• সোমবার, জানুয়ারী ২০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫ রাত

ভারতের রাজ্যসভায় উঠছে নাগরিকত্ব বিল

  • প্রকাশিত ১২:৩৮ দুপুর ডিসেম্বর ১১, ২০১৯
ভারতের লোকসভায় অমুসলিম শরনার্থীদের নাগরিকত্ব বিল পাশ
ভারতের লোকসভায় অমুসলিম শরনার্থীদের নাগরিকত্ব বিল পাশ, বিরোধীদলগুলোর বিক্ষোভ। ছবি: সংগৃহীত

বিতর্কিত এ বিলটি পাস হওয়ার বিষয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী দেশটির ক্ষমতাসীন দল বিজেপি

ভারতের লোকসভায় পাস হওয়া বিতর্কিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলটি ভোটাভুটির জন্য ভারতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ রাজ্যসভায় উঠতে পারে আজ। এক প্রতিবেদনে এতথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদ মাধ্যম এনডিটিভি।

বিতর্কিত এই বিলটি পাস হওয়ার বিষয়ে যথেষ্ট আত্মবিশ্বাসী দেশটির ক্ষমতাসীনদল বিজেপি। আর সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলেই রাজ্যসভায় বিলটি পাস হয়ে তা আইনে পরিণত হবে। এক সূত্রের বরাতে এ তথ্যও দেওয়া হয়েছে প্রতিবেদনটিতে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রাজ্যসভার ২৪০টি আসনের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে ১২১টি ভোট পেতে হবে। তবে বিজেপি ও তার শরিকদল ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক জোটের(এনডিএ) অল ইন্ডিয়া, আন্না দ্রাভিদা মুন্নেত্রা কাঝাগাম (এআইএডিএমকে), জনতা দল ইউনাইটেড, আকেলি দলসহ ১১৬টি সিট রয়েছে। অন্যান্য দল থেকে নির্বাচিত আরও ১৪ জন রাজ্যসভা সদস্যের ভোট পাওয়ার আশা করছে দলটি। তাহলে তাদের হিসাব দাঁড়ায় ১৩০ এ। যা রাজ্যসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। 

এর আগে সোমবার (৯ ডিসেম্বর) নিম্নকক্ষে বিলটি পেশ হওয়ার পরই প্রতিবাদ করে কংগ্রেস। বিলটির পক্ষে ভোট পড়ে ৩১১টি। অপর দিকে বিপক্ষে ভোট দিয়েছেন ৮০ জন। 

নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল-২০১৯'এ বলা হয়েছে, বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও আফগানিস্তান থেকে ভারতে যাওয়া  হিন্দু, খ্রিস্টান, শিখ, জৈন, বৌদ্ধ ও পার্সি সম্প্রদায়ের শরণার্থীদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। তবে সেখানে মুসলিমদের বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। 

এর আগে ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইনে উল্লেখ ছিল, কমপক্ষে ১১ বছর ভারতে থাকলেই কেবল কোনো ব্যক্তিকে নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। নতুন বিলে ওই সময় কমিয়ে ছয়বছর করা হয়েছে। 

এদিকে বিলটি নিয়ে বিরোধীদের অভিযোগ, সেটি ভারতের সংবিধানের ধর্ম নিরপেক্ষতাকে লঙ্ঘন করে। এছাড়া সেখানে ইচ্ছাকৃতভাবে শুধু অমুসলিমদের নাগরিকত্বের বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ভারতের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বলেছেন, এর মাধ্যমে সংবিধানের কোনো অবমাননা হবে না বরং শরণার্থীদের মুক্তি দেওয়ার একমাত্র রাস্তা হলো এই বিল।

সোমবার সকাল থেকেই বিলটির প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে ওঠে বাংলাদেশ সংলগ্ন ভারতীয় রাজ্য আসাম ও ত্রিপুরা। এই বিল আগেও একবার পার্লামেন্টে পেশ করা হয়। তবে সেসময় আসামসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলজুড়ে বিক্ষোভের মুখে সেটি পাস করানো যায়নি।