• সোমবার, জানুয়ারী ২০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪৫ রাত

আসামে কারফিউ ভেঙে বিক্ষোভ, পুলিশের গুলিতে নিহত ৩

  • প্রকাশিত ১০:৪৮ রাত ডিসেম্বর ১২, ২০১৯
আসাম
আসামে বিক্ষোভকারীদের দিকে গুলি ছুঁড়ছেন এক পুলিশ সদস্য। এএফপি

বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। এতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়

ভারতের উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলের (সিএবি) প্রতিবাদে কারফিউ ভেঙে বিক্ষোভ করেছেন হাজার হাজার মানুষ। এ সময় পুলিশের গুলিতে অন্তত ৩ জন নিহত হয়েছে। এ ছাড়া আরো বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (১২ ডিসেম্বর) বিকালে রাজ্যের রাজধানী গুয়াহাটিতে এ ঘটনা ঘটে।

প্রতিবেশী দেশগুলো থেকে আসা অমুসলিমদের নাগরিকত্ব দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা বিলটি ভারতীয় সংসদের উভয় কক্ষে পাস হয়েছে। এ বিলের প্রতিবাদেই বিক্ষোভে নামেন হাজারো মানুষ।

আসামের বিক্ষোভকারীরা শঙ্কিত যে নতুন আইনের ফলে অভিবাসীরা এসে সেখানকার আধিবাসী জনগোষ্ঠীর সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব খর্ব করে দেবে।

এর আগে সকালে গুয়াহাটিতে বিক্ষোভকারীরা কারফিউ ভেঙে রাস্তায় নেমে আসেন ও টায়ারে আগুন দেন। পরে পুলিশ তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

সংবাদ সংস্থা প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা টেলিফোন লাইন উপড়ে ফেলার পাশাপাশি কয়েকটি বাস ও অন্যান্য গাড়ি পুড়িয়ে দেয়। সেই সাথে তারা ক্ষমতাসীন জাতীয় দল বিজেপি ও রাজ্য দল আসাম গণ পরিষদের নেতাদের বাড়িতে হামলা চালায়। রাজ্যের ৩৩ জেলার ১০টিতে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিপেটা ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। এতে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ শুরু হয়। এ সময় পুলিশের গুলিতে অন্তত ৩ জন নিহত হয়।

গুয়াহাটি ও ডিব্রুগড়সহ সহিংসতায় আক্রান্ত জেলাগুলোতে পুলিশকে সাহায্য করতে সেনারা সড়কে টহল দিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন রাজ্য পুলিশের প্রধান ভাস্কর মহান্ত।

গত সোমবার (০৯ ডিসেম্বর) ভারতের লোকসভায় পাসের পর বুধবার (১১ ডিসেম্বর) রাজ্যসভায়ও পাস হয়ে যায় বহুল আলোচিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল। এখন আনুষ্ঠানিকতার খাতিরে রাষ্ট্রপতির সই পাওয়ার পর বিলটি আইনে পরিণত হবে।

এদিকে, আগামী রবিবার গুয়াহাটিতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সাথে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবের। তবে আবের সফর সম্পর্কে এখনো ভারতের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। ভারতীয় গণমাধ্যম বলছে, চলমান বিক্ষোভের কারণে দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের জায়গা গুয়াহাটি থেকে সরিয়ে অন্য কোনো শহরে নেওয়া হতে পারে।

ধর্মীয় নিপীড়নের কারণে ২০১৫ সালের আগে পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও বাংলাদেশ ছেড়ে যাওয়া বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, হিন্দু, জৈন, পার্সি ও শিখদের ভারতীয় নাগরিকত্ব দিতে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল আনা হয়েছে। তবে এতে মিয়ানমারে নিপীড়ন থেকে পালানো রোহিঙ্গা মুসলিম উদ্বাস্তুদের জন্য কোনো সুবিধা রাখা হয়নি।