• সোমবার, ডিসেম্বর ১৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:১৫ রাত

কাশ্মীর ইস্যুতে অমর্ত্য সেন: ভারতীয় হিসেবে আমি গর্বিত নই

  • প্রকাশিত ০৬:১১ সন্ধ্যা আগস্ট ২০, ২০১৯
অমর্ত্য সেন
নোবেল জয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। ছবি: সংগৃহীত

এখন আর আমি একজন ভারতীয় হিসেবে এই সত্য নিয়ে গর্বিত নই যে ভারতই গণতন্ত্রের পক্ষে প্রথম প্রাচ্যের দেশ ছিল। কারণ কাশ্মীরে যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তাতে আমরা সেই খ্যাতি হারিয়ে ফেলেছি

কাশ্মীর ইস্যুতে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন কেন্দ্রীয় সরকারের পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে বলেছেন, “এটি যে শুধুমাত্র সকল মানুষের অধিকার বজায় রাখার বিরোধিতা করেছে তা নয়, এই পদক্ষেপে সংখ্যাগরিষ্ঠের কথাও মনে রাখা হয়নি।”

স্থানীয় সময় সোমবার (১৯ আগস্ট) ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সোমবার অমর্ত্য সেন বলেন, “আমি মনে করি না যে গণতন্ত্র ছাড়া কোনো ভাবে কাশ্মীর সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। গণতন্ত্রের মর্যাদা হারানোয় ভারতীয় হিসেবে আমি গর্বিত নই।”

কাশ্মীর নিয়ে ৩৭০ অনুচ্ছেদ রদ করার পদক্ষেপের মধ্যের ফাঁকগুলো চিহ্নিত করে ৮৫ বছর বয়সী এই অর্থনীতিবিদ বলেন, “গোটা বিশ্বে গণতান্ত্রিক আদর্শ অর্জনের জন্য এতো কিছু করেছে ভারত। তবে এখন আর আমি একজন ভারতীয় হিসেবে এই সত্য নিয়ে গর্বিত নই যে ভারতই গণতন্ত্রের পক্ষে প্রথম প্রাচ্যের দেশ ছিল। কারণ যে পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তাতে আমরা সেই খ্যাতি হারিয়ে ফেলেছি।”

গত ৫ আগস্ট জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বিলোপ করে রাজ্যটিকে দ্বিখণ্ডিত করে দুটি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল করার ঘোষণা দেয় নরেন্দ্র মোদি সরকার। সরকারের ওই পদক্ষেপ রাজনৈতিক ও জন সমর্থন পায়।

রাজ্যটিকে দ্বিখণ্ডিত করার বিলটি বেশ কয়েকটি মূল বিরোধী দল এবং নির্দল নেতাদেরও সমর্থন পেয়েছে। এমনকি কংগ্রেস নেতাদের একটি অংশও বিশেষ মর্যাদার সমাপ্তির প্রশংসা করেছিল, যার ফলে এখন জম্মু ও কাশ্মীর দেশের অন্যান্য অংশের সঙ্গে সমান হয়ে গেছে। আগে এই রাজ্যটি তার নিজস্ব সংবিধান, পতাকা, দণ্ডবিধি এবং রাজ্যে কে জমি কিনতে পারবে সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা রাখতো।

অন্যান্য রাজ্যের মানুষের জম্মু ও কাশ্মীরে জমি ক্রয়ের সম্ভাবনা প্রসঙ্গে ড. অমর্ত্য সেন বলেন যে “রাজ্যের জনগণের (জম্মু ও কাশ্মীর) কথা ভেবেও কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। এটি এমন একটি বিষয় যেখানে কাশ্মীরিদের বৈধ দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। কারণ এটি তাদের জমি।”

জম্মু ও কাশ্মীরের মূলধারার রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেপ্তার করার বিষয়েও সরকারের সিদ্ধান্তের সমালোচনা করেন অমর্ত্য সেন।

“জনগণের নেতাদের কণ্ঠস্বর না শুনে আপনারা ন্যায়বিচার করতে পারেন বলে আমি মনে করি না এবং যদি আপনি হাজার হাজার নেতাকে সংযত রাখেন এবং তাদের অনেককে কারাগারে আটকে রাখেন... তাহলে আপনি গণতন্ত্রের সেই বৈশিষ্ট্যকে দমন করছেন যা গণতন্ত্রকে সফল করে তোলে,” যোগ করেন অর্মত্য সেন।

তবে সরকার ‘প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে জম্মু ও কাশ্মীরকে বিশাল নিরাপত্তার আওতায় রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যেগুলোতে জনসাধারণের ক্ষতি হতে পারে এমন প্রতিক্রিয়া রোধ করতেই এই পদক্ষেপ বলে বর্ণনা করেছে সরকার।

এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করে অমর্ত্য সেন বলেন, “এটি সর্বোত্তম ঔপনিবেশিক অজুহাত। ব্রিটিশরা এভাবেই ২০০ বছর ধরে দেশ চালিয়েছিল।”

তিনি বলেন, “আমরা যখন স্বাধীনতা পেলাম তখন আমরা প্রত্যাশা করেছিলাম... আমরা আমাদের ঐতিহ্য মেনে কাজ করব।”