• সোমবার, এপ্রিল ০৬, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৫:৩৫ সন্ধ্যা

করোনা ঠেকাতে কারাবন্দিদের মুক্তি দিলো ইরান

  • প্রকাশিত ০৩:৪৩ বিকেল মার্চ ৪, ২০২০
করোনা
সংগৃহীত

দেশটির পার্লামেন্টে ২৩ জনের করোনাভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে

চীনে উৎপত্তি হওয়া করোনাভাইরাসসৃষ্ট কোভিড-১৯ রোগে আক্রান্ত হওয়া ঠেকাতে  ৫৪,০০০ কারাবন্দিকে সাময়িক মুক্তি দিয়েছে ইরান। 

মঙ্গলবার (৪ মার্চ) দেশটির বিচার বিভাগীয় মুখপাত্র গোলামাহোসেইন এসমাইলি বলেন, কোভিড-১৯ আক্রান্ত নয়, এটা নিশ্চিত হওয়ার পরই এদের মুক্তি দেওয়া হয়। তবে পাঁচ বছরের বেশি দণ্ডপ্রাপ্তদের এই সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি।

মঙ্গলবার দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ৫০% বৃদ্ধি পেয়েছে। এপর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়ালো ২,৩৩৬ জনে। যদিও প্রকৃতসংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইরানের উচ্চ পদস্থ অনেক কর্মকর্তাও ভাইরাস সংক্রমণের শিকার হয়েছেন। সম্প্রতি দেশটির জরুরি চিকিৎসা সেবা বিভাগের প্রধান পিরহোসেইন কোলিভান্দ আক্রান্ত হয়েছেন।

বিবিসি’র ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির পার্লামেন্টের ২৯০ জনের মধ্যে করোনাভাইরাস পরীক্ষা করে ২৩জন আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে।

সোমবার দেশটির সর্বোচ্চ নেতা আয়াতোল্লাহ আলী খামেনির উপদেষ্টা কাউন্সিলের এক সদস্য কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে বলে জানানো হয়। রাষ্ট্রীয় সংবাদ মাধ্যমে বলা হয়, মোহাম্মদ মীরমোহাম্মদী নামে ৭১ বছর বয়সী ওই সদস্যের আয়াতোল্লাহ খামেনির সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।

বিশ্ব বন্যপ্রাণী দিবস উপলক্ষে একটি বৃক্ষ রোপণ কর্মসূচিতে সর্বোচ্চ নেতা খামেনি দেশটির জনগণকে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দেওয়া সব পরামর্শ মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছেন। সাথে সরকারের অন্য সব বিভাগকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যে তারা যাতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে সহায়তা করে।

আয়াতোল্লাহ খামেনি জোর দিয়ে বলেন যে, ইরানের কর্তৃপক্ষ প্রাদুর্ভাবের মাত্রা সম্পর্কিত কোন তথ্য গোপন করেনি। তিনি বলেন, "আমাদের কর্মকর্তারা প্রথমদিন থেকেই নিষ্ঠা আর স্বচ্ছতার সাথে সব তথ্য প্রকাশ করছে। যাইহোক, যেসব দেশে এই প্রাদুর্ভাব আরো বেশি জটিল আকার ধারণ করেছে তারা তথ্য লুকানোর চেষ্টা করেছে।"

তিনি বলেন যে ইরানের প্রাদুর্ভাব "বেশিদিন থাকবে না এবং বন্ধ হয়ে যাবে।"

এদিকে, স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাইদ নামাকি জানিয়েছেন, বুধবার থেকে দেশজুড়ে ভাইরাস পরীক্ষা বা স্ক্রিনিং শুরু হবে।

যাদের কোভিড-১৯ হয়েছে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে এবং যারা স্বাস্থ্য সেবার সুযোগ পাচ্ছেন না তাদের কাছে চিকিৎসা সেবাদানকারী দল পৌঁছে যাবে বলে জানানো হয়।