• শুক্রবার, ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১১:০৩ সকাল

ইমরান খান: কাশ্মীরের স্বাধীনতা ইস্যুতে গণভোট আয়োজনে প্রস্তুত পাকিস্তান

  • প্রকাশিত ১২:০৬ দুপুর জানুয়ারী ১৭, ২০২০
ইমরান খান।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। ফাইল ছবি। এএফপি

ইমরান খান বলেন, হংকংয়ে বিক্ষোভের চেয়ে কাশ্মীর ট্র্যাজেডি অনেক বড় ঘটনা হলেও বিশ্ব গণমাধ্যমে তা বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে না৷ কারণ, পশ্চিমাদের কাছে বাণিজ্যিক স্বার্থ বেশি গুরুত্বপূর্ণ

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বলেছেন, তার দেশের নিয়ন্ত্রনাধীন আজাদ কাশ্মীরের বাসিন্দারা পাকিস্তানের সঙ্গে থাকতে চান নাকি স্বাধীনতা চান, সেবিষয়ে তাদেরকেই সিদ্ধান্ত নিতে দেওয়া উচিত৷

বুধবার (১৫ জানুয়ারি) জার্মান গণমাধ্যম ডয়চে ভেলেকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে এমন মন্তব্য করেন তিনি৷ সাক্ষাৎকারটি নেন গণমাধ্যমটির প্রধান সম্পাদক ইনেস পোল।

উল্লেখ্য, গত বছর আগস্টে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল করে৷

এপ্রসঙ্গে ইমরান খান বলেন, ভারতে এখন আরএসএস-এর (রাষ্ট্রীয় স্বেচ্ছাসেবক সংঘ) “হিন্দুত্ববাদী” ভাবাদর্শের জয়জয়কার৷ তিনি বলেন, আরএসএস জার্মানির নাৎসিদের দ্বারা অনুপ্রাণিত৷ আর নাৎসিদের জন্ম হয়েছিল সংখ্যালঘুদের প্রতি ঘৃণা থেকে৷ তেমনিভাবে আরএসএস মতাদর্শও মুসলমানসহ অন্যান্য সংখ্যালঘুদের প্রতি ঘৃণার ওপর দাঁড়িয়ে আছে৷

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী বলেন, এটা ভারত ও তার প্রতিবেশী দেশগুলোর জন্য একটি ট্র্যাজেডি যে, ভারত এখন আরএসএস দ্বারা পরিচালিত হচ্ছে৷

পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে মানবাধিকার পরিস্থিতি ভালো না থাকার অভিযোগ তোলা হলে ইমরান খান বিশ্বের যে কোনো নাগরিককে প্রথমে সেখানে যাওয়ার আহ্বান জানান৷ এরপর ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে গিয়ে দুই অঞ্চলের তুলনা করে নিজেই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি৷

ইমরান খান বলেন, হংকংয়ে বিক্ষোভের চেয়ে কাশ্মীর ট্র্যাজেডি অনেক বড় ঘটনা হলেও বিশ্ব গণমাধ্যমে তা বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে না৷ এর কারণ হিসেবে তিনি বলেন, দুঃখজনক হলেও সত্য যে, পশ্চিমাদের কাছে বাণিজ্যিক স্বার্থ বেশি গুরুত্বপূর্ণ৷ ভারত একটি বড় বাজার৷ তাই কাশ্মীরের প্রায় ৮০ লাখ মানুষ ও ভারতে সংখ্যালঘুদের প্রতি কী ঘটছে, তা নিয়ে পশ্চিমাদের বেশি প্রতিক্রিয়াশীল হতে দেখা যায় না৷ ভারতে সম্প্রতি পাস হওয়া নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন সেদেশের সংখ্যালঘু, বিশেষ করে ২০ কোটি মুসলমানের, পুরোপুরি বিপক্ষে হলেও শুধুমাত্র বাণিজ্যিক কারণে বিশ্ববাসী চুপ রয়েছে৷

ভারত ও কাশ্মীরের মানবাধিকার পরিস্থিতির কট্টর সমালোচক হলেও চীনে উইঘুর মুসলমানদের পরিস্থিতি নিয়ে ততটা সমালোচনা না করার কারণও জানতে চাওয়া হয়েছিল ইমরান খানের কাছে৷

তিনি বলেন, এর মূল কারণ দুটি৷ প্রথমত, ভারতে যা ঘটছে, তার সঙ্গে চীনে উইঘুরদের সঙ্গে যা করা হচ্ছে, তার তুলনা করা যাবে না৷ দ্বিতীয়ত, চীন পাকিস্তানের খুবই ভালো বন্ধু৷ পাকিস্তানের সবচেয়ে কঠিন অর্থনৈতিক সংকটে চীন সহায়তা করেছে৷ ফলে এই বিষয়গুলো চীনের সঙ্গে গোপনে আলোচনা করা হয়, প্রকাশ্যে নয়৷ কারণ বিষয়গুলো স্পর্শকাতর৷