• শনিবার, জানুয়ারী ১৮, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:২১ দুপুর

ধর্ষকদের ফাঁসির টাকায় মেয়ের বিয়ে দেবেন জল্লাদ

  • প্রকাশিত ০৪:৩৮ বিকেল জানুয়ারী ১১, ২০২০
ফাঁসি

জল্লাদ পবন বলেন, 'মাসের পর মাস ধরে আমি এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম' 

ভারতের দিল্লিতে নির্ভয়াকে ধর্ষণ ও হত্যাকাণ্ডের দায়ে সাজা পাওয়া চার ধর্ষককে ফাঁসিতে ঝোলানোর বিনিময়ে পাওয়া অর্থ দিয়ে মেয়ের বিয়ে দেবেন বলে জানিয়েছেন পবন (৫৭) নামের এক জল্লাদ। বর্তমানে ওই চারজন উত্তর প্রদেশ রাজ্যের একটি কারাগারে বন্দি রয়েছেন। 

জল্লাদ পবন বলেন, আমি যদি চার ধর্ষককে ফাঁসিতে ঝোলাই, তাহলে সরকার আমাকে ১ লাখ রুপি পুরস্কার দেবে। মেয়ের বিয়ে দেওয়ার জন্য আমার এই অর্থের দরকার। মাসের পর মাস ধরে আমি এই সুযোগের অপেক্ষায় ছিলাম। শেষ পর্যন্ত ভগবান আমার প্রার্থনা শুনেছেন।" 

আগামী ২২ জানুয়ারি চার অপরাধীকে ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন ভারতের আদালত। এ নিয়ে বেশ ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন পবন। তিনি বলেন, "তারা (কর্মকর্তা) আমাকে বলেছে যে কোনো দিন আমাকে তিহারে নিয়ে যাওয়া হবে। হতে পারে সেটা পরশু বা তার পর। ফাঁসিটা যেন সুষ্ঠুভাবে হয় সেজন্য রিহার্সালের প্রয়োজন রয়েছে। তাই আমাকে কিছুটা আগেই সেখানে যেতে হবে।   

বার্তা সংস্থা আইএএনএস জানায়, পবন তার পরিবারের চতুর্থ প্রজন্মের জল্লাদ। এর আগেও তার পূর্বপুরুষরা একই কাজ করেছেন। উত্তর প্রদেশের কারা কর্তৃপক্ষ তাকে প্রতি মাসে ৫ হাজার টাকা বেতন দেয়। এর পাশাপাশি আর কোনো আয়ও নেই তার। কোনো অপরাধীকে ফাঁসিতে ঝোলালেই আলাদাভাবে কিছু অর্থ তার হাতে আসে। এ কারণেই মেয়ের বিয়ের অর্থ সংস্থান নিয়ে বেশ চিন্তিত ছিলেন তিনি।  

জানা গেছে, প্রতিটি ফাঁসির জন্য জল্লাদকে ২৫ হাজার রুপি পুরস্কার দেয় ভারত সরকার। 

২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বর রাতে দিল্লিতে চলন্ত বাসে ২৩ বছরের তরুণী নির্ভয়াকে গণধর্ষণ করে সাজাপ্রাপ্ত চার ব্যক্তি। গণধর্ষণের পর বাস থেকে ছুঁড়ে ফেলে দেওয়া হয় তাকে। 

২০১৩ সালের সেপ্টেম্বরে নির্ভয়াকে গণধর্ষণ করে হত্যার দায়ে ছয় আসামির মধ্যে চারজনের ফাঁসির আদেশ দেয় দিল্লির ফাস্ট ট্র্যাক কোর্ট। ২০১৪ সালে দিল্লি হাইকোর্ট চারজনের ফাঁসির আদেশ বহাল রাখে।

২০১৭ সালে সেই রায় পুনর্বিবেচনা করে দেখতে আদালতে আর্জি জানিয়েছিল অন্যতম অভিযুক্ত অক্ষয় ঠাকুর সিং। তবে সেই আবেদন খারিজ করা হয়।