• রবিবার, ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪২ রাত

ভারতে সিএএ: ইউরোপীয় পার্লামেন্টে নিন্দা প্রস্তাব

  • প্রকাশিত ০৯:২৪ সকাল জানুয়ারী ২৬, ২০২০
সিএএ
মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) রাতে সিএএ নিয়ে প্রতিবাদরত নারীদের মারধর করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ সংগৃহীত

প্রস্তাবে অভিযোগ করা হয়েছে, সিএএ মানবাধিকার, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার রক্ষা এবং সবধরনের জাতি বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের প্রতি ভারতের দায়বদ্ধতার পরিপন্থী

সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আবারও ধাক্কা খেয়েছে ভারত। এই আইনকে “বিশ্বে রাষ্ট্রহীনতার পক্ষে সবচেয়ে বড় সঙ্কট ও মানুষের দুর্দশার কারণ” আখ্যা দিয়ে একটি প্রস্তাব তৈরি করেছেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের ১৫৪ সদস্য। আগামী সপ্তাহে ব্রাসেলসে পার্লামেন্টের অধিবেশনে এই প্রস্তাব পেশ করা হবে বলে জানিয়েছে আনন্দবাজার। 

প্রস্তাবটিতে আরও বলা হয়েছে, সিএএ ‘‘ভারত সরকারের হিন্দু জাতীয়তাবাদী এজেন্ডাকে তুলে ধরে অত্যন্ত বিপজ্জনক একটি নজির তৈরি করছে।... এই আইনের প্রকৃতিটাই বিভাজনকামী, কারণ এতে অন্য ধর্মীয় গোষ্ঠীগুলোর যে অধিকার তার থেকে মুসলিমদের ক্ষেত্রে বিভেদ ঘটানো হচ্ছে।’’ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী, ইউরোপীয় পার্লামেন্টে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত ২৬টি দেশের সদস্যদের নিয়ে গঠিত প্রগতিশীল এস অ্যান্ড ডি গোষ্ঠীই এই প্রস্তাবের পেছনে রয়েছে। 

প্রস্তাবে অভিযোগ করা হয়েছে, সিএএ মানবাধিকার, নাগরিক ও রাজনৈতিক অধিকার রক্ষা এবং সবধরনের জাতি বৈষম্য দূর করার লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গীকারের প্রতি ভারতের দায়বদ্ধতার পরিপন্থী। জাতিসংঘ রোহিঙ্গাদের সবচেয়ে নিপীড়িত আখ্যা দিলেও সিএএ-তে কেন তাদের বাদ রাখা হল, তোলা হয়েছে সেই প্রশ্ন। ভারতে বসবাসকারী তামিল উদ্বাস্তু, পাকিস্তানের আহমেদি ও হাজারা, বাংলাদেশের বিহারি মুসলিমদের প্রতিও সিএএ বৈষম্যমূলক বলে অভিমত প্রস্তাবটির। 

এস অ্যান্ড ডি’র প্রস্তাবে সিএএ’র বিরুদ্ধে ভারতজুড়ে চলমান প্রতিবাদের প্রসঙ্গও উল্লিখিত হয়েছে। বলা হয়েছে, এই প্রতিবাদের জেরে ২৭জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে এবং আরও ১৭৫জন আহত হন। একইসাথে গ্রেফতার হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। প্রতিবাদের কণ্ঠরোধ করতে ইন্টারনেট বন্ধ করা, কার্ফিউ জারি ও বিশেষ করে উত্তরপ্রদেশে পুলিশি অত্যাচারের কথা তুলে ধরে ভারতকে জাতিসংঘের ঘোষিত নীতি মেনে চলার আহ্বান  জানান ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সদস্যরা।