• রবিবার, এপ্রিল ০৫, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৭:৩৩ রাত

স্বামীর চিকিৎসার খরচ যোগাতে শাড়ি পরে ম্যারাথন জিতে চলছেন লতা

  • প্রকাশিত ০২:৪২ দুপুর ফেব্রুয়ারি ২১, ২০২০
লতা ভগবান
ছবি: সংগৃহীত

শখ নয়, পেটের টানে-প্রাণের টানে দৌড়ে নামা লতার গতি যে কোনো প্রশিক্ষিত অ্যাথলেটকেও হার মানাতে সক্ষম

২০১৩ সাল। ভারতের মহারাষ্ট্রের বারামতিতে আয়োজন করা হয়েছে তিন কিলোমিটারের ম্যারাথন দৌড় প্রতিযোগিতার। দামি পোশাক, স্পোর্টস শু পরে সেখানে অংশ নিয়েছেন প্রতিযোগীরা।

বিশেষ কায়দায় পুরনো শাড়ি পরে, খালি পায়ে রোগা শরীর নিয়ে ৬১ বছরের বৃদ্ধা সেদিন শেষপর্যন্ত গতিতে হারিয়ে দিয়েছিলেন চকচকে পোশাকের প্রতিযোগীদের। ম্যারাথন জিতে রাতারাতিই খবরের শিরোনামে চলে আসেন লতা ভগবান কারে। তবে সবার নজর “বেমানান” কিন্তু আত্মবিশ্বাসে ভরপুর এক বৃদ্ধার দিকে। তার জীবনী নিয়ে নির্মিত হচ্ছে চলচ্চিত্র।

২০২০ সাল। লতার বয়স এখন ৬৮। তবে থামেনি তার দৌড়। মহারাষ্ট্রের যে কোনো জায়গায় বয়স্কদের ম্যারাথন প্রতিযোগিতার মধ্যমণি তিনি। তাকে দেখতেই ভিড় জমে রাস্তার দু’পাশে। লজ্জা-সঙ্কোচকে জয় করা লতার আত্মবিশ্বাসী চোখ-মুখে শঙ্কার ছিটেফোঁটাও নেই। জিততে তাকে হবেই। 

এই দৌড়ই বাঁচিয়ে রেখেছে তার সংসার। পুরস্কারের টাকাতেই চলছে স্বামীর চিকিৎসা। শখ নয়, পেটের টানে-প্রাণের টানে লতার গতি তাই যে কোনো প্রশিক্ষিত অ্যাথলেটকেও হার মানাতে সক্ষম।

তিনি বলেন, “শুরুটা হয়েছিল ২০১৩ সালে। স্বামীর এমআরআই স্ক্যান করাতে পাঁচ হাজার টাকা দরকার ছিল। প্রতিবেশীদের কাছে শুনেছিলাম দৌড়ালে টাকা পাওয়া যায়, তবে ভাবিনি জিততে পারব।”

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে লতা ভগবান কারে। ছবি: সংগৃহীত

শখে নয়, স্বামীকে বাঁচাতে সেদিন মাঠে নামা লতা বলেন, “ওই দৌড় ছিল আমার জীবনের লড়াই। জিতলে প্রাণ বাঁচবে। তাই সাহস ফিরে আসে। সবকিছু পিছনে ফেলে লক্ষ্য স্থির করি। আর তাতেই জয় আসে।”

পিম্পলি থেকে লতার পরিবার বুলধানায় আসে কয়েকবছর হল। একটেরে ছোট্ট ঘরে পাঁচজনের সংসার। লতার স্বামী ভগবান কারে, ছেলে সুনীল, ছেলের বৌ ও নাতি। ভগবান ও লতা দিনমজুরি করতেন। তবে স্বামী অসুস্থ হওয়ার পরে সংসারের দায়িত্ব লতার কাঁধেই বর্তায়। ছেলে সুনীলের তেমন রোজগার নেই। দিনমজুরি করে দিনে ৮০-১০০ রুপি আয় হয়। তাতে কোনোমতে পেট চলে। সঞ্চয় বলতে কিছুই নেই। 

ভারতীয় গণমাধ্যমকে লতা বলেছেন, স্বামীর চিকিৎসায় অন্তত ১৫ হাজার রুপি লাগবে। এই অর্থ যোগাড়ের জন্যই রাস্তায় নামতে হয়েছে তাকে। প্রতিবেশীদের কাছে হাত পাতেননি, ভিক্ষাও করেননি। নিজের যোগ্যতায় ম্যারাথন জিতে পুরস্কারের টাকায় স্বামীর চিকিৎসা করাচ্ছেন, সংসারও টানছেন।

লতার ছেলে সুনীল বলেছেন, “মা যেদিন প্রথম ম্যারাথনে নাম দেন, আগের দিন রাতে তার প্রচণ্ড জ্বর আসে। আমরা নিষেধ করেছিলাম, শোনেননি। পরদিন সকালেই সবাইকে চমকে দিয়ে দৌড়ে জিতে আসেন।”

তার জীবনী নিয়ে নির্মিতব্য সিনেমায় নাভিন দেশাবইনার চিত্রনাট্য ও পরিচালনায় অভিনয় করছেন রাধা চাওয়ান, রেখা গাইকড়, ভগবান কারে প্রমুখ। সম্প্রতি ছবিটির ট্রেইলার মুক্তি পেয়েছে।