• বুধবার, নভেম্বর ২০, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৪:৪৩ বিকেল

ফ্রান্সে পাড়ি জমানোর পথে স্লোভাকিয়ায় নিখোঁজ সিলেটের যুবক

  • প্রকাশিত ০৮:১২ রাত সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৯
সিলেট যুবক নিখোঁজ
ইউক্রেন হয়ে ফ্রান্সে যাওয়ার পথে নিখোঁজ সিলেটের যুবক ফরিদ ঢাকা ট্রিবিউন

সম্প্রতি ইউক্রেন থেকে ফ্রান্সে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশে থাকা মধ্যস্থতাকারী দালালের সঙ্গে চুক্তি করে তার পরিবার

ইউক্রেন থেকে ফ্রান্স যাওয়ার পথে স্লোভাকিয়ার জঙ্গলে নিখোঁজ হয়েছেন সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলার ফরিদ উদ্দিন আহমদ (৩৫) নামে সাবেক এক ব্যাংক কর্মকর্তা। তিনি উপজেলার সদর ইউনিয়নের কারিকোনা গ্রামের সমশাদ আলীর পুত্র। দেশত্যাগের আগে তিনি ইস্টার্ন ব্যাংক, বিশ্বনাথ শাখায় কর্মরত ছিলেন।

দালাল ও তার পাঁচ সঙ্গী সোমবার (২ সেপ্টেম্বর) ফ্রান্সে পৌঁছালেও ফরিদ রয়েছেন নিখোঁজ। তার সঙ্গীরা জানিয়েছেন, ফ্রান্সে  যাত্রাপথে স্লোভাকিয়ার একটি জঙ্গলে নিখোঁজ হয়ে যান ফরিদ উদ্দিন।

নিখোঁজের পারিবারিক সূত্র জানিয়েছে, ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত ফুটবল বিশ্বকাপ দেখতে রাশিয়ায় যান ফরিদ। টুর্নামেন্ট শেষ হওয়ার মাসখানেক পরে তিনি রাশিয়া থেকে ইউক্রেনে যান এবং সেখানে কয়েকমাস অবস্থান করেন। সম্প্রতি ইউক্রেন থেকে ফ্রান্সে যাওয়ার জন্য বাংলাদেশে থাকা মধ্যস্থতাকারী দালালের সঙ্গে চুক্তি করে তার পরিবার।

সে অনুযায়ী মধ্যস্থতাকারীর কাছে সাত লাখ টাকা জমাও দেয় ফরিদের পরিবার। চুক্তি অনুযায়ী গাড়িতে করে ফরিদকে ফ্রান্সে পৌঁছানোর পর জমা রাখা সাত লাখ টাকা দালালের কাছে হস্তান্তরের কথা ছিল। চুক্তি সম্পাদনের পর ইউক্রেনস্থ দালালের শিবিরে গিয়ে প্রায় ১ মাস সেখানে অবস্থান করেন ফরিদ।

সর্বশেষ গত ২৭ আগস্ট পরিবারের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা হলে পরদিন ফ্রান্সের উদ্দেশে যাত্রা করার কথা জানান ফরিদ। এরপর পরিবারের সঙ্গে আর যোগাযোগ হয়নি।

সোমবার ফ্রান্স যাত্রাপথের এক সঙ্গী ফোন করে যুক্তরাজ্যে অবস্থানরত ফরিদের ভাই কাওছার আলীকে জানান, গত বুধবার এক দালালের সঙ্গে ফরিদ উদ্দিনসহ তারা ৬জন ইউক্রেন থেকে ফ্রান্সের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন। পায়ে হেঁটে ফ্রান্সে পৌঁছতে তাদের ৫ দিন সময় লাগে। কিন্তু তাদের সঙ্গে মজুত ছিল মাত্র দুই দিনের খাবার। খাবার ফুরিয়ে গেলে তাদেরকে শুকরের মাংস খেতে দেয় দালাল। কিন্ত, তা খেতে অপারগতা জানান ফরিদ। তাই তিনি সঙ্গে থাকা খেজুর খেয়ে আরও একদিন কাটান। দুইদিন পায়ে হেঁটে তারা পৌঁছান স্লোভাকিয়ার একটি জঙ্গলে।

সেখানে পৌঁছানোর পর সঙ্গে থাকা খেজুর শেষ হয়ে গেলে শূকরের মাংস খেতে বাধ্য হন ফরিদ। সঙ্গে সঙ্গে অসুস্থ হয়ে ফরিদের নাক ও মুখ দিয়ে রক্ত বের হতে শুরু করে। সেইসঙ্গে শুরু হয় বমি আর ডায়রিয়া। ফলে একেবারেই দুর্বল হয়ে পড়েন তিনি। সেদিন রাতে ওই জঙ্গলে সবাই ঘুমিয়ে যান। হঠাৎ বিকট শব্দে ঘুম ভেঙে যায়। উঠে ফরিদকে দেখতে না পেয়ে রাতের আঁধারেই খুঁজতে শুরু করেন তারা। খুঁজে না পেয়ে একপর্যায়ে বাধ্য হয়েই তাকে ছাড়াই ফ্রান্সের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন দালাল ও ফরিদের সাথের অন্য ৫জন। তখন থেকেই নিখোঁজ রয়েছেন ফরিদ উদ্দিন।

নিখোঁজ ফরিদের ভাই আলাউদ্দিন ঢাকা ট্রিবিউনকে বলেন, আমদের ধারণা অসুস্থ হওয়ার পর স্লোভাকিয়ার জঙ্গলে তাকে ফেলে রেখে অথবা তাকে হত্যা করে দালাল ও তার সঙ্গীরা ফ্রান্সে চলে গেছেন। সৃষ্টিকর্তা যেন আমার ভাইকে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেন। প্রবাস থেকে ভাইকে উদ্ধারের পদক্ষেপ নিতে তিনি সরকারের কাছে আবেদন জানান।

প্রসঙ্গত, ছয় ভাই ও এক বোনের মধ্যে ফরিদ উদ্দিন আহমেদ সবার বড়। তার স্ত্রী সেলিনা সুলতানা উপজেলার রামধানা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষিকা। এই দম্পতির ইরা তাসফিয়া নামে তিনবছর বয়সী এক কন্যা সন্তান রয়েছে।