• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০২:৪৪ দুপুর

ভারত থেকে মনিপুরের স্বাধীনতা ঘোষণা, ‘প্রবাসী সরকার’ গঠন!

  • প্রকাশিত ০৫:৩৮ সন্ধ্যা অক্টোবর ৩০, ২০১৯
ভারত
লন্ডনে এক সংবাদ সম্মেলনে মনিপুরের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ করেন বিদ্রোহী নেতা নরেংবাম সমরজিত (বাঁয়ে)। ছবি: সংগৃহীত

‘জাতিসংঘের সদস্য হতে আমরা বিভিন্ন দেশের স্বীকৃত চাইবো। আমরা মনে করি, অনেক দেশই আমাদের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেবে’

বাংলাদেশের উত্তরপূর্বের ভারতীয় রাজ্য মনিপুর স্বাধীনতা ঘোষণা করেছে! স্থানীয় সময় মঙ্গলবার যুক্তরাজ্যের লন্ডনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে রাজ্যটির স্বাধীনতা ও “প্রবাসী মনিপুর সরকার” গঠনের ঘোষণা দেন দুই বিদ্রোহী নেতা।

লন্ডনে “প্রবাসী মনিপুর সরকারের” নাম দেওয়া হয়েছে “মনিপুর স্টেট কাউন্সিল”। ইয়ামবিন বিরেনকে এই সরকারের মুখ্যমন্ত্রী এবং নরেংবাম সমরজিতকে পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী ঘোষণা করা হয়েছে। এ দুই বিদ্রোহী নেতাই দীর্ঘ দিন ধরে লন্ডনে বসবাস করে আসছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ওই দুই নেতা দাবি করেন, তাদের রাজা লেইশেমবা সানাজাওবার পক্ষ থেকে স্বাধীনতার এ ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

এ সময় নরেংবাম সমরজিৎ বলেন, “প্রবাসী সরকার জাতিসংঘের স্বীকৃতির জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাবে। আমরা আজ থেকে এখানে (লন্ডনে) এই আইনসম্মত সরকার পরিচালনা করব।”

সমরজিৎ আরও বলেন, “জাতিসংঘের সদস্য হতে আমরা বিভিন্ন দেশের স্বীকৃত চাইবো। আমরা মনে করি, অনেক দেশই আমাদের স্বাধীনতাকে স্বীকৃতি দেবে।”

ভারতে অবস্থান করে স্বাধীনতা ঘোষণা না দেওয়ার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, এমনটি করলে ভারতীয় নিরাপত্তা বাহিনী তাদেরকে গ্রেফতার বা হত্যা করতে পারে।

তবে এ বিষয়ে যুক্তরাজ্যের ভারতীয় হাইকমিশন বা ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রসঙ্গত, ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় কথিত ‘সেভেন সিস্টার্স’ গ্রুপের সাতটি রাজ্যের একটি মনিপুর। এর জনংসখ্যা প্রায় ২৮ লাখ। এদের প্রায় সবাই স্থানীয় মনিপুরী নৃতাত্ত্বিক গোষ্ঠীর মানুষ।

ব্রিটেন থেকে ভারত স্বাধীনতা লাভের পর মনিপুর স্বাধীন রাজ্য (সিকিমের মতো) হিসেবেই ছিল। কিন্তু ১৯৪৯ সালে ভারত রাজ্যটিকে অঙ্গীভূত করে। তখন থেকে মনিপুরবাসী ভারতের এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার জন্য লড়াই করে আসছে। মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দাবি, গত কয়েক দশকে ভারতীয় সেনাবাহিনী ও স্বাধীনতাকামীদের লড়াইয়ে কমপক্ষে ১৫ হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছে, কারাবন্দি করা হয়েছে দেড় হাজারেরও বেশি মানুষকে। এ ছাড়া স্বাধীনতাকামীদের দমন করতে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের মতো ঘটনা ঘটিয়েছে দেশটির নিরাপত্তা বাহিনী।