• মঙ্গলবার, মার্চ ৩১, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:২১ রাত

এবার ইরাককে হুমকি দিলেন ট্রাম্প

  • প্রকাশিত ১০:০৮ রাত জানুয়ারী ৬, ২০২০
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এএফপি

সোলায়মানি হত্যার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ছাড়িয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বে

ইরাকে অবস্থানরত মার্কিন সেনাদের দেশটি ত্যাগ করতে বাধ্য করলে ইরাকের ওপর একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে বলে হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ইরাকের পার্লামেন্টে এক অধিবেশনে এ বিষয়ে প্রস্তাবনা পাসের পর সোমবার (৬ জানুয়ারি) এমন হুমকি দিলেন তিনি। 

রোববার (৫ জানুয়ারি) ইরাকি পার্লামেন্টে দেশটিতে মার্কিন সেনা অবস্থান বন্ধ করতে একটি প্রস্তাবনা পাস হয়। এর আগে ৩ জানুয়ারি দেশটির রাজধানী বাগদাদে ইরানের কুদস্‌ ফোর্সের প্রধান কাসেম সোলায়মানি মার্কিন হামলায় নিহত হওয়ার পর পার্লামেন্টে ওই বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়।  

সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, "সেখানে (ইরাক) আমাদের অনেক ব্যয়বহুল বিমান ঘাঁটি রয়েছে। এগুলো নির্মাণ করতে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে। তারা আমাদের এই খরচের অর্থ পরিশোধ না করলে আমরা দেশটি ত্যাগ করবো না।"  

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, "ইরাক যদি আমাদের অবন্ধুত্বসুলভ কৌশলে চলে যেতে বলে, তাহলে আমরা এমন সব নিষেধাজ্ঞা দেবো যা তারা আগে কখনো দেখেনি।" 

সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়, বর্তমানে ইরাকের বিভিন্ন ঘাঁটিতে ৫ হাজার মার্কিন সেনা সদস্য রয়েছেন। এর আগেও দেশটির প্রধানমন্ত্রী আদেল আবদুল মাহদি ইরাক থেকে বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের প্রস্তাব এনেছিলেন। আবদুল মাহদির পর ইরাকের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পাওয়ার দিক দিয়ে এগিয়ে রয়েছেন হাদি আল-আমিরি। তিনিও শনিবার (৪ জানুয়ারি) মার্কিন সেনাদের ইরাক ত্যাগের পক্ষে নিজের মত দিয়েছেন।  

সোলায়মানি হত্যার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র ছাড়িয়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে মধ্যপ্রাচ্যসহ সারা বিশ্বে। দেশ দু'টি একে-অপরকে পাল্টাপাল্টি হুমকিও দিয়েছে। এর জের ধরে বিশ্বজুড়ে বড় ধরনের বিভেদ ও সংঘাতের আশঙ্কাও করছেন অনেকে। আবার অনেকে মনে করছেন, ইরান তার চরিত্র বজায় রেখে সরাসরি সংঘাতে না জড়িয়ে ছায়াযুদ্ধ চালিয়ে যাবে, যার ফল হবে আরও শক্তিশালী। গতকাল ইরাকের পার্লামেন্টে ওই প্রস্তাবনা পাসের মধ্য দিয়ে ইরানের ছায়া যুদ্ধ শুরু হয়েছে বলে ধারণা অনেকের।  

এদিকে ইরানের রাজধানী তেহরান বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে স্থানীয় সময় সকাল সাড়ে ৯টায় অনুষ্ঠিত হয় সোলায়মানির জানাজা। নামাজে ইমামতি করেন দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিল লাখো মানুষ।