• রবিবার, এপ্রিল ০৫, ২০২০
  • সর্বশেষ আপডেট : ১২:৫৯ দুপুর

মার্কিন অবরোধে ইরানি দূতাবাসের বিবৃতি

  • প্রকাশিত ১০:৩৩ রাত মার্চ ১৯, ২০২০
ইরান
ফাইল ছবি এএফপি

‘যুক্তরাষ্ট্র সব সময় বলে আসছে খাদ্য এবং ঔষধসামগ্রী নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে। কিন্তু বাস্তবে আর্থিক লেনদেনের উপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করে এবং ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে হুমকি দিয়ে ইরানে খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে’


করোনাভাইরাস (কোভিক-১৯) মহামারি আকারে ছড়িয়ে পড়ার পরও ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞাকে অমানবিক ও বেআইনি বলে বর্ণনা করেছে ইরান।

বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) ঢাকাস্থ ইরানি দূতাবাস গণমাধ্যমে এ বিষয়ক একটি বিবৃতি পাঠিয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, করোনাভাইরাস গোটা বিশ্বের জন্য বিপদ হিসেবে দেখা দিয়েছে। করোনাভাইরাসে সর্বগ্রাসী আক্রমণ প্রতিহত ও ভাইরাসটি নির্মূল করতে ইরানিরা যখন সবোর্চ্চ চেষ্টায় লিপ্ত, সে সময়ও সকল আন্তর্জাতিক নিয়মরীতি অমান্যকরে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে ইরানের জনগণকে চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে। দেশটির এই অমানবিক পদক্ষেপ জাতিসংঘ সনদ ও বিশ্ব স্বাস্থ্যসংস্থার সংবিধিন পরিপন্থী। যুক্তরাষ্ট্রে এই কর্মকাণ্ডে একদিকে যেমন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ইরানি নাগরিকদেরকে চিকিৎসাসেবা প্রদান ও ইরানব্যাপী এর বিস্তাররোধ করার প্রচেষ্টাকে বাধাগ্রস্থ করছে তেমনিভাবে সংক্রমণ প্রতিহত করার জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টার উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

ইরানের জনগণের উপর চাপ সৃষ্টির জন্য এমন কাজ নেই যা যুক্তরাষ্ট্র করছে না মন্তব্য করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র সব সময় বলে আসছে খাদ্য এবং ঔষধসামগ্রী নিষেধাজ্ঞার আওতার বাইরে থাকবে। কিন্তু বাস্তবে তারা আর্থিক লেনদেনের উপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করে এবং নিয়মিতভাবে ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলোকে হুমকি দিয়ে ইরানে খাদ্য ও চিকিৎসা সামগ্রী সরবরাহের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করে যাচ্ছে। এ অবস্থা ইরানের স্বাস্থ্যখাতের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

এ সময় করোনাভাইরাস কোনো সীমানা, জাতি, ধর্ম ও দলমত চেনে না মন্তব্য করে ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত এবং গঠনমূলক পদক্ষেপের আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অচল করে দিতে প্রত্যেক দেশের সরকার ও মানবতাবাদি ব্যক্তি ও সংগঠনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. জাওয়াদ যারিফ বলেন, “এখন আর বিশ্বের উচিত নয় অর্থনেতিক দুর্বৃত্তপনাকে ঔষধ সন্ত্রাসে পরিণত করার মর্কিন প্রবণতার বিষয়ে নির্লিপ্ত থাকা।”

প্রসঙ্গত, যুক্তরাষ্ট্র গত দুই বছরে ইরানের বিরুদ্ধে অন্তত একশত নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করেছে, এর পাশাপাশি ২০১৮ সালের ৮ মে থেকে এখন পর্যন্ত ইরানের অন্তত ১২০০ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে তাদের কালোতালিকার অন্তর্ভুক্ত করেছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ও করোনাভাইরাসের প্রভাবে ইরানের অর্থনীতিতে ইতোমধ্যেই প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি হয়েছে।

চীন ও ইতালির পর ইরানেই করোনাভাইরাস মারাক্তকভাবে সংক্রমিত হয়েছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগের উপ প্রধান আলী রেজা রায়িসি বুধবার সাংবাদিকদের জানান, ইরানে ১৭ হাজারের বেশি মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। তাদের মধ্য থেকে এক হাজার ১৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

চীনের উহান শহরে প্রথম ২০১৯ সালের ডিসেম্বরে কোভিড-১৯ নামক এই করোনাভাইরাস ধরা পড়ে। চীন ছাড়াও ইতালি, আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান, ইরান, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিশ্বের ১৬৫টির বেশি দেশে এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে।

সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী বিশ্বে এ পর্যন্ত ২ লাখ  ২ হাজারের বেশি মানুষ করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে যাদের মধ্যে ৮৩ হাজারের বেশি রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এই ভাইরাসের শিকার হয়ে সারা বিশ্বে এ পর্যন্ত মারা গেছেন ৮ হাজার মানুষ।