• শনিবার, ডিসেম্বর ১৪, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫২ রাত

প্রধানমন্ত্রী: রোহিঙ্গাদের মাতৃভূমিতে ফেরত পাঠাতে হবে

  • প্রকাশিত ০৯:৫৩ সকাল সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৯
প্রধানমন্ত্রী
জাতিসংঘ সদর দপ্তরের ট্রাস্টিশিপ কাউন্সিলে প্রধানমন্ত্রী। ছবি: ফোকাস বাংলা

নিউইয়র্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, টেকসই, নিরাপদ ও স্বেচ্ছাপ্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে রোহিঙ্গাদের ওপর পরিচালিত নির্যাতন ও মিয়ানমারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে জবাবদিহিতাও নিশ্চিত করতে হবে

রোহিঙ্গা সংকটকে রাজনৈতিক সমস্যা উল্লেখ করে এর মূল মিয়ানমারে গ্রোথিত বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকালে মিয়ানমারের রোহিঙ্গা সংখ্যালঘু পরিস্থিতি নিয়ে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের এক আলোচনাসভায় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী মিশন ও ওআইসি সেক্রেটারিয়েট যৌথভাবে জাতিসংঘ সদর দফতরে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। বাসস’র বরাত দিয়ে এক প্রতিবেদনে এখবর জানায় বাংলা ট্রিবিউন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংকটের সমাধান মিয়ানমারের ভেতরেই খুঁজে পেতে হবে। আর রোহিঙ্গাদের অবশ্যই তাদের মাতৃভূমিতে ফেরত পাঠাতে হবে, যেখানে তারা শতাব্দীর পর শতাব্দী বসবাস করেছে। তবে টেকসই, নিরাপদ ও স্বেচ্ছাপ্রত্যাবর্তন নিশ্চিতে রোহিঙ্গাদের ওপর পরিচালিত নির্যাতন ও মিয়ানমারের মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে। 

সভায় প্রধানমন্ত্রী ওআইসির ১৪তম সম্মেলনের যৌথ ঘোষণার প্রশংসা করেন। তিনি ঘোষণা অনুযায়ী রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতনের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতে ওআইসির পক্ষে মামলা করার বিষয়ে তাগিদ দেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি ওআইসির যৌথ ঘোষণা অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণের এটাই সময়।’

জাতিসংঘের প্রতিবেদন অনুযায়ী রোহিঙ্গারা নৃশংস অপরাধের শিকার হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটি অত্যন্ত দুঃখজনক যে, রোহিঙ্গা সমস্যার কোনোরকম সমাধান ছাড়াই আমরা আরও একটি বছর পার করেছি। মিয়ানমারের উত্তর রাখাইন রাজ্যে নিপীড়িত রোহিঙ্গাদের দুর্দশা নিরবচ্ছিন্নভাবে অব্যাহত রয়েছে।

শেখ হাসিনা বিভিন্ন মুসলিম রাষ্ট্র ও বিশ্ব নেতাদের উদ্দেশে রোহিঙ্গা সমস্যার দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেওয়ার আহ্বান জানান।

তিনি বলেন, সংকট সমাধানে চলমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের (ইউএনজিএ) অধিবেশনে চার দফা প্রস্তাব উত্থাপন করবো। প্রস্তাবগুলোর মধ্যে রয়েছে-

১. রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবর্তন বিষয়ে মিয়ানমারকে অবশ্যই তাদের রাজনৈতিক ইচ্ছে সুস্পষ্ট করতে হবে। এজন্য রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষ কী করছে সেটাও সুস্পষ্টভাবে বলতে হবে।

২. বৈষম্যমূলক আইন ও চর্চা পরিত্যাগ করতে হবে এবং রোহিঙ্গা প্রতিনিধিদের উত্তর রাখাইন রাজ্যে ‘যাও এবং দেখ’ এই নীতিতে পরিদর্শনের অনুমতি দিয়ে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই তাদের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে হবে।

৩. রাখাইন রাজ্যে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বেসামরিক পর্যবেক্ষক মোতায়েন করে মিয়ানমার কর্তৃপক্ষকে অবশ্যই রোহিঙ্গাসহ সবার নিরাপত্তা ও সুরক্ষার নিশ্চয়তা বিধান করতে হবে।

৪. আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবশ্য নিশ্চিত করতে হবে যে, রোহিঙ্গা সংকটের মূল কারণ এবং রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে সংঘটিত নৃশংসতা দূর করা হয়েছে ।

এরআগে, জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭২তম অধিবেশনেও প্রধানমন্ত্রী রোহিঙ্গা সংকট নিরসরনে পাঁচ দফা প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন। তিনি বলেন, সেই প্রস্তাবে কফি আনান কমিশনের সুপারিশ সমূহের পরিপূর্ণ বাস্তবায়নসহ রাখাইন রাজ্যে একটি বেসামরিক নিরাপদ পর্যবেক্ষণ এলাকা প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব ছিল।

উচ্চপর্যায়ের সভাটিতে মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ড. মাহাথির মোহাম্মদ, ওআইসি মহাসচিব ড. ইউসেফ বিন আহমেদ আল-ওথাইমেন এবং সৌদি আরবের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. ইব্রাহিম বিন আব্দুল আজিজ আল-আসাফও বক্তব্য রাখেন। অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, জার্মানি, বেলজিয়াম, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সুইডেন, নেদারল্যান্ড, তুরস্ক, সিঙ্গাপুর, কুয়েত, সার্বিয়া, ফিলিপাইন, গাম্বিয়াসহ বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. একে আব্দুল মোমেন স্বাগত বক্তব্য পেশ করেন। বাংলাদেশ ন্যাশনাল অ্যাডভাইসরি কমিটি ফর অটিজম অ্যান্ড নিউরোডেভেলোপমেন্ট ডিজঅর্ডার্স-এর সায়মা ওয়াজেদ হোসেন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মো. শাহরিয়ার আলম প্রমুখ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের পর পররাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের প্রতি জোরালো সমর্থন জানিয়েছেন। বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবাসনের দাবি করেছেন। আলোচকদের সবাই মিয়ানমারকে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে রাজি করাবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।