• শুক্রবার, ডিসেম্বর ০৬, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৫৬ রাত

ঘুম-ক্ষুধা-ব্যথা কোনও অনুভূতিই নেই তার!

  • প্রকাশিত ১২:৪৪ দুপুর নভেম্বর ১৯, ২০১৯
অলিভিয়া
ছবি: সংগৃহীত

শিশু অলিভিয়ার বয়স যখন মাত্র নয়মাস, মা নিকির মনে হতে থাকে তার মেয়ে যেন ইস্পাত দিয়ে তৈরি

ক্ষুধা-তৃষ্ণা-ঘুম বা ক্লান্তি। কোনও বোধই তার নেই। ১০ বছরের অলিভিয়া ফ্রান্সওয়ার্থ বিস্ময়বালিকা। জন্মের পর থেকেই একের পর এক চমক নিয়ে যেন অপেক্ষা করে আছে ইংল্যান্ডের ইয়র্কশায়ারের হাডার্সফিল্ডের ছোট্ট এই বাসিন্দা। যুক্তরাজ্যের ট্যাবলয়েড পত্রিকা ‘এক্সপ্রেস’এর এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে এ বিস্ময়বালিকার কথা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অলিভিয়ার বয়স যখন মাত্র নয়মাস, তখন মেয়ের অস্বাভাবিকতা বুঝতে পারে তার মা নিকি ট্রেপাক। তার মনে হতে থাকে, অলিভিয়া যেন ইস্পাত দিয়ে তৈরি। তার খিদে পায় না। ঘুমের জন্য বায়না নেই। এমনকি, ব্যথা পেয়েও কাঁদে না। চলছিল এ ভাবেই। কারণ, আর যাই হোক, মেয়ের কোনও শারীরিক অসুস্থতা ছিল না।

নিকি বলেন, নার্সারিতে পড়ার সময় একদিন পড়ে যায় অলিভিয়া। তবে ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেলে শিশু অলিভিয়া ভয় না পেয়ে উল্টো ঠোঁট ধরে টানতে শুরু করে। সেসময় তার শিশুর মধ্যে অস্বাভাবিকতার কথা জানায় ডাক্তার।

কিন্তু এরপরেও যে চমক অপেক্ষো করে ছিল, তার জন্য আদৌ প্রস্তুত ছিলেন না নিকি। একদিন তার চোখের সামনে দুর্ঘটনার শিকার হল ছোট্ট অলিভিয়া। প্রথমে গাড়ির ধাক্কা, তারপর ওই গাড়ি তাকে টেনে নিয়ে যায় বেশ খানিকটা দূরত্ব। আতঙ্কে দিশেহারা নিকি এবং তার বাকি সন্তানরা যখন চিৎকার করে কাঁদছে তখন তাদের হতভম্ব করে নির্বিকার ভাবে ফিরে আসে অলিভিয়া! দেহে আঘাতের চিহ্ন আছে। কিন্তু কোনো ভয় পায়নি সে। এসময় চিকিৎসকরা তাকে দেখে বুঝতে পারে জিনগঠিত একধরনের বিরল রোগে আক্রান্ত অলিভিয়া। চিকিৎসার ভাষায় যার নাম ‘ক্রোমোজোম সিক্স ডিলেশন’। আর এই বিরল অসুখের শিকার শিশুদের বলা হয় ‘বায়োনিক চাইল্ড’।

প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বে প্রতি দুশো জন শিশুর মধ্যে একজন এই বিরল রোগে আক্রান্ত হয়। কিন্তু তার মধ্যেও রকমফের আছে। কারও কারও মধ্যে বিরলতার মাত্রা অতিরিক্ত হয়। অলিভিয়া সে রকমই একজন। সে কার্যত একজন অতিমানবীয় শিশুতে পরিণত হয়েছে।

মা নিকি বলেছেন, টানা তিনদিন পর্যন্ত না ঘুমিয়ে থাকতে পারে অলিভিয়া। স্কুলে যাওয়ার আগপর্যন্ত কোনোদিন হাই তুলতেও দেখেননি তিনি।

চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা জানান, মানবদেহের ২৩ জোড়া ক্রোমোজোমের প্রত্যেকটির দু’টি অংশ। ‘পি’ আর্ম ও ‘কিউ’ আর্ম। এর মধ্যে একটিতে কোনও বিচ্যুতি হলেই দেখা দেয় জিনগত জটিলতা। এখনওবিশ্বে ১৫ হাজারের বেশি জিনগত জটিলতার নিদর্শন পাওয়া গিয়েছে। তার মধ্যে মাত্র একশো জন ‘সিক্স পি ডিলেশন’-এর শিকার। কিন্তু তাদের মধ্যে একমাত্র অলিভিয়া খিদে-তৃষ্ণা-ঘুম-ব্যথার অনুভূতি নেই।