• রবিবার, নভেম্বর ১৭, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৮ রাত

অধার্মিক মার্কিনিদের সংখ্যা বাড়ছে

  • প্রকাশিত ০৪:১৪ বিকেল অক্টোবর ১৯, ২০১৯
চার্চ
যুক্তরাষ্ট্রের সাউথ ক্যারোলাইনা অঙ্গরাজ্যের চার্লসটনের একটি চার্চ। এএফপি

নিজেদের নাস্তিক হিসেবে পরিচয় দেওয়া মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কদের আকার ২০০৯ সালের ২ শতাংশ থেকে বেড়ে এখন ৪ শতাংশ হয়েছে

ধর্মের সঙ্গে সম্পর্ক না রাখা যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। সেই সঙ্গে দেশটিতে খ্রিস্টান হিসেবে পরিচিতদের সংখ্যা হ্রাস পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক জনমত জরিপ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান পিউ রিসার্চ সেন্টারের নতুন উপাত্তে এ চিত্র পাওয়া গেছে।

২০১৮ ও ২০১৯ সালে ফোনে পরিচালিত জরিপের ভিত্তিতে পিউ বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) জানায়, যুক্তরাষ্ট্রে প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে বর্তমানে ৬৫ শতাংশ নিজেদের খ্রিস্টান হিসেবে পরিচয় দেন। ২০০৯ সালে এটি ছিল ৭৭ শতাংশ। অন্যদিকে, যারা নিজেদের ধর্মীয় পরিচয়ের ক্ষেত্রে নাস্তিক, অজ্ঞেয়বাদী বা ‘নির্দিষ্ট কিছু না’ বলে উল্লেখ করেছেন তাদের অংশটি ২০০৯ সালের ১৭ শতাংশ থেকে বেড়ে এখন ২৬ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

খ্রিস্টানদের মধ্যে প্রোটেস্ট্যান্ট ও রোমান ক্যাথলিক উভয়ে জনগোষ্ঠী হারাচ্ছে। ৪৩ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক নিজেদের প্রোটেস্ট্যান্ট হিসেবে পরিচয় দেন। ২০০৯ সালে এটি ছিল ৫১ শতাংশ। সেই সঙ্গে ক্যাথলিকদের সংখ্যা ২০০৯ সালের ২৩ শতাংশ থেকে কমে ২০ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।

পিউ জানায়, ধর্মের সঙ্গে অন্তর্ভুক্তি না রাখা সব শ্রেণির জনগোষ্ঠী বিশালভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। নিজেদের নাস্তিক হিসেবে বর্ণনা করা মার্কিন প্রাপ্তবয়স্কদের আকার ২০০৯ সালের ২ শতাংশ থেকে বেড়ে এখন ৪ শতাংশ হয়েছে। অজ্ঞেয়বাদীদের সংখ্যা এক দশক আগের ৩ শতাংশ থেকে দাঁড়িয়েছে ৫ শতাংশে। যেসব মার্কিনি নিজেদের ধর্ম বলতে ‘নির্দিষ্ট কিছু নেই’ বলে থাকেন তারা ২০০৯ সালের ১২ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে এখন ১৭ শতাংশ হয়েছে।

পিউর প্রতিবেদনে প্রার্থনা অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার হারেও নিয়মিত হ্রাস দেখা গেছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এপি। 

যেসব মার্কিনি জানিয়েছেন যে তারা মাসে অন্তত এক বা দুইবার প্রার্থনা সভায় যান, তেমন ব্যক্তিদের সংখ্যা এক দশকের ব্যবধানে ৭ শতাংশ কমেছে। অন্যদিকে, যারা বলেছেন যে আরও কম যান তাদের সংখ্যা একই পরিমাণে বেড়েছে। 

পিউর উপাত্তে ধর্মের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা বা না রাখাদের বয়সের মাঝে বড় ধরনের পার্থক্য দেখা গেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী দুই দশকে জন্ম নেওয়াদের মাঝে তিন-চতুর্থাংশ নিজেদের খ্রিস্টান হিসেবে পরিচয় দেন। সেই তুলনায় ২১ শতকে প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া তরুণদের মাঝে এ সংখ্যাটি ৪৯ শতাংশ।

পিউর গবেষণায় উঠে আসা এ প্রবণতা সম্প্রতি আরও কিছু প্রতিবেদনেও দেখা গেছে। গত মে মাসে সাউদার্ন ব্যাপটিস্ট কনভেনশন জানায়, তাদের সদস্য হ্রাস পাওয়া ১২তম বছরের মতো চলমান রয়েছে। ২০১৮ সালে তাদের সদস্য ছিলেন ১ কোটি ৪৮ লাখ, যা আগের বছরের তুলনায় ১ লাখ ৯২ হাজার কম।

গত জুনে মার্কিনিদের দানের তথ্য নিয়ে প্রণীত বার্ষিক গিভিং ইউএসএ-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, গত কয়েক বছর ধরে অন্যান্য জনহিতকর খাতে দানের তুলনায় ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে দান পিছিয়ে পড়েছে।

ধর্মীয় দান নিয়ে গবেষণাকারী ইলিনয়ের খ্রিস্টান সংস্থা এম্পটি টোম্ব জানায়, এ হ্রাস পাওয়া দীর্ঘস্থায়ী হচ্ছে। মার্কিনিরা ১৯৬৪ সালে তাদের আয়ের ৩ শতাংশ গির্জায় দিতেন এবং ২০১৬ সালে তা হ্রাস পেয়ে ২ দশমিক ২ শতাংশের কমে দাঁড়িয়েছে।