• রবিবার, মার্চ ২৯, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ০৮:৪৩ রাত

জেসিন্দা: মসজিদে হামলার পর জাতি পরিবর্তিত হয়ে গেছে

  • প্রকাশিত ০২:৪০ দুপুর মার্চ ১৩, ২০২০
জেসিন্দা আরডার্ন
নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্দা আরডার্ন। ছবি: এএফপি (ফাইল ছবি)।

গত বছর ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে জুমার নামাজের সময় প্রার্থনারত মুসলমানদের ওপর ব্রেন্টন ট্যারেন্ট নামে এক অস্ট্রেলিয়ান নির্বিচারে গুলি চালায়

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী জেসিন্দা আরডার্ন বলেছেন, ক্রাইস্টচার্চের দু'টি মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় ৫১ জন নিহত হওয়ার পর থেকে দেশের মুসলমান সম্প্রদায়ের সঙ্গে কিউই জনগণ আরও বেশি সম্পৃক্ত হয়েছেন।

শুক্রবার (১৩ মার্চ) গত বছরের নৃশংস হত্যাযজ্ঞের প্রথম বার্ষিকী উপলক্ষে ক্রাইস্টচার্চে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এমন মন্তব্য করেন। তিনি ওই হত্যাকাণ্ডের দিনটিকে (১৫ মার্চ) নিউজিল্যান্ডের সবচেয়ে অন্ধকার দিন হিসেবে অভিহিত করেন।

এদিন ওই দুই মসজিদের সদস্যদের সঙ্গে একটি বিশেষ যৌথ প্রার্থনায় অংশ নেন জেসিন্দা। আগামী রবিবার একটি জাতীয় স্মৃতিচারণ অনুষ্ঠানে তার অংশগ্রহণের কথা রয়েছে।

প্রার্থনা অনুষ্ঠানে হামলার সময় আল নূর মসজিদ থেকে ওইদিন বেঁচে যাওয়া ফরিদ আহমেদও ছিলেন, যার স্ত্রী সেসময় মারা যান।

তিনি বলেন, ‘‘যদি কারও মত ও বিশ্বাসের পার্থক্য থাকে, তবে সে ব্যাপারে আমাদের আলোচনা করা উচিত, একে অপরকে প্রশ্ন করা উচিত। তবে একে অপরকে ভয় পাওয়া উচিত নয়।’’

নিউজিল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘‘কিউই জনগণ তাকে জানিয়েছে যে তারা ওই হামলার পর প্রথমবারের মতো মসজিদে যায় এবং তারা বিশ্বাসের পার্থক্যের বিষয়ে আরও প্রকাশ্য আলোচনা করে।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘এক বছর পরে, আমি বিশ্বাস করি, নিউজিল্যান্ড এবং এর জনগণ মৌলিকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। তবে আমাদের জন্য চ্যালেঞ্জটি নিশ্চিত করা হবে দৈনন্দিন কাজকর্মে। আমরা বর্বরতা, হয়রানি, বর্ণবাদ, বৈষম্যমুক্ত একটি জাতি গড়ে তুলব।’’

গত বছরের ১৫ মার্চ নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে শুক্রবারের জুমার নামাজের সময় প্রার্থনারত মুসলমানদের ওপর ব্রেন্টন ট্যারেন্ট (২৯) নামে এক অস্ট্রেলিয়ান উগ্রবাদী শ্বেতাঙ্গ নির্বিচার গুলি চালায়। এতে পাঁচজন বাংলাদেশিসহ ৫১ জন নিহত ও অর্ধ-শতাধিক ব্যক্তি আহত হন।

হামলার পরদিন গত ১৬ মার্চ তাকে প্রথম আদালতের সামনে হাজির করা হয়। সেসময় তাকে গণমাধ্যমের দিকে তাকিয়ে অনেকবার হাসতে দেখা যায়। ট্যারেন্টের বিরুদ্ধে ৫১টি হত্যার অভিযোগ, ৪০টি হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এবং সন্ত্রাস দমন আইনের অধীনে একটি অভিযোগ দায়ের করা হয়।

দোষী প্রমাণিত হলে তাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে।