• সোমবার, ফেব্রুয়ারি ২৪, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৪০ রাত

বাণিজ্যযুদ্ধ বন্ধে অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যচুক্তি

  • প্রকাশিত ০২:৫৩ দুপুর জানুয়ারী ১৬, ২০২০
বাণিজ্যচুক্তি
বাণিজ্যযুদ্ধ বন্ধে অবশেষে যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যচুক্তি সই সংগৃহীত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, মার্কিন অর্থনীতি এর প্রভাবে যথেষ্ট “পরিবর্তনশীল” হবে। অন্যদিকে, চীনের পক্ষ থেকে চুক্তিটিকে দুইপক্ষের জন্যই একটি ‘লাভজনক’ অবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে

বহু জল ঘোলা হওয়ার পর শেষপর্যন্ত বাণিজ্যযুদ্ধ বন্ধে একটি চুক্তিতে ঐকমত্য হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র ও চীন। যারফলে বিশ্ব অর্থনৈতিক পরিস্থিতির টালমাটাল অবস্থার উন্নতি ঘটবে বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 

ওয়াশিংটনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, মার্কিন অর্থনীতি এর প্রভাবে যথেষ্ট “পরিবর্তনশীল” হবে। বুধবার (১৫ জানুয়ারি) বিবিসি তাদের এক প্রতিবেদনে এখবর জানায়।

এদিকে, চীনের পক্ষ থেকে চুক্তিটিকে দুইপক্ষের জন্যই একটি “লাভজনক” অবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এছাড়া চীন মনে করছে, এই চুক্তির ফলে দুইদেশের সম্পর্কতেও উন্নতি ঘটবে।

চুক্তিতে মার্কিন পণ্যসামগ্রী আমদানির পরিমাণ বাড়াবে চীন। ইতোমধ্যে আগামী দুইবছরে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বাড়তি ২০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য ও সেবা কেনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে বেইজিং। এর বিপরীতে চীনের ওপর আরোপিত কিছু শুল্ক স্থগিত রাখতে সম্মত হয়েছে ওয়াশিংটন।

অবশ্য সীমান্তকরের বিষয়ে এখনও কোনও সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত আসেনি। তাই ব্যবসায়ী জোটগুলোর পক্ষ থেকে এবিষয়ে আরও আলোচনার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

মার্কিন চেম্বার অব কমার্সের চীনা সেন্টারের প্রেসিডেন্ট জেরেমি ওয়াটারম্যান বলেন, “সামনে আমাদের এটা নিয়ে আরও অনেক কাজ করতে হবে। মোদ্দাকথা হলো, আজ এটা নিয়ে উদযাপন করা হলেও এরপরের ধাপের জন্য আবারও আলোচনার টেবিলে খুব বেশি দেরি হবে না।”

এর আগে, চীনের সঙ্গে বিপুল বাণিজ্যঘাটতি কমিয়ে আনতে ২০১৮ সাল থেকে দেশটির রফতানি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক বসায় যুক্তরাষ্ট্র। পাল্টা জবাবে মার্কিন পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক বসায় চীনও। এরপরই দুইদেশের মধ্যে বাণিজ্যযুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করে। 

ওয়াশিংটনে চুক্তিস্বাক্ষর অনুষ্ঠানে  বহু রিপাবলিকান শীর্ষ অনুদানকারী ও ব্যবসায়িক নেতার সমাগম ছিলো। ট্রাম্প সেখানে বলেন, চীনের সাথে একটি শক্তিশালী সর্ম্প গড়তে চুক্তিটি খুবই গুরুত্ব বহন করবে।

তিনি বলেন, “আমরা দু’পক্ষ একসাথে মিলে আজ অতীতের সব ভুল-ভ্রান্তি শুদ্ধ করে নিচ্ছি এবং একইসাথে ভবিষ্যতের জন্য একটি নিরাপদ অর্থনীতি মজবুত করে যাচ্ছি। চুক্তির গণ্ডি ছাড়িয়ে এটি এখন বিশ্বশান্তিকে শক্তিশালী করতে নেতৃত্ব দেবে।”

অন্যদিকে, চীনের পক্ষ থেকে চুক্তি স্বাক্ষরকারী দেশটির ভাইস প্রিমিয়ার লিউ হি বলেন, “চুক্তিটি মূলত ‘একতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা’ দ্বারা প্রস্তুতকৃত। বিষয়টি এমন নয় যে চীন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে মিলে কাজ করতে পারে না বরং আমরা দুইদেশ প্রতিনিয়তই অসংখ্য বাণিজ্যিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে অংশীদারিত্ব করি। আশাকরি, আমরা দু’পক্ষই চুক্তিটি মেনে চলবো।”