• শুক্রবার, এপ্রিল ০৩, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০১:৫৩ দুপুর

দিল্লি সহিংসতা: মরদেহ বুঝে নিতে স্বজনদের দীর্ঘ প্রতীক্ষা

  • প্রকাশিত ০৮:২২ রাত ফেব্রুয়ারি ২৬, ২০২০
দিল্লি সহিংসতা
নিহত স্বজনের মরদেহ বুঝে নেওয়ার অপেক্ষায় হাসপাতালের বাইরে দিল্লি সহিংসতার ভুক্তভোগীরা দ্য ওয়্যার

নিহতদের মধ্যে রয়েছেন গর্ভবতী স্ত্রীসহ এক অটোরিকশা চালক, একজন ইলেক্ট্রিশিয়ান, একজন পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ

ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ) ইস্যুতে দিল্লিতে চলমান সহিংসতায় এখন পর্যন্ত নিহত হয়েছেন ২৩ জন। আহত হয়েছেন অসংখ্য মানুষ। ময়নাতদন্তের জন্য নিহতদের মরদেহ রাখা হয়েছে দিল্লির জিটিবি হাসপাতালে।

এই ঘটনার জেরে শহরটিতে যেমন শুরু হয়েছে অস্থিরতা, তেমনি ভুক্তভোগী মানুষের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে সেখানকার বাতাস। ভারতীয় গণমাধ্যম দ্য ওয়ারডটইন জানিয়েছে, বুধবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে হাসপাতাল মর্গের বাইরে নিহতদের মরদেহ বুঝে নেওয়ার অপেক্ষায় ছিলেন স্বজনরা।

তাদের মধ্যে কেউ কেউ তো অপেক্ষা করছেন সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) থেকে। সেদিনই প্রথমবারের মতো সহিংসতায় হতাহতের ঘটনা ঘটে।


আরও পড়ুন- সিএএ: দিল্লির চার জায়গায় কারফিউ জারি, সংঘর্ষে নিহত ২৩


হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মরদেহের শরীরে বুলেটের আঘাত থাকলে প্রতিটি ময়নাতদন্ত করতে দুই ঘণ্টা সময় লাগে। এখন পর্যন্ত সহিংসতার ঘটনায় নিহতদের মধ্যে চারজনের ময়নাতদন্ত শেষ হয়েছে। তাই মরদেহগুলো হস্তান্তরে বিলম্ব হচ্ছে।

তবে পরিবারগুলো এই কালক্ষেপণ মেনে নিতে নারাজ।

রাহুল সোলাঙ্কি নামে এক নিহতের বন্ধুরা আহাজারি করছিলেন মর্গের বাইরে। সোমবার দুধ কিনতে বেরিয়ে নিহত হন রাহুল। বাইরের পরিস্থিতির ভয়াবহতা আন্দাজ করতে পারেননি তিনি। অজ্ঞাত ঘাতকের ছোড়া গুলি গলায় লেগে লুটিয়ে পড়েন তিনি।


আরও পড়ুন- ছবিতে দিল্লির বীভৎস সহিংসতা


তিনদিন পরে সোলাঙ্কির মরদেহ বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে স্বজনদের।

বাবা ভিনোদ কুমারকে সঙ্গে নিয়ে মোটরসাইকেলে করে ওষুধ কিনতে যাচ্ছিলেন মনু কুমার। পথিমধ্যে ঘোংরা এলাকায় তলোয়ার আর পাথরের আক্রমণের মুখে পড়েন তারা। মারা যান ভিনোদ আর মাথায় জখম হয় মনুর। তাদের পরিবারও এখন হাসপাতালের বাইরে অবস্থান করছেন পরিবারের অভিভাবকের মরদেহ বুঝে নিতে।

একই প্রতীক্ষা পাঁচটি গুলি লেগে নিহত আশফাক হুসেইনের মতো নিহত অন্যান্যদের স্বজনদেরও।