Thursday, May 23, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

দিনে দর্জি রাতে সিরিয়াল কিলার : ৩৩ হত্যকারী গ্রেফতার

'আড্ডা এবং মদ্যপানের আসরের মধ্যেই সন্তর্পনে মদে মাদক মিশিয়ে দিত আদেশ। তারপর অচৈতন্য ট্রাকচালক আর তার খালাসীদের হত্যা করে কোনও নির্জন জায়গায় লাশ ফেলে দিয়ে আসত সে ও তার বন্ধুরা'।

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০১৮, ১২:১০ পিএম

ভারতের মধ্যপ্রদেশের মান্ডিদীপ শিল্পাঞ্চল এলাকার এক পরিচিত মুখ দর্জি আদেশ খামরা। ভাল দর্জি হিসেবে এলাকার প্রায় সকলের কাছেই পরিচিত তিনি।

সম্প্রতি এই নিরীহদর্শন মানুষটিরই একটি ভিন্নরূপ পুলিশ বের করে এনেছে। কিছুদিন আগে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হওয়া এই আদেশ খামরাকে ৩৩ টি খুনের প্রধান আসামী করা হয়েছে। সম্প্রতি বিবিসির একটি বিশেষ প্রতিবেদনে এইসব চাঞ্চল্যকর তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।       

প্রতিবেদনে, আদেশকে গ্রেফতারের পর পুলিশের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ‘রাত হলেই দর্জির পোষাক ছেড়ে বেরিয়ে আসত আদেশের অন্য এক চেহারা। কয়েকজন সঙ্গীসাথীর  সঙ্গে একজোট হয়ে সে আড্ডা জমিয়ে তুলত হাইওয়ের পাশে বিশ্রামের জন্য দাঁড় করানো ট্রাকগুলির চালকদের সঙ্গে। আর এই আড্ডা এবং মদ্যপানের আসরের মধ্যেই সন্তর্পনে মদে মাদক মিশিয়ে দিত আদেশ। তারপর অচৈতন্য ট্রাকচালক আর তার খালাসীদের হত্যা করে কোনও নির্জন জায়গায় লাশ ফেলে দিয়ে আসত সে ও তার বন্ধুরা’।

এদিকে পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর জেনারেল ধর্মেন্দ্র চৌধুরী এই ঘটনা সম্পর্কে আলোকপাত করতে গিয়ে বলেন, ‘আজকেও নতুন করে তিনটি খুনের কথা সে স্বীকার করেছে। এখনও পর্যন্ত এ নিয়ে ৩৩ টি খুনের কথা জানা গেছে। প্রায় সব হত্যাকান্ডগুলিই নিশ্চিত করা গেছে’। তবে আদেশের হত্যাকাণ্ডের বিস্তৃতি শুধু মধ্য প্রদেশেই সীমাবদ্ধ ছিলনা। মধ্যপ্রদেশের আশেপাশের অন্যান্য ৫-৬টি রাজ্যেও আদেশ ও তার সাথীরা হত্যাকান্ড চালিয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। 

মূলত ট্রাক চুরির জন্য সংঘটিত এই নির্মম এই হত্যাযজ্ঞের শুরুটা ২০১০ সালে। 

এগারো মাইল এলাকা থেকে দুটি ট্রাক ছিনতাই করার পর মাদক খাইয়ে অচৈতন্য করে দিয়ে দুই চালককেই হত্যা করার মাধ্যমে এই বর্বরতার শুরু, যা দীর্ঘ ৮ বছর ধরে সবার অগোচরে ঘটার পর চলতি বছরের গত আগস্ট মাসে আদেশের গ্রেফতারের মাধ্যমে শেষ হয়েছে।   

গত ১৫ আগস্ট পুলিশ আবদুল্লাগঞ্জ এলাকার মাখন সিংয়ের মরদেহ উদ্ধার করে। উল্লেখ্য, মাখন সিংও আদেশের মান্ডিদীপ থেকেই যাত্রা শুরু করেছিলেন পুলিশ। 

তদন্তে নেমে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই বেশ কয়েকজনের নাম বলে দেওয়ায় ধরা পড়ে একে একে নয়জন। যদিও তখনও পর্যন্ত পুলিশ ধারণা করতে পারেনি তারা একজন সিরিয়াল কিলারকে আটক করতে চলেছে। 

পুলিশের ডেপুটি ইন্সপেক্টর ধর্মেন্দ্র চৌধুরী বলেন, ‘আটককৃতরা নিজেরাই এক এক করে তাদের হত্যাকান্ডগুলোর কথা স্বীকার করছে। এটাও জানিয়েছে যে সম্প্রতি আদেশ নিজের একটা আলাদা গ্যাঙ বানিয়েছিল এবং অন্য রাজ্যে গিয়ে হত্যা আর ট্রাকচুরির ঘটনায় সেখানকার স্থানীয় দুষ্কৃতিকারীদের সাহায্য নিত’।

তবে গ্রেফতারকৃতদের কেউই মানসিকভাবে অসুস্থ নন বলেও পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। বিবিসির প্রতিবেদনে মামলার বরাতে বলা হয়েছে, ‘আদেশ খামরার এই চক্র শুধুমাত্র ১২ বা ১৪ চাকার বড় ট্রাকের দিকেই নজর দিত। কারণ সেগুলোর দাম বেশী’।

এদিকে হত্যা ও চুরির পর আদেশ ও তার বন্ধুরা খুব সাবধানে সব ধরণের আলামত নষ্ট করে ফেলত যার কারণে এতদিন তারা পুলিশের ধরাছোয়ার বাইরে ছিল। পুলিশ জানিয়েছে যে প্রতিটি হত্যাকান্ডের পরেই মোবাইল ফোন আর সিমকার্ড বদলে ফেলত আদেশ খামরা এবং পুলিশ এপর্যন্ত ৪৫ টি পৃথক আইএমইআই নম্বরের মোবাইল খুঁজে পেয়েছে, যেগুলিতে ৫০টিরও বেশী সিম কার্ড ব্যবহার করেছে এই সিরিয়াল কিলার  আদেশ খামরা।

About

Popular Links