• বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ০২, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৩ সকাল

আইসিসি: রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতার বিচার হবে

  • প্রকাশিত ০৬:০৮ সন্ধ্যা ফেব্রুয়ারি ৪, ২০২০
আইসিসি-রোহিঙ্গা
আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন আইসিসির প্রসিকিউটর অফিসের ডিরেক্টর ফাকিসো মোচোচোকো। ইউএনবি

রোহিঙ্গাদের ভাগ্যে আসলে কী ঘটেছে যে তারা বাংলাদেশে আসতে বাধ্য হয়েছে, আদালতের পক্ষ থেকে সেটি খুব সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে জানিয়ে মোচোচোকো জোর দিয়ে বলেন, ‘বিচার অবশ্যই হবে’

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন দেরি হলেও রোহিঙ্গাদের ওপর নৃশংসতায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে তদন্ত অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) প্রসিকিউটর অফিসের ডিরেক্টর ফাকিসো মোচোচোকো। 

মঙ্গলবার (০৪ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মোচোচোকো এ তথ্য জানান। 

রোহিঙ্গা পরিস্থিতি দেখতে গত ১ ফেব্রুয়ারি আইসিসির একটি প্রতিনিধি দল বাংলাদেশে আসে। বিভিন্ন রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন শেষে প্রতিনিধি দলটি ফিরে যাবার প্রাক্কালে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মোচোচোকো এ কথা বলেন। 

এর আগে ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে আইসিসির বিচারকরা মিয়ানমার থেকে রোহিঙ্গা জনগণের ওপর সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ তদন্তের জন্য আইসিসি প্রসিকিউটর ফাতৌ বেনসৌদার অনুরোধ অনুমোদন করেন।

রোহিঙ্গা পরিস্থিতি নিয়ে রোমের বিধিমালার অধীনে আইসিসি প্রসিকিউটর কার্যালয়ের (ওটিপি) চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে তিনি বাংলাদেশে এসেছিলেন।

তিনি বলেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন বাংলাদেশ, মিয়ানমার এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের বিষয়। কিন্তু রোহিঙ্গা গণহত্যার অভিযোগের তদন্ত ও বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিষয়। তাই রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন দেরি হলেও মিয়ানমারের বিরুদ্ধে তদন্তকাজ থেকে যাবে না। 

রোহিঙ্গাদের ভাগ্যে আসলে কী ঘটেছে যে তারা বাংলাদেশে আসতে বাধ্য হয়েছে, আদালতের পক্ষ থেকে সেটি খুব সতর্কতার সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে জানিয়ে মোচোচোকো জোর দিয়ে বলেন, “বিচার অবশ্যই হবে।”

তিনি বলেন, আমরা তদন্ত করছি। মিয়ানমার যদি এসে সহযোগিতা না-ও করে তবুও আমাদের তদন্ত কাজ অব্যাহত থাকবে এবং নৃশংসতার জন্য তাদেরকে বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। 

প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের আগস্টে রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে এক কঠোর বিদ্রোহ দমন অভিযান শুরু করে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। এতে গণধর্ষণ, হত্যা ও ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়াসহ জাতিগত নির্মূল অভিযান থেকে বাঁচতে সাত লাখের অধিক রোহিঙ্গা পালিয়ে প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। তবে অতীতের বিভিন্ন সময় মিলিয়ে বর্তমানে ১১ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশ অবস্থান করছে।