Wednesday, May 22, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

জালিয়াতি করে ভারতের টিভি চ্যানেলগুলো জনপ্রিয়তা বাড়াচ্ছে?

‍পুলিশের এক কর্মকর্তা বলেন, 'অদ্ভুতভাবে এমন বাড়িও আমরা পেয়েছি, যারা হয়ত নিরক্ষর, কিন্তু তাদের বাড়িতেও ইংরেজি খবরের চ্যানেল চলছে'

আপডেট : ১০ অক্টোবর ২০২০, ০৪:৫৬ পিএম

ভারতের টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর টিআরপি বা টেলিভিশন রেটিং পয়েন্ট জালিয়াতির একটি বড়সড় ঘটনা সামনে এনেছে মুম্বাই পুলিশ। কোনো নির্দিষ্ট চ্যানেল দেখার জন্য দর্শকদের টাকা দেওয়া হতো বলে জানিয়েছে তারা। 

সংবাদমাধ্যম বিবিসি বাংলার এক প্রতিবেদনে বলা হয়, এই জালিয়াতিতে রিপাবলিক টিভি নামের একটি ইংরেজি খবরের চ্যানেল আছে বলেও দাবী করেছে পুলিশ। তবে চ্যানেলটির প্রধান সম্পাদক অর্ণব গোস্বামী অবশ্য এই জালিয়াতিতে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। 

মুম্বাই পুলিশ বলছে, হানসা নামের যে সংস্থাটি টিভি চ্যানেলগুলির জনপ্রিয়তা মাপার জন্য দর্শকদের বাড়ির টিভি সেটে একটি ছোট যন্ত্র বসিয়ে দেয়, তাদের দায়ের করা অভিযোগের ভিত্তিতেই তদন্ত শুরু করে এই বড়সড় জালিয়াতি চক্র ধরা পড়েছে। এর জের ধরে দুটি মারাঠি চ্যানেলের কর্মকর্তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে এবং রিপাবলিক টিভিকে জেরা করা হবে।

মুম্বাইয়ের পুলিশ কমিশনার পরমভির সিং জানান, হানসা নামের একটি এজেন্সি, যারা মানুষের বাড়ির টিভি সেটে জনপ্রিয়তা মাপার যন্ত্র বসিয়ে দেয়, তাদের কয়েকজন কর্মী গোপন নথি চ্যানেলগুলোর কাছে পাচার করে দিচ্ছিলো। ওই সংস্থাটির অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়েই পুলিশ এই জালিয়াতির খোঁজ পেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, যাদের তথ্য হানসার প্রাক্তন কর্মকর্তারা পাচার করেছিলো পুলিশ সেসব বাড়িতে যোগাযোগ করে জানতে পারে রিপাবলিক টিভি চ্যানেল চালিয়ে রাখার জন্য টিভি চ্যানেলটির প্রতিনিধিরা তাদের প্রতিমাসে প্রায় ৫০০ রুপি করে দিতো। 

‍পুলিশের এই কর্মকর্তা বলেন, "অদ্ভুতভাবে এমন বাড়িও আমরা পেয়েছি, যারা হয়ত নিরক্ষর, কিন্তু তাদের বাড়িতেও ইংরেজি খবরের চ্যানেল চলছে - সে তারা বাড়িতে থাকুন বা না থাকুন।"

 

আগে এ সি নিয়েলসন সংস্থা ভারতের টিভি চ্যানেলগুলির জনপ্রিয়তা মাপার কাজ করত। কিন্তু সেই ব্যবস্থায় অনেক ত্রুটি থাকায় বেশ কিছু বছর ধরে টিভি চ্যানেলগুলি মিলে বিএ আরসি বা বার্ক নামে একটি সংস্থা তৈরি করে, যারা জনপ্রিয়তা পরিমাপ করে।

 

এই ব্যবস্থায় সারা দেশে প্রায় ৪৪ হাজার মানুষের বাড়িতে টিভির ভেতরে একটি ছোট যন্ত্র - যাকে “পিপল মিটার” বা “ব্যারোমিটার” বলা হয় - সেটি লাগিয়ে দেওয়া হয়। ওই যন্ত্র থেকেই তথ্য পাওয়া যায় যে কোন বাড়িতে কোন চ্যানেল কতক্ষণ ধরে দেখা হচ্ছে।

প্রতিবছর ওই বাড়িগুলোর এক তৃতীয়াংশ বদলে ফেলা হয়। ওই বাড়িগুলো কাদের, এটা বার্কের লোকেরাও জানে না। কম্পিউটারভিত্তিক ওই তালিকা বেশ কয়েকটি এজেন্সির কাছে যায়। তাদের কর্মীরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে মিটার লাগিয়ে দেয়। জালিয়াতিটা এই পর্যায়েই করা হয়েছে মনে হচ্ছে।

 

টিআরপি বা টেলিভিশন রেটিং পয়েন্ট দিয়ে টিভি চ্যানেলের জনপ্রিয়তা মেপেই বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছে তুলে ধরা হয়। যে চ্যানেল বা নির্দিষ্ট চ্যানেলের যে অনুষ্ঠান যত জনপ্রিয়, বিজ্ঞাপনদাতারা সেখানেই টাকা দেন।

মুম্বাই পুলিশ বলছে এই জন্যই জালিয়াতির মাধ্যমে বিজ্ঞাপনদাতাদের কাছ থেকে যে টাকা নেওয়া হয়েছে, সেটাও অপরাধী কার্যকলাপ থেকে প্রাপ্ত অর্থ।

বিজ্ঞাপনদাতারা ছাড়াও সাধারণ মানুষও সেই চ্যানেল বা অনুষ্ঠান দেখতে চান স্বাভাবিকভাবে, যেগুলি জনপ্রিয়।

কিন্তু সেটা পুলিশী তদন্তের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে উন্মুক্ত হয়ে যাওয়ার ফলে শুধু নির্দিষ্ট কয়েকটি চ্যানেলের নয় - গোটা সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েই এখন মানুষ প্রশ্ন তুলতে পারেন বলে মন্তব্য করেন ঢেঙ্কানলের ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ মাস কমিনিউকেশনসের সহকারী অধ্যাপক সম্বিৎ পাল।

 

 

About

Popular Links