Wednesday, May 29, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

করোনাভাইরাস সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে চীনের ‘সাফল্য’ প্রশ্নবিদ্ধ!

জাপানের বার্তা সংস্থা কিয়োডো উহানের এক চিকিৎসকের নাম প্রকাশ না করে একটি সংবাদ প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, চীনের কর্মকর্তারা চিকিৎসকদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন নতুন রোগীদের তথ্য সরকারি তথ্যে যোগ করা না হয়!

আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২০, ১০:০৭ এএম

করোনাভাইরাস প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর প্রথমবারের মতো চীন গত মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) জানায়, দেশটিতে নতুন করে কোন করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির মৃত্যু হয়নি।

গত কয়েকমাস ধরে প্রতিদিন ভোর ৩টায় চীনের ভাইরাসের বিস্তারের তথ্য-উপাত্ত বিশ্বের কাছে তুলে ধরছেন দেশটির কর্মকর্তারা। ৭ এপ্রিল দেশটি জানিয়েছে, তাদের মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৮১, ৭৪০ জন আর মারা গেছেন ৩,৩৩১জন।

ভাইরাসের উৎপত্তিস্থল দেশটি যেভাবে এটির নিয়ন্ত্রণ করেছে তা বিশ্বব্যাপী প্রশংসা কুড়িয়েছে। এমনকী, দ্রুততার সঙ্গে ভাইরাসটি শনাক্তকরণ এবং স্বচ্ছতা বজায় রাখার জন্য চীনকে সাধুবাদও জানিয়েছেন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক টেড্রোস অ্যাধনম ঘেব্রেইয়েসাস।

তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এসব উষ্ণ অভিনন্দন সত্ত্বেও চীনের সরকারি এসব পরিসংখ্যান ও সাফল্যের দাবি নিয়ে যথেষ্ট সংশয় রয়েছে।

গতসপ্তাহে ব্রিটিশ সরকারের সিনিয়র মন্ত্রী মাইকেল গভ বিবিসি’কে বলেছেন, "ভাইরাসের সংক্রমণ, প্রকৃতি বা মাত্রা নিয়ে চীনের বেশ কিছু প্রতিবেদন পরিষ্কার নয়।"

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও বলেছেন, “চীনের বলা মৃত্যু ও সংক্রমণের সংখ্যা দেখে মনে হচ্ছে যেন কম করে বলা হয়েছে।”

বেশ কিছুদিন ধরেই মহামারির বিষয়ে সঠিক তথ্য তুলে না ধরার জন্য চীনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে আসছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারাও।

বিশ্বব্যাপী রোগের সংক্রমণ যতো বাড়ছে, যেভাবে যুক্তরাষ্ট্র এরমধ্যেই সংক্রমণ ও মৃত্যুর দিক থেকে চীনকে ছাড়িয়ে গেছে, তখন চীনের কাছ থেকে এই শিক্ষা নিতে চাইছে যে চীন কীভাবে তাদের পরিস্থিতি এতো নিয়ন্ত্রণে রাখল।

কিন্তু এই উদ্বেগও বাড়ছে যে, চীন তাদের সংক্রমণ ও মৃত্যুর তথ্যের ব্যাপারে পুরোপুরি সততা প্রকাশ করেনি। এই সন্দেহের পেছনে অতীতের কিছু কারণ রয়েছে- আর দেশটির স্পষ্টতার অভাবও দায়ী, যা অবিশ্বাস তৈরি করে।

তথ্য লুকানোর ইতিহাস

বিশ্বের কাছে বিশ্বাসযোগ্য সরকারি তথ্য উপস্থাপনের ব্যাপারে চীনের দুর্নাম রয়েছে। 

বিশেষজ্ঞদের ধারণা, যে সংখ্যা বলা হয় চীনের সত্যিকারের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আসলে তার অর্ধেক। অতীতে কিছু স্বাধীন গবেষণায় সরকারি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যের চেয়ে কম জিডিপি প্রবৃদ্ধি বেড়িয়ে এসেছে।

চীন যখন কোভিড-১৯ এর মতো গুরুত্বপূর্ণ বা বিশাল কোনও বিষয় বা জটিল বিষয়ের মুখোমুখি হয়, তখন জিডিপি’র মতোই এক্ষেত্রেও তথ্য-উপাত্ত নিয়ে অস্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ করা তাদের জন্য বড় কোনও বিষয় নয়।

করোনাভাইরাস নিয়ে তথ্য গোপন 

আমরা সবাই জানি, ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাসে চীনের উহান শহর থেকে প্রথম করোনাভাইরাসের বিস্তার শুরু হয়। এটা আর এখন গোপনীয় নয় যে, চীন শুরুর দিকে এটির অস্তিত্ব, বিস্তারের মাত্রা ও ভয়াবহতা বিশ্বের কাছে সম্পূর্ণ চেপে রেখেছিল।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কাছে এই ভাইরাসটির ব্যাপারে চীন প্রথম তথ্য জানায় ৩১শে ডিসেম্বর। কিন্তু আমরা এতদিনে জেনে গেছি, সেই সময়ের মধ্যেই একজন চিকিৎসক ও আরও কয়েকজন সার্স ভাইরাসের মতো একটি ভাইরাসের ব্যাপারে তার সহকর্মীদের সতর্ক করার চেষ্টা করেছিলেন। যাদের সঙ্গে পুলিশ দেখা করে।

ডক্টর লি ও অন্য যারা সতর্ক করেছিলেন, তারা পরে নিশ্চুপ হয়ে যান। ডক্টর লি পরবর্তীতে কোভিড-১৯ আক্রান্ত হয়ে মারা যান।

কয়েক সপ্তাহ আগে-যখন প্রাদুর্ভাব দেখা দেওয়ার পর প্রথমবারের মতো চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং উহান সফর করেন, সেই সময়ে হুবেই প্রদেশ ছাড়া মূল চীনে নতুন করে আর কোন করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়নি।

প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের ওই সফরের সময় জাপানের বার্তা সংস্থা কিয়োডো উহান শহরের একজন চিকিৎসকের নাম প্রকাশ না করে একটি সংবাদ প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, কর্মকর্তারা ওই চিকিৎসকদের নির্দেশ দিয়েছেন যেন নতুন রোগীদের তথ্য সরকারি তথ্যে যোগ করা না হয়।

ব্লুমবার্গে প্রকাশিত সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হোয়াইট হাউজে পাঠানো যুক্তরাষ্ট্রের একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে, “চীনের তথ্য-উপাত্ত ইচ্ছাকৃতভাবে অসম্পূর্ণ” এবং সংখ্যাগুলো একেবারেই “বানানো”।

About

Popular Links