• শুক্রবার, ডিসেম্বর ১৩, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৫৬ রাত

আইএস নেতা বাগদাদির মৃত্যু নিয়ে ধোঁয়াশা!

  • প্রকাশিত ০৬:২০ সন্ধ্যা অক্টোবর ২৭, ২০১৯
বাগদাদি
আইএস নেতা আবু বকর আল বাগদাদি রয়টার্স

এর আগে বেশ কয়েকটি ঘটনায় আইএস নেতা বাগদাদির নিহত হওয়ার ভুল খবর ছড়িয়েছিল

মধ্যপ্রাচ্যের উগ্রবাদী সংগঠন ইসলামিক স্টেটের পলাতক নেতা আবু বকর আল-বাগদাদি যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ বাহিনীর এক অভিযানে নিহত হয়েছেন বলে মার্কিন গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে জানিয়েছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা বিবিসি।

তবে, রবিবার (২৭ অক্টোবর) প্রচারিত এই সংবাদ বা অভিযানের বিষয়ে এখনও যুক্তরাষ্ট্র সরকারের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়নি।

নিরপেক্ষ কোনো সূত্রের মাধ্যমেও বাগদাদির মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি বিবিসি।

এদিকে, রবিবার এক 'রহস্য' একটি টুইট করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি লিখেছেন, ''খুব বড় একটা কিছু এইমাত্র ঘটেছে।"

সিরিয়ায় কুর্দি বাহিনীর কমান্ডার টুইটারে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনীর সঙ্গে মিলে যৌথভাবে তারা একটি 'ঐতিহাসিক' অভিযান পরিচালনা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, উত্তর পূর্ব সিরিয়ায় আইএস নেতার খোঁজে অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী। অভিযানটির অনুমোদন দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।

একজন মার্কিন কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, একটি অভিযান চালানো হয়েছে, তবে তাতে বাগদাদি নিহত হয়েছেন কিনা, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে নিউজউইক লিখেছে, 'নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা তথ্যের' ভিত্তিতে বিশেষ বাহিনী এই অভিযানটি পরিচালনা করেছে।

এর আগে বেশ কয়েকটি ঘটনায় আইএস নেতা বাগদাদির নিহত হওয়ার ভুল খবর ছড়িয়েছিল।

তবে অভিযান চালানো হয়েছে কিনা, তাতে কি ফলাফল পাওয়া গেছে, এর কোনো তথ্যই নিশ্চিত করেনি হোয়াইট হাউজ।

তবে এসব খবরের পর যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক পর্যবেক্ষক গ্রুপ সিরিয়ান অবজারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটস জানিয়েছে, সিরিয়ার ইডলিব প্রদেশে হেলিকপ্টারের গুলিতে একটি গ্রামে নয়জন বাসিন্দা নিহত হয়েছে, যেখানে ইসলামিক স্টেট গ্রুপের উপস্থিতি রয়েছে।

আবু বকর আল-বাগদাদি কে?

আবু বকর আল বাগদাদির আসল পরিচয় নিয়েও মতবিভেদ রয়েছে। 'আল বাগদাদি' তার আসল নাম নয় বলে মনে করা হয়।

আবু বকর আল-বাগদাদি নামে পরিচিত হলেও তার আসল নাম ইব্রাহিম আওয়াদ আল-বদরি। ধারণা করা হয়, ১৯৭১ সালে ইরাকের সামারার কাছে একটি সুন্নি পরিবারে তার জন্ম।

অল্প বয়সে গভীরভাবে ধর্মের দিকে ঝুঁকে পড়েন। তিনি ইসলামিক স্টাডিজে স্নাতক ডিগ্রি লাভের পর কোরানিক স্টাডিজে স্নাতকোত্তর এবং পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন।

২০০৪ সালে ইঙ্গ-মার্কিন আক্রমণের শিকার হয়ে ক্যাম্প বুকাতে বন্দি হন তিনি। সেখানে তিনি সাবেক ইরাকি গোয়েন্দা কর্মকর্তাসহ অন্য বন্দিদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তোলেন।

২০০৩ সালে যখন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরাকে সামরিক অভিযান চলে, তখন আল বাগদাদি বাগদাদের কোন একটি মসজিদের ইমাম ছিলেন বলে দাবি করা হয় কোনো কোনো রিপোর্টে।

অনেকের বিশ্বাস, সাদ্দাম হোসেনের শাসনামলেই আল বাগদাদি জঙ্গি জিহাদিতে পরিণত হয়েছিলেন। তবে অন্য অনেকের ধারণা, যখন তাকে দক্ষিণ ইরাকে একটি মার্কিন সামরিক ক্যাম্পে চার বছর আটকে রাখা হয়েছিল তখনই আসলে আল বাগদাদি জঙ্গিবাদে দীক্ষা নেন। এই ক্যাম্পে অনেক আল কায়েদা কমান্ডারকে বন্দি রাখা হয়েছিল।

আল বাগদাদি পরে ইরাকে আল কায়েদার নেতা হিসেবে আবির্ভূত হন। পরে অবশ্য ইরাকের আল কায়েদা নিজেদেরকে ২০১০ সালে 'ইসলামিক স্টেট অব ইরাক এন্ড লেভান্ট' বলে ঘোষণা করে।

২০১১ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্র আল বাগদাদীকে সন্ত্রাসী বলে ঘোষণা করে। তাকে ধরিয়ে দেওয়ার জন্য ২৫ মিলিয়ন ডলার পুরস্কার ঘোষণা করা হয়।