• শুক্রবার, এপ্রিল ০৩, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:০৪ দুপুর

সিএএ: দিল্লির চার জায়গায় কারফিউ জারি, সংঘর্ষে নিহত ২৩

  • প্রকাশিত ১০:১৮ সকাল ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২০
দিল্লি-সিএএ
সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) দিল্লির ভজনপুর রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এএফপি

সহিংসতা ঠেকাতে কোনও ব্যবস্থাই নিচ্ছে না সরকার, এই অভিযোগে মঙ্গলবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বাসভবনের বাইরে জড়ো হন বহু মানুষ

ভারতের উত্তর-পূর্ব দিল্লির জাফরাবাদ-মৌজপুরে সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) সিএএ-বিরোধী ও সিএএ-পন্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। মঙ্গলবার রাতে সেই সহিংসতা পূর্ব দিল্লিতেও ছড়িয়ে পড়ে। মঙ্গলবার গভীর রাত পর্যন্ত উত্তর-পূর্ব দিল্লিতে সংঘর্ষে মৃত্যুর সংখ্যা ছিল ১৩। বুধবার সকালে সংখ্যাটা পৌঁছেছে ২৩ এ। আহত ২শ’র বেশি। দিল্লির উত্তাল পরিস্থিতির খবর জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম আনন্দবাজার।

দুষ্কৃতকারীদের তাণ্ডবে দিল্লিতে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যা। অথচ তা ঠেকাতে কোনও ব্যবস্থাই নিচ্ছে না সরকার, এই অভিযোগে মঙ্গলবার মধ্যরাতে দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়ালের বাসভবনের বাইরে জড়ো হন বহু মানুষ, যাদের মধ্যে বেশিরভাগই শিক্ষার্থী। 

তাদের দাবি, উত্তর-পূর্ব দিল্লির যে যে এলাকায় সহিংসতা ছড়িয়েছে, অবিলম্বে সেখানে যেতে হবে কেজরিওয়ালকে। স্থানীয় বিধায়কদের শান্তি মিছিল বার করতে নির্দেশ দিতে হবে, যাতে যে দাঙ্গা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে রাশ টানা যায়।

যে বা যাদের ইন্ধনে রাজধানীতে হিংসার আগুন ছড়িয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ করতে হবে বলেও দাবি করেন বিক্ষোভকারীরা। হিংসায় আক্রান্তরা সঠিক চিকিৎসা পরিষেবা পাচ্ছেন না বলেও অভিযোগ করেন তারা। উদ্ধারকার্য চালাতে তাই সরকারকে পদক্ষেপ করার আর্জিও জানানো হয়। শান্তি ফেরাতে কী কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা-ও সাধারণ মানুষকে জানানোর দাবি ওঠে।

বুধবার ভোররাত পর্যন্ত কেজরিওয়ালের বাসভাবনের সামনে এই বিক্ষোভ চলে। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিশাল পুলিশ বাহিনী নামানো হয়। কথা বলে বিক্ষোভকারীদের নিরস্ত করার চেষ্টা করেন পুলিশকর্মীরা। কিন্তু তাতেও ঘেরাও ওঠেনি বলে খবর। শেষমেশ বিক্ষোভকারীদের হটাতে পুলিশকে জলকামান ব্যবহার করতে হয়। তাতে ভোর সাড়ে ৩টার দিকে পরিস্থিতি কিছুটা হলেও নিয়ন্ত্রণে আসে বলে জানা গিয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে আটক করে পুলিশ স্টেশনে নিয়ে যাওয়া হয়।

এই বিক্ষোভ নিয়ে কেজরিওয়ালের কার্যালয় থেকে এখনও পর্যন্ত কোনও বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। তবে মঙ্গলবারই ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বিধায়কদের সঙ্গে একদফা বৈঠক করেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী। শান্তি ফেরাতে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন তিনি। তার আগে অমিত শাহের ডাকা বৈঠকেও যোগ দেন কেজরিওয়াল।