• বৃহস্পতিবার, ফেব্রুয়ারি ২০, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩০ সকাল

সহসাই চালু হচ্ছে না ঢাকা-সিকিম, ঢাকা-দার্জিলিং বাস সার্ভিস

  • প্রকাশিত ০৪:৫৪ বিকেল জানুয়ারী ১৫, ২০২০
গ্যাংটক, সিকিম, ভারত
এমজি রোড মল রোড, গ্যাংটক, সিকিম, ভারত বিগস্টক

ঢাকা থেকে সড়কপথে সিকিম কিংবা দার্জিলিং যেতে চাইলে শিলিগুড়িই একমাত্র প্রবেশপথ। শিলিগুড়ি থেকে এই দু'টি পর্যটন এলাকায় যাওয়ার সড়ক ইংরেজি ''ওয়াই'' (Y) আকৃতি নিয়ে ক্রমান্বয়ে সরু হয়ে গেছে

ঢাকা থেকে ভারতের সিকিম ও ঢাকা থেকে দার্জিলিং রুটে সরাসরি বাস সার্ভিস চালু করা সম্ভব হচ্ছে না বলে সরকারের এক সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, “ভারতের শিলিগুড়ির পর থেকে ঢাকা-সিকিম ও ঢাকা-দার্জিলিং রুটের সড়ক খুবই সরু এবং ঝুঁকিপূর্ণ বাঁক থাকায় এই রুটে সরাসরি বাস চালু করা সম্ভব না। তবে অন্যদিকে, ঢাকা থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত সড়ক অপেক্ষাকৃত চওড়া ও কম ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ায় এই রুটে সরাসরি বাস চালু করা সম্ভব।”

প্রসঙ্গত, ঢাকা থেকে সড়কপথে সিকিম কিংবা দার্জিলিং যেতে চাইলে শিলিগুড়িই একমাত্র প্রবেশপথ। শিলিগুড়ি থেকে এই দু'টি পর্যটন এলাকায় যাওয়ার সড়ক ইংরেজি ''ওয়াই'' (Y) আকৃতি নিয়ে ক্রমান্বয়ে সরু হয়ে গেছে।

তাই ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ সিকিমের জনপ্রিয় পর্যটন শহর গ্যাংটকে যেতে ইচ্ছুক বাংলাদেশি পর্যটকদেরকে ছোট আকৃতির বাসে ভ্রমণের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে সরকারের সাম্প্রতিক ওই প্রতিবেদনে।

যদিও কয়েকমাস আগেই ঢাকা-সিকিম ও ঢাকা-দার্জিলিং রুটে সরাসরি বাস সার্ভিস চালুর বিষয়ে একমত হয়েছিল দুই দেশের সরকার।

এই সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে গতবছরের ১২ ডিসেম্বর পরীক্ষামূলকভাবে একদল পর্যবেক্ষকসহ দু'টি বাস ঢাকা থেকে ছেড়ে দার্জিলিং ও সিকিমে যায়। যার তত্ত্বাবধানে ছিল বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্পোরেশন (বিআরটিসি)। পর্যবেক্ষকদের নিয়ে বাস দু'টি ১৬ ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরে আসে।

ওই পর্যবেক্ষকদল সম্প্রতি তাদের অভিজ্ঞতার আলোকে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দেয়। তাদের পর্যবেক্ষণ ভারতীয় সরকারের কাছে তুলে ধরার জন্যও বলা হয়েছে।

সেখানে বলা হয়, সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে সাতহাজার ফিট উচ্চতায় অবস্থিত দার্জিলিংয়ের সড়কগুলো খুবই সরু ও ঝুঁকিপূর্ণ বাঁকযুক্ত হওয়ায় এই রুটে সরাসরি বাস সার্ভিস চালু করা সম্ভব নয়। একইভাবে গ্যাংটকের রাস্তাও খুব একটা চওড়া নয়।

এমতাবস্থায়, কেবলমাত্র ঢাকা-শিলিগুড়ি রুটে সরাসরি বাস সার্ভিস চালুর পরামর্শ দিয়েছে পর্যবেক্ষকদলটি।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বাস সার্ভিস চালু থাকলেও তা সরাসরি নয়। সীমান্তে বাস বদল করতে হয় পর্যটকদের। কিন্তু নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে শিলিগুড়ি পর্যন্ত আর বাস পরিবর্তনের প্রয়োজন হবে না।

বিআরটিসি চেয়ারম্যান আহসান ইলাহী জানান, “ভারতের ভ্রমণকেন্দ্রগুলোতে যাতায়াত সহজ করার জন্য আমরা দ্বিপাক্ষিক চুক্তির সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ইতোমধ্যে ভারতীয় সরকারের কাছে এবিষয়ে একটি প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে।”

ঢাকা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, “ভারত এই চুক্তিতে সম্মতি দিলে দুইদেশকে একটি প্রটোকলেও স্বাক্ষর করতে হবে।”

তবে, এমন চুক্তি ও প্রটোকলের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে সাধারণত তিনমাস পর্যন্ত সময় লেগে যায় বলে ঢাকা ট্রিবিউনকে জানিয়েছেন আঞ্চলিক সংযোগ স্থাপন রূপকল্পের অন্যতম সদস্য চন্দন কুমার দে।