• মঙ্গলবার, এপ্রিল ০৭, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১০:৪৫ রাত

সিএএ: বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ

  • প্রকাশিত ০৩:৫৬ বিকেল ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২০
সিএএ
২০ জানুয়ারি, ২০২০ নিউদিল্লিতে সিএএ’র প্রতিবাদে জনতা-শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ। এএফপি

বিশ্বভারতীর ইনস্টিটিউট অব ফাইন আর্টসে ডিজাইন নিয়ে স্নাতক প্রথমবর্ষে পড়ুয়া ওই শিক্ষার্থী ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইনবিরোধী আন্দোলনের কয়েকটি ছবি ফেসবুকে পোস্ট করেছিলেন

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীকে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ভারত ত্যাগ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে দ্য টেলিগ্রাফ, ইন্ডিয়া। ওই শিক্ষার্থীর ব্যক্তিগত ফেসবুকে দেশটির সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন (সিএএ)বিরোধী আন্দোলনের ছবি পোস্ট করার পর তার বিরুদ্ধে “সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে” যুক্ত থাকার অভিযোগ তুলে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে ওই প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

স্নাতক প্রথমবর্ষে অধ্যয়নরত বাংলাদেশের কুষ্টিয়ার আফসারা আনিকা মীম ২০১৮ সালে বিশ্বভারতীর ইনস্টিটিউট অব ফাইন আর্টসে ডিজাইন নিয়ে পড়তে যান।  

ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ফেসবুকে প্রতিবাদের ছবি পোস্ট করে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই বাংলাদেশি শিক্ষার্থী “সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে” অংশ নেওয়ায় তাকে ভারত ছাড়তে বলা হয়েছে। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আঞ্চলিক অফিস এসংক্রান্ত চিঠিটি ইস্যু করে। চিঠি হাতে পাওয়ার ১৫দিনের মধ্যে তাকে ভারত ছাড়তে হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

গতবছরের ডিসেম্বর মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একাংশ সিএএ’র বিরুদ্ধে ক্যাম্পাসে একাধিক সমাবেশ করে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ওই চিঠিতে বলা হয়েছে, “পশ্চিমবঙ্গের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে সিএএ-বিরোধী সমাবেশে বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী এক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। তিনি সরকারবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং এধরনের কার্যকলাপ তার ভিসাশর্তের লঙ্ঘন।”

বুধবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) ওই চিঠি হাতে পান ২০ বছর বয়সী বাংলাদেশি শিক্ষার্থী। তিনি দ্য টেলিগ্রাফকে বলেন, “আমি কেন এমন শাস্তির মুখে পড়েছি বা আমি কী ভুল করেছি তা বুঝতে পারছি না। কৌতূহলবশত কয়েকটা ছবি পোস্ট করেছিলাম। কারণ, আমার অনেক বন্ধু প্রতিবাদ সমাবেশে অংশ নিয়েছিল। কিন্তু যখন আমি দেখলাম একটি নির্দিষ্টদল এটি নিয়ে ট্রল করছে, তখনই আমার ফেসবুক অ্যাকাউন্টটি নিষ্ক্রিয় করে দিয়েছি।”

বিশ্বভারতীর এক শিক্ষার্থী বলেন, “ও সিএএ-বিরোধী কোনো সমাবেশে অংশ নেয়নি। তবে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু ছবি পোস্ট করেছিলো। ওই পোস্টটি কয়েকজন ডানপন্থীর নজরে পড়ে। তারা এটা নিয়ে ট্রল করে এবং ওকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর দাবি করে।”

আরেক শিক্ষার্থী বলেন, “বিদেশি শিক্ষার্থীরা যদি বন্ধুদের সঙ্গে মিলে কোনো আন্দোলনে অংশ নিয়ে প্রতিবাদ বা মন্তব্য করতে না পারে, তাহলে আমারা প্রশ্ন আমরা কি আসলেই গণতান্ত্রিক দেশে বাস করছি?”