• শনিবার, জানুয়ারী ১৮, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:২১ দুপুর

শীতের বৈরীতা: ভারত-পাকিস্তান-আফগানিস্তানে ১২৪ জনের মৃত্যু

  • প্রকাশিত ০৭:৪৪ রাত জানুয়ারী ১৪, ২০২০
পাকিস্তান-শীত-বরফ
সোমবার পাকিস্তানের কোয়েটার মারিয়াবাদ এলাকা ঢেকে ছিল পুরু বরফে রয়টার্স

প্রবল তুষারপাতের কারণে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আক্রান্ত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে কর্তৃপক্ষের

প্রকৃতির বিরূপভাব জাঁকিয়ে বসেছে উপমহাদেশে। গত কয়েকদিনে হিমবাহ, বন্যা ও শীতের প্রকোপে ভারত, পাকিস্তান ও আফগানিস্তানে কেড়ে নিয়েছে ১২৪ জনের প্রাণ।

বার্তা সংস্থা এএফপি ও রয়টার্সের প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, সোমবার (১৩ জানুয়ারি) দেশগুলোর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এমন তথ্য জানালেও প্রবল তুষারপাতের কারণে বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই আক্রান্ত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছাতে বেগ পেতে হচ্ছে তাদের।

আবহাওয়ার বৈরীতায় এখন পর্যন্ত পাকিস্তানে মারা গেছেন ৭৫ জন, আহত ৬৪ জন। এছাড়া, নিখোঁজ রয়েছেন আরও অনেকে। আর বৈরী আবহাওয়া আফগানিস্তানে কেড়ে নিয়েছে ৩৯ জনের প্রাণ। দুই দেশের সরকারি কর্তৃপক্ষের বরাতে এসব তথ্য জানা গেছে।

পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতেও জাঁকিয়ে বসেছে শীত। হিমবাহে দেশটির উত্তরাঞ্চলীয় এলাকা কাশ্মীরে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১০ জন। তাদের মধ্যে ৫ জন ভারত-পাকিস্তান সীমান্তে দায়িত্বরত সেনা সদস্য বলে জানিয়েছেন ভারতীয় পুলিশের এক কর্মকর্তা।

শংকার বিষয় হলো, সামনের কয়েকদিনের পূর্বাভাস আরও অসহনীয় আবহাওয়ার জানান দিচ্ছে।

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের অবস্থা সবচেয়ে ভয়াবহ। দেশটির ন্যাশনাল ডিজঅ্যাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত সেখানে মারা গেছেন ৫৫ জন আর নিখোঁজ রয়েছেন ১০ জন। আর ছবির মতো সুন্দর কিন্তু দ্বন্দ্বপূর্ণ এলাকা নিলাম ভ্যালিতে ভারী তুষারপাতের কারণে সৃষ্ট একাধিক হিমবাহ কেড়ে নিয়েছে অন্তত ১৯ জনের প্রাণ।

উল্লেখ্য, শীতকালে কাশ্মীরে হিমবাহ আর ভূমিধসের ঘটনায় কার্যত অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন স্থানীয়রা।

চলতি মৌসুমে অতিরিক্ত শীতে বিদ্যালয়গুলো বন্ধ করে দিয়েছে কর্তৃপক্ষ। বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে আঞ্চলিক আর জাতীয় সড়কগুলো।

আর পাকিস্তানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে মারা গেছেন অন্তত ২০ জন।

প্রাদেশিক দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা বিভাগের কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউনুস বলেন, “মৃতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু।” আরও অন্তত শ'খানেক মানুষ অবরুদ্ধ হয়ে আছেন বলে জানান তিনি।

আফগানিস্তানের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের অন্যতম মুখপাত্র আহমাদ তামিম আজিমি জানান, দেশজুড়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগে অন্তত তিনশ' বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

তিনি বলেন, “দুই সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া তীব্র শীত, ভারী তুষারপাত ও বৃষ্টিপাতের কারণে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।” ঘন তুষারপাতে ছাদ ভেঙে পড়ার কারণেই বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি।

উল্লেখ্য, প্রচণ্ড শীতের তীব্রতা পাহাড়াচ্ছাদিত দেশ আফগানিস্তানে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধন করে। তাই কোটি কোটি ডলার বিদেশি সহায়তা সত্বেও দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থা খারাপই রয়ে যায়।