• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৮ রাত

খাবার অপচয় করলেই গুণতে হবে অতিরিক্ত ২০ রুপি!

  • প্রকাশিত ১০:০৩ সকাল নভেম্বর ২৮, ২০১৯
খাবার অপচয়
ভারতের আলিপুরদুয়ার শহরের একটি হোটেলে খাবার এতটুকু নষ্ট করলে জরিমানা হিসেবে গুণতে হবে অতিরিক্ত ২০ রুপি! ছবি: সংগৃহীত

হোটেল মালিক বলেন, ’খাবার অপচয় করার জন্য যাদের থেকে জরিমানা নিচ্ছি, তাদের অনেকেই হয়তো আমার দোকানে আর আসবেন না। তবে, একবার জরিমানার মুখে পড়ে তাদের খাবার নষ্ট করার প্রবণতা কমবে, আমি নিশ্চিত’

ভারতের আলিপুরদুয়ার শহরের বাবুমশাই হোটেলে গিয়ে খেতে বসে অতিরিক্ত ভাত, ডাল নিলে বাড়তি টাকা গোণার প্রয়োজন নেই। তবে সেই খাবার এতটুকু নষ্ট করা যাবে না। তখনই খাবারের দামের সঙ্গে জরিমানা হিসেবে গুণতে হবে অতিরিক্ত ২০ রুপি। খাবার অপচয় বন্ধ করতে গত দু’সপ্তাহ ধরে এই নিয়ম চালু হয়েছে আলিপুরদুয়ার শহরের থানা মোড়ের হোটেলটি। ফলও মিলেছে হাতে-নাতে। হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, চার-পাঁচ জনের থেকে জরিমানা আদায়ের পর এখন হোটেলে খাবার অপচয় অনেকটাই কমে গিয়েছে। এক প্রতিবেদনে এখবর জানিয়েছে আনন্দবাজার।

আলিপুরদুয়ার শহরের থানা মোড়ে একাধিক খাবারের হোটেল রয়েছে। যে হোটেলগুলিতে দিনভর সরকারি কর্মী, ব্যবসায়ী কিংবা বিভিন্ন দোকানের কর্মীদের অনেকেই খাওয়া-দাওয়া করেন। ২০১৩ সালে সেখানেই ছোট্ট একটি হোটেল ভাড়া নেন শহরের উদয়ন বিতান এলাকার বাসিন্দা ৩২ বছরের রণজিৎ দে।

নিজের হোটেল চালানোর অভিজ্ঞতা থেকে নানা সময় পথশিশু থেকে শুরু করে ফুটপাতে বাস করা অনেকেই যে ক্ষুধা মেটাতে তার কাছে আসেন, তা বহুবার দেখেছেন রণজিৎ। এ-ও দেখেছেন, অনেকেই তার হোটেলে খেতে এসে খাবারের অপচয় করেন। রণজিতের কথায়, “কত মানুষ আছেন, যারা দিনের পর দিন অভুক্ত অবস্থায় থাকেন। অনাহারে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হয়। আবার অনেকে সেই খাবারই যথেচ্ছ পরিমাণে নষ্ট করেন।”

তাই নিজের হোটেলে খাবার নষ্ট বন্ধে উদ্যোগী হন রণজিৎ। থানা মোড়ের আর পাঁচটি হোটেলের মতো তার হোটেলেও খাবার “মিল সিস্টেমে” দেওয়া হয়। অর্থাৎ, যে কেউ মাছ, মাংস, ডিম বা নিরামিষ খান না কেন, পরে অতিরিক্ত ভাত, ডাল বা তরকারি চাইলে বাড়তি টাকা দিতে হবে না।

রণজিৎ দাবি করলেন, “খদ্দেরদের অনেকবার বলেও কোনও কাজ হচ্ছিল না।” এরপরই তিনি অপচয়ে করলে ২০ রুপি “জরিমানা” করার সিদ্ধান্ত নেন। সপ্তাহ দুয়েক আগে সেই নোটিসও লাগিয়ে দেন দোকানের দেওয়ালে।

রণজিতের “আদেশ” না শুনে খাবার নষ্ট করায় এই দুই সপ্তাহে চার-পাঁচ জনকে জরিমানা দিয়ে হয়েছে। জরিমানা চাইতেই যাদের কারও কারও সঙ্গে বচসায় জড়িয়ে পড়েন রণজিৎ। তবু নিজের সিদ্ধান্তে অনড় তিনি।

তার সাফ কথা, “খাবার অপচয় করার জন্য যাদের থেকে জরিমানা নিচ্ছি, তাদের অনেকেই হয়তো আমার দোকানে আর আসবেন না। তবে, একবার জরিমানার মুখে পড়ে তাদের খাবার নষ্ট করার প্রবণতা কমবে, আমি নিশ্চিত।”