• সোমবার, ফেব্রুয়ারি ১৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৩৪ রাত

করোনাভাইরাসে সৃষ্ট রোগের নতুন নাম ‘কোভিড-১৯’

  • প্রকাশিত ১২:১৬ দুপুর ফেব্রুয়ারি ১২, ২০২০
করোনাভাইরাস
রয়টার্স

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বলেন, ‘আমাদের এমন একটি নাম খুঁজতে হয়েছে যেটি কোনো বিশেষ ভৌগলিক অঞ্চল, কোনো প্রাণী, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দিকে ইঙ্গিত করে না, পাশাপাশি যা সহজে উচ্চারণযোগ্য এবং নতুন ভাইরাসটির সাথেও যার সম্পর্ক আছে’

নতুন করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট রোগের আনুষ্ঠানিক নাম “কোভিড-১৯” বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা।

জেনেভায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান টেড্রস আধানম গ্যাব্রিয়েসুস সাংবাদিকদের বলেন, “এখন রোগটির একটি নতুন নাম রয়েছে আমাদের কাছে। সেটি হলো কোভিড-১৯। এটি করোনাভাইরাস ডিজিজ-২০১৯ এর সংক্ষিপ্ত রূপ।” খবর বিবিসি'র।

চীনে করোনাভাইরাসে মৃত্যুর সংখ্যা একহাজার ছাড়ানোর পর এই ঘোষণা এলো।

এদিকে আগ্রাসীভাবে নতুন এই ভাইরাসের মোকাবিলা করার জন্য বিশ্বের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ড. গ্যাব্রিয়েসুস।

করোনাভাইরাস শব্দটি রোগ সৃষ্টিকারী নতুন ভাইরাসটিকে উল্লেখ না করে ওই গ্রুপের সব ভাইরাসকে ইঙ্গিত করে।

ভাইরাসের নাম প্রদানকারী আন্তর্জাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল কমিটি অব ট্যাক্সনমি অব ভাইরাসেস এটিকে “সার্স-সিওভি-২” হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে।

কোনো বিশেষ গ্রুপ অথবা দেশকে কেন্দ্র করে যেন ভীতি না ছড়ায়, তা নিশ্চিত করতে ভাইরাসটির আনুষ্ঠানিক একটি নাম দেওয়ার জন্য আগে থেকেই আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন গবেষকরা।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান বলেন, “আমাদের এমন একটি নাম খুঁজতে হয়েছে যেটি কোনো বিশেষ ভৌগলিক অঞ্চল, কোনো প্রাণী, ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর দিকে ইঙ্গিত করে না, পাশাপাশি যা সহজে উচ্চারণযোগ্য এবং নতুন ভাইরাসটির সাথেও যার সম্পর্ক আছে।”

তিনি বলেন, “একটি নির্দিষ্ট নাম থাকলে ভুল বা অপবাদসূচক কোনো নাম ব্যবহার করা থেকে বিরত থাকা সম্ভব। ভবিষ্যতে করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঘটনা ঘটলেও একটি নাম থাকলে সেটিকে নির্দিষ্টভাবে ব্যবহার করা সম্ভব।”

নতুন নামটি তৈরি করা হয়েছে “করোনা”, “ভাইরাস” ও “রোগ” শব্দগুলো থেকে। ২০১৯ দ্বারা রোগটির ছড়িয়ে পড়ার বছর বোঝানো হয়েছে।

এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, চীনে বর্তমানে ৪৪ হাজার ৬৫৩ জন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে। মৃতের সংখ্যাও ২০০২-০৩ সালে সার্স মহামারিতে হওয়া মৃতের সংখ্যাকেও ছাড়িয়েছে।

শুধু চীনের হুবেই প্রদেশেই সোমবার ১০৩ জন মারা গেছে, যা একদিনে মারা যাওয়া হিসেবে রেকর্ড। চীনে সবমিলিয়ে মৃতের সংখ্যা এখন এক হাজার ১১০ জনের বেশি।

তবে নতুন করে সংক্রমণের হার দ্বিতীয়দিনের মতো কমেছে। এদিন সংক্রমণের সংখ্যা দুই হাজার ১৫জনে দাঁড়িয়েছে।

রোগটি যখন প্রথম ছড়িয়ে পড়ে, তখন এটি সম্পর্কে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি এমন অভিযোগে বলে চীনের কর্তৃপক্ষের সমালোচনা হচ্ছে।

শুরুর দিকে করোনাভাইরাস সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন এক চিকিৎসক, যার সতর্কবার্তা গোপন করার চেষ্টা করেছিল চীনের কর্তৃপক্ষ। সম্প্রতি ওই চিকিৎসক মারা যাওয়ার পর চীনে ব্যাপক সমালোচনার তৈরি হয়।

রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পারায় এরইমধ্যে বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাকে “অপসারণ” করেছে বেইজিং, যাদের মধ্যে রয়েছে হুবেই স্বাস্থ্য কমিশনের দলীয় সম্পাদক ও কমিশনের প্রধান। এখন পর্যন্ত পদ থেকে অপসারিত হওয়া সবচেয়ে জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা তারাই।

করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবিলা নিয়ে আলোচনা করতে সারাবিশ্বের বিজ্ঞানীরা জেনেভায় বৈঠক করছেন।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রধান মন্তব্য করেছেন যে এখনও যথেষ্ট পরিমাণ ব্যবস্থা নেয়া হলে এই রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

চীনের নেয়া পদক্ষেপ এই রোগকে “বিশ্বের অন্যান্য জায়গায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়া থেকে বিরত রেখেছে” বলে মন্তব্য করে তাদের পদক্ষেপের প্রশংসা করেন তিনি।

মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ সতর্ক করেছে যে, চীনের অর্থনীতিতে টানাপোড়েনের প্রভাব সারাবিশ্বের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে।