• বৃহস্পতিবার, ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:১৮ রাত

বিশেষ সম্মাননা পেলেন জার্মানির নারী ইমাম

  • প্রকাশিত ১০:৫৬ সকাল নভেম্বর ২৮, ২০১৯
সাইরান আতিস
জার্মানিতে নারী অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ে অবদানের জন্য বিশেষ সম্মাননা পেয়েছেন সাইরান আতিস সংগৃহীত

ইসলামে মুক্ত চিন্তার লড়াই, নারীদের সমান অধিকার, উদার মসজিদ প্রতিষ্ঠার জন্য এরইমধ্যে আলোচিত হয়ে উঠেছেন তিনি৷ নিজ সম্প্রদায়ের অনেকের সমর্থন যেমন পাচ্ছেন, তেমনি আবার পাচ্ছেন হুমকিও

জার্মানিতে নারীদের অধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে কথা বলার জন্য আলোচিত আইনজীবী, লেখক সাইরান আতিস৷ তুর্কি বংশোদ্ভূত এই জার্মান নারী প্রশিক্ষণ নিয়ে বার্লিনের ইবনে রুশদ-গ্যোটে মসজিদে ইমামের দায়িত্বও পালন করছেন৷ ইসলামি পদার্থবিদ ও দার্শনিক ইবনে রুশদ এবং জার্মান কবি ও দার্শনিক ইয়হাস'র নামানুসারে মসজিদটির নামকরণ করা হয়েছে৷

এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে জার্মান গণমাধ্যম ডয়চে ভেলে।

২০১৭ সালে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন আতিস নিজেই৷ তবে প্রচলিত মসজিদগুলোর সঙ্গে এর পার্থক্য হচ্ছে যে-কোনো মানুষই সেখানে প্রবেশ করতে পারেন৷ একসঙ্গেই প্রার্থনায় অংশ নিতে পারেন নারী-পুরুষ৷ 

এই মসজিদের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো কোনো নারীকে সেখানে মুখ ঢেকে প্রবেশ করতে হয় না৷ আতিস ২০১৭ সালে জার্মানির স্পিগেল পত্রিকাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন. ‘‘আমাদের মসজিদে কাউকে নিকাব বা বোরকা পরে আসতে হবে না৷’’

আতিসের এই সামাজিক আন্দোলনের জন্য তাকে সম্মাননা জানিয়েছে বার্লিনের বিখ্যাত সাংস্কৃতিক ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান উরানিয়া৷ ২৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় এক আয়োজনের মধ্য দিয়ে তার হাতে পদকটি তুলে দেওয়া হয়৷

১৩০ বছরের পুরোনো প্রতিষ্ঠানটি বিজ্ঞান নিয়ে মানুষের মধ্যে আলোচনার ক্ষেত্র তৈরিতে ভূমিকা রেখে আসছে৷ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে সেখানে বক্তৃতা, কনসার্ট বা প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়৷ তাদের বক্তাদের তালিকায় রয়েছেন আলবার্ট আইনস্টাইন, টোমাস মান, আঙ্গেলা ম্যার্কেল, সিমন রাটলের মতো বিখ্যাতরা৷

এবারের উরানিয়া পদক পাওয়া সাইমন আতিস ১৯৬৩ সালে তুরস্কের ইস্তাম্বুলে জন্ম নেন৷ চার বছর বয়স থেকেই তিনি জার্মানিতে বসবাস করছেন৷ ইসলামে মুক্ত চিন্তার লড়াই, নারীদের সমান অধিকার, উদার মসজিদ প্রতিষ্ঠার জন্য এরইমধ্যে আলোচিত হয়ে উঠেছেন তিনি৷ নিজ সম্প্রদায়ের অনেকের সমর্থন যেমন পাচ্ছেন, তেমনি আবার পাচ্ছেন হুমকিও৷ যে কারণে তাকে সার্বক্ষণিক পুলিশি নিরাপত্তায় থাকতে হয়৷