• শুক্রবার, এপ্রিল ০৩, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:৫৩ দুপুর

হিন্দু-না মুসলিম, জানতে প্যান্ট খোলার হুমকি!

  • প্রকাশিত ০৮:০৭ রাত ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২০
সিএএ
দিল্লিতে সিএএ নিয়ে সংঘর্ষ চলাকালীন একটি নর্দমা থেকে অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধারের পর নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। রয়টার্স

চলে যাওয়ার আগে সে শুধু বলল, 'সারা জীবনে কেউ আমাকে ধর্ম নিয়ে এমনভাবে প্রশ্ন করেনি' 

ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনের (সিএএ) বিরোধিতাকারীরা বিক্ষোভ করছে দিল্লিতে। এর জের ধরে হামলা চালিয়েছে আইনটির সমর্থনকারী কট্টর হিন্দুত্ববাদীরা। দু'পক্ষের সংঘর্ষে রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে দিল্লি। এখন পর্যন্ত শহরটিতে কমপক্ষে ২৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। 

সংঘর্ষের সহিংসতা থেকে বাদ পড়ছেন না সংবাদকর্মীরাও। সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে নিজেদের বিপত্তিতে পড়ার কথা উঠে এসেছে তাদের মুখেই। এমনই একজন টাইমস অব ইন্ডিয়ার সংবাদকর্মী অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায়। তিনি জানান, তিনি হিন্দু-না মুসলিম তা জানতে প্যান্ট খোলার হুমকি দেয় সিএএ সমর্থকরা। 

অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় জানান, সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে দিল্লির জাফরাবাদ অঞ্চলের মৌজপুর মেট্রো রেলস্টেশন এলাকায় সংবাদ সংগ্রহ ও ছবি তুলতে গিয়ে "হিন্দু সেনা" নামের একটি হিন্দু সংগঠনের হয়রানির শিকার হন তিনি ও তার সহকর্মী। এ ঘটনার পুরো বর্ণনা তিনি তুলে ধরেছেন টাইমস অব ইন্ডিয়ার এক প্রতিবেদনে। 

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হিন্দু সেনা নামের ওই সংগঠনের সদস্যরা হাতে ক্যামেরা দেখতে পেয়ে তাদের সাংবাদিক বলে চিনতে পারে। এসময় তারা অনিন্দ্যর কপালে তিলক এঁকে দিতে চায়। আপত্তি জানালে তারা বলে, "ভাইয়া, আপনিও তো একজন হিন্দু। তাহলে সমস্যা কোথায়?"

এর ১৫ মিনিট পর একই এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। এসময় অনেককে "মোদী, মোদী" বলে স্লোগান দিতে শোনা যায়। এমন পরিস্থিতিতে একটি ভবনে আগুন লাগানো হলে ছবি নিতে সেদিকে ছুটে যান অনিন্দ্য। তখন একটি শিব মন্দিরের কাছে অবস্থান করা কয়েকজন তাকে থামিয়ে জিজ্ঞাসা করে, "ভাই আপনিও তো হিন্দু? কেন যাচ্ছেন? আজ হিন্দুরা জেগে উঠেছে।" 

এরপরও ছবি তোলার চেষ্টা করলে, কয়েকজন বাঁশ ও লোহার রড নিয়ে তাকে ঘিরে ধরে এবং ক্যামেরা ছিনিয়ে নিতে চায়। তবে সহকর্মী সাক্ষী চাঁদ বাধা দিলে তারা পিছু হঠে। 

অনিন্দ্য জানান, তিনি বুঝতে পারেন ওই লোকগুলো তাদের ওপর নজর রাখছে। এসময় এক যুবক তাকে বলেন, "ভাই, তুই বেশি লাফালাফি করছিস। তুই হিন্দু নাকি মুসলমান?" এসময় প্যান্ট খুলে ধর্মীয় পরিচয় জানার হুমকিও দেয় তারা।  

তখনও বিপদ কাটেনি। একটি অটোরিকশা নিয়ে কর্মস্থলে ফেরার পথে ফের থামানো হয় তাদের। দু’জনের কলার ধরে অটোরিকশা থেকে নামিয়ে মারধরের চেষ্টাও করা হয়। এসময় সাংবাদিক পরিচয় দেন তারা। এছাড়া ওই অটোরিকশাচালক নির্দোষ বলে অনুনয় করার পর তাদের মুক্তি দেওয়া হয়। 

অনিন্দ্য চট্টোপাধ্যায় বলেন, "অটোরিকশাচালক যখন আমাদের নামিয়ে দিল, আমি বুঝতে পারলাম সে ভয়ে কাঁপছে। চলে যাওয়ার আগে সে শুধু বলল, 'সারাজীবনে এমনভাবে কেউ আমাকে ধর্ম নিয়ে প্রশ্ন করেনি।'"