• রবিবার, মার্চ ২৯, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৫:৫৯ সন্ধ্যা

‘আপনি নয়, তুমি বলুন’, হাসিনাকে মমতার অনুরোধ

  • প্রকাশিত ১০:৩৪ সকাল নভেম্বর ২৩, ২০১৯
হাসিনা-মমতা
গোলাপি বলে ভারত-বাংলাদেশের টেস্টের উদ্বোধনী দিনে ইডেনে শেখ হাসিনাকে অভ্যর্থনা জানানোর পর থেকে গৃহকর্ত্রীর মতোই সারাদিন আন্তরিক আপ্যায়নে ব্যস্ত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী। ছবি: পিটিআই

মমতা বলেন, ‘ইংরেজিতে তো শুধু “ইউ”। আমাদের বাংলায় আপনি, তুমি দু’টো শব্দই আছে। তুমিটা অনেক আপন। আমাকে তুমিই বলবেন’

কখনও “আপনি”, কখনও “তুমি” বলছেন দেখে শেখ হাসিনাকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বিনীত আবদারে বলে ফেললেন, ‘‘আমাকে আপনি বলবেন না। ইংরেজিতে তো শুধু “ইউ”। আমাদের বাংলায় আপনি, তুমি দু’টো শব্দই আছে। তুমিটা অনেক আপন। আমাকে তুমিই বলবেন।’’ হাসিনা মৃদু হেসে কাছে টেনে নেন মমতাকে। এখবর জানিয়েছে আনন্দবাজার।

গোলাপি বলে ভারত-বাংলাদেশের টেস্টের উদ্বোধনী দিনে ইডেন গার্ডেনসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হাসিনাকে অভ্যর্থনা জানানোর পর থেকে গৃহকর্ত্রীর মতোই সারাদিন আন্তরিক আপ্যায়নে ব্যস্ত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী।  

হাসিনা পৌঁছানোর বেশ খানিকক্ষণ আগেই শুক্রবার (২২ নভেম্বর) দুপুরে ইডেনে পৌঁছে গিয়েছিলেন মমতা। বি সি রায় ক্লাব হাউসের লাউঞ্জে বসেছিলেন বেশ কিছুক্ষণ। তারপরেই চলে আসেন শচীন টেন্ডুলকারও। লাউঞ্জে বেশ খানিকক্ষণ জয়, শচীনদের সঙ্গে জমিয়ে আড্ডা, খোশগল্প চলে মমতার।

শেখ হাসিনা চলে এসেছেন শুনে বি সি রায় ক্লাবহাউসের গেটে চলে যান মমতা। পাশে সৌরভ গাঙ্গুলি। হাসিনার সঙ্গে দেখা হতেই দু’জনে দু’জনকে বলছেন, “কেমন আছেন?” এরপরে গেট পেরিয়ে ড্রেসিংরুমের মধ্যদিয়ে মাঠে ঢোকার পথে র‌্যাম্পে হঠাৎই পা পিছলে যায় শেখ হাসিনার। হুড়মুড়িয়ে সামনের দিকে পড়ে যাচ্ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। চকিতে হাসিনাকে ধরে ফেলেন মমতা। পাশে থাকা নিরাপত্তারক্ষীরাও সামলে নেন হাসিনাকে। বড় কোনও অঘটন ঘটেনি।

এরপরে মমতা-হাসিনা মাঠে ঢুকতেই শুরু হয় দু’দেশের জাতীয় সঙ্গীত। ভারত-বাংলাদেশ দু’দেশেরই জাতীয় সঙ্গীতে মমতা গলা মেলালেন দেখে হাসিনা বলেন, ‘‘একই কবি।’’ মমতার প্রত্যুত্তর, ‘‘একই রবি।’’ কথা বলতে বলতেই এরপর হাসিনাকে নিয়ে মমতা চলে যান ক্লাব হাউসে নিজেদের নির্দিষ্ট আসনে। বাংলাদেশের একের পর এক উইকেট পড়ছে দেখে কিঞ্চিৎ বিমর্ষ লাগে হাসিনাকে।

খেলা চলতে চলতেই মধ্যাহ্নভোজ শুরু হয়ে যাওয়ায় দ্রুত মমতা চলে যান হাসিনার কাছে। “বেলা হয়ে যাচ্ছে, এখন খেয়ে নিন” বলে হাসিনাকে নিয়ে খাওয়ার জায়গায় নিয়ে আসেন মমতা। নিজে দাঁড়িয়ে থেকে হাসিনা ও তার সঙ্গীদের আপ্যায়ন করেন তিনি।

সন্ধ্যায় বৈঠকের জন্য হোটেল তাজে চলে আসেন মমতা। হাসিনাকে বালুচরি স্বর্ণচরি শাড়ি, দু’টো শাল উপহার দেন মমতা। বৈঠক সেরে ফের দু’জনেই ইডেনে। হাসিনা মমতাকে বলেন, ‘‘চলো একসঙ্গে গাড়িতে যাই।’’ বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানের প্রোটোকলের মধ্যে মমতা ঢুকতে চাননি। তাই হাসিনার সৌজন্যে ধন্যবাদ জানিয়ে মমতার বিনীত অনুরোধ, ‘‘না আমি বরং আগে যাই। আপনি আপনার মতোই আসুন।’’