেন ইমরান খান।

টুইটারে ইমরান খান লেখেন, “নিয়ন্ত্রণরেখা পেরিয়ে ভারতের হামলার নিন্দা করছি। এটা মানবাধিকার আইন ও ১৯৮৩ সালের প্রথাগত অস্ত্র ব্যবহার নিয়ে চুক্তির পরিপন্থী। এনিয়ে রাষ্ট্রপুঞ্জের সতর্ক হওয়া উচিত। ভারত কোনও ভুল পদক্ষেপ করলে পাকিস্তান জবাব দেবে।"

তিনি লেখেন, “কাশ্মীর সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধান হলে তবেই দক্ষিণ এশিয়ায় শান্তি বজায় রাখা সম্ভব। আর এখনই মধ্যস্থতা করার সময়।”