Sunday, June 16, 2024

সেকশন

English
Dhaka Tribune

মাধ্যাকর্ষণ ছাড়াই মহাশূন্যে মূলাচাষে সাফল্য নাসা’র!

আর কিছুদিন পরেই মাটি খুঁড়ে মূলা তোলা হবে, এরপর পরীক্ষার জন্য নমুনা পাঠানো হবে পৃথিবীতে!

আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২০, ১১:০৩ পিএম

মাধ্যাকর্ষণ শক্তি নেই বললেই চলে, তবু সেই মহাশূন্যেই এবার মূলাচাষ করে ফেললো মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা।  “ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশন” (আইএসএস) নামের যে কৃত্রিম উপগ্রহ দীর্ঘ সময় ধরে পৃথিবীকে প্রদক্ষিণ করে চলেছে, তাতেই এই চমকপ্রদ পরীক্ষায় সফল হয়েছে তারা।   

পৃথিবী থেকে চাঁদ ও মঙ্গলে জনবসতি সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার লক্ষ্য বাস্তবায়ন করতে দিনরাত পরিশ্রম করছেন বিজ্ঞানীরা। তাই পরিবার-পরিজন ছেড়ে মাসের পর মাস মহাশূন্যেই কেটে যায় নভোচারীদের। সেখানে তারা যেন প্রয়োজনীয় ভিটামিন ও খনিজ পান সেজন্য মহাশূন্যে চাষবাসের চেষ্টা চলছিল বহু দিন ধরেই।

এতদিনে মূলাচাষের মাধ্যমে তাতে সাফল্য এলো। আইএসএস-এর কলম্বাস ল্যাবরেটরি মডিউলের প্লান্ট হ্যাবিটাট-২-তে বীজ থেকে গাছ গজিয়ে ওঠার ছবি প্রকাশ করেছে নাসা। তাতে চৌকো একটি চৌকো আকারের একটি বাক্সে নানা ধরনের তারের মাঝখানে ২০টি সবুজ পাতা সম্বলিত চারাগাছ দেখা গিয়েছে।

আর কিছুদিন পরেই মাটি খুঁড়ে মূলা তোলা হবে। এরপর পরীক্ষার জন্য তার নমুনা পাঠানো হবে পৃথিবীতে!

এত রকমের ফসল থাকতে বেছে বেছে মূলাচাষই কেন করা হল, তার সপক্ষেও যুক্তি দিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। তারা জানিয়েছেন, মূলাচাষ করতে খুব বেশি সময় লাগে না। মূলা কাঁচাই চিবিয়ে খাওয়া যায়। আবার এর পুষ্টিগুণও বেশি। তাই মহাশূন্যে মূলাচাষের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। 

তবে মহাকাশে মূলাচাষ মোটেই সহজসাধ্য কাজ ছিল না বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা। মাধ্যাকর্ষণ শক্তি না থাকায় শিকড় মাটিতে প্রবেশ করার উপায় ছিল না। তাই প্রথমে মাটির “বালিশ” তৈরি করে তাতে বীজ পুঁতে দেওয়া হয়। তা থেকে চারা বেড়ে ওঠে। এই পদ্ধতিতে সমস্ত গাছ সমান পানি ও সারও পায়।

গবেষণায় দেখা গিয়েছে, নীল ও লাল আলোতেই গাছ সবচেয়ে ভাল সাড়া দেয়। সেইমত ওই বাক্সের মধ্যে এলইডি আলোর ব্যবস্থা রয়েছে। ১৮০-র বেশি সেন্সর বসানো রয়েছে।

ফ্লোরিডায় নাসা’র কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে গাছগুলোর বৃদ্ধিতে নজর রাখছেন বিজ্ঞানীরা। প্রয়োজন বুঝে পানি, সার ও তাপমাত্রার রদবদলও তাদের নজরদারিতেই হয়।

About

Popular Links